শপথের নাট্যোৎসব
বালুরঘাট নাট্যমন্দির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পাঁচ দিনের নাট্যোৎসব। আয়োজক বালুরঘাট গণনাট্য সঙ্ঘের ‘শপথ’ শাখা। প্রথম দিন মঞ্চস্থ হয় শিশু-কিশোরদের দু’টি নাটক। চার অধ্যায় (রচনা ও নির্দেশনা প্রণব সরকার) ও ‘বাঁচো এবং বাঁচতে দাও’ (রচনা ও নির্দেশনা: তুহিনশুভ্র মণ্ডল)। সাফানগর হাইস্কুল প্রযোজিত চার অধ্যায় নাটকটির বিষয় এক লোকশিল্পীর জীবনের উত্তরণের গল্প। আয়োজক সংস্থার শিশু-কিশোর নাট্য প্রশিক্ষণ শিবিরের শিক্ষার্থীদের অভিনীত ‘বাঁচো এবং বাঁচতে দাও’ নাটকটিতে সামাজিক কুসংস্কার রোধে সমাজগত ভাবে যে ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন সেই বার্তাই ছড়িয়ে আছে। দ্বিতীয় দিন মঞ্চস্থ হয় শিলিগুড়ির উত্তরধ্বনি শাখার নাটক ‘কাছে কোথাও মেঘ করেছে’ (রচনা ও নির্দেশনা: অমিতাভ কাঞ্জিলাল)। বালুরঘাট নাট্যমন্দিরের নাটক ‘ক্যাপ্টেন হুররা’ মঞ্চস্থ হয় উৎসবের তৃতীয় দিন। নাটক মোহিত চট্টোপাধ্যায়। পরিচালনা দীপক রক্ষিত। একমাত্র সম্মিলিত শক্তিই পারে বাঁচার রাস্তা দেখাতে। নাটকের কাহিনিতে এ কথাই বলা হয়েছে। চতুর্থ দিন মঞ্চে সম্মেলক আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন আনন্দধারা ও আরোহীর সদস্য-সদস্যারা। মহুয়া মুখোপাধ্যায়ের গৌড়ীয় নৃত্য-নির্মাণে ‘বুদ্ধ চরিত’ দর্শকদের মন কাড়ে। নৃত্য রচনায় ধরা পড়ে সম্প্রীতি, সহিষ্ণুতা এবং অহিংসার বার্তা। উৎসবের শেষ দিন অভিনীত হয় কালিয়াগঞ্জের বিচিত্রা নাট্যসংস্থার ‘দেবতার বলি’ । রচনা সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী ও শুভাশিস, হালদার। নির্দেশনা চন্দন চক্রবর্তী, অশোক দাস ও অরিন্দম ঘোষ। আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয় অভিনেতা প্রশান্ত মৈত্র ও অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়কে। উৎসবের উদ্বোধক ছিলেন কবি দীপঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
লেখা ও ছবি : অনিতা দত্ত।
পঞ্চানন বর্মার জন্ম সার্ধশতবর্ষ
মনীষী পঞ্চানন বর্মার জন্মসার্ধশতবর্ষ উৎযাপন সমারোহ গত ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর পালিত হল ধূপগুড়ির ডাকবাংলো মাঠে । জলপাইগুড়ির সাংসদ বিজয় বর্মন এই সমারোহের উদ্বোধন করেন । উপস্থিত ছিল জলপাইগুড়ির সভাধিপতি নুরজাহান বেগম , ধূপগুড়ির পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীপিকা ওরাঁও , ধূপগুড়ির বিধায়ক মমতা রায় , পুরপ্রধান শৈলেন চন্দ্র রায় ও রাষ্ট্রীয় পঞ্চানন স্মারক সমিতির সভাপতি গিরীন্দ্র নাথ বর্মন সহ বিশিষ্টব্যক্তিরা । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পঞ্চানন বর্মার স্মারক পত্রিকা প্রকাশ করা হয় ।
২৫ তারিখ সকালে পুরুষ ও মহিলাদের ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা দিয়ে সমারোহ শুরু হয় । তারপর সারাদিনে অনুষ্ঠিত হয় পতাকা উত্তোলন ও পঞ্চানন বর্মার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান , বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা , উদ্বোধনী সঙ্গীত , গুনিজন সংবর্ধনা , স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ , অতিথিবরন , অতিথিবৃন্দের আলোচনা সভা ।
সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । স্থানীয় ও বাইরের শিল্পীদের সঙ্গে এদিন সঙ্গীত পরিবেশন করেন হৈমন্তী রায় পাটোয়ারী ও পারভিন সুলতানা ।
২৬ ডিসেম্বর বসে আঁকো প্রতিযোগিতার পর , শুরু হয় উত্তরের লোকসংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা সভা । বিকালে মণীষী পঞ্চানন বর্মার বর্ণময় কর্মজীবন সর্ম্পকে শুরু আর একটি আলোচনা সভা । আলোচনায় অংশ নেন বিধায়ক সুখবিলাস বর্মা , উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীপক কুমার রায় , ধূপগুড়ির সুকান্ত মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নীলাংশু শেখর দাস প্রমুখ । সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে ছিল রাভা লোকনৃত্যানুষ্ঠান , সারিন্দার সুরলহরী , বিভিন্ন লোকনৃত্য ও লোকসঙ্গীত । এদিন আমন্ত্রিত শিল্পীরা ছিলেন নগেন্দ্র নাথ শিলশর্মা ও আসামের রহিমা বেগম কলিতা ।
সব শেষে অনুষ্ঠিত হয় কৃষ্ণেন্দু রায় রচিত রাজবংশী ভাষায় নাটক ‘ ডাংধরী মাও ’।
কবিতার দহনে নারী
সম্প্রতি মালদহের দুর্গাকিংকর সদনে মঞ্চস্থ হল নাটক ‘দহন’। অঙ্কুরোদ্গম কালচারাল সোসাইটি পরিবেশিত নাটকটি আদ্যন্ত গড়ে উঠেছে কবিতার ওপর ভিত্তি করে। রবীন্দ্রনাথের ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’, কাশীনাথ ভট্টাচার্যের ‘আমার আকাশ’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘না পাঠানো চিঠি’ এবং সুবোধ সরকারের ‘আমি ফিরোজা একটি ভারতীয় মেয়ে’। নাট্য রচনার ক্ষেত্রে নির্বাচন করা হয়েছে এই কবিতাগুলি। কবিতার লাইনই বাঁধা পড়েছে সংলাপে। নারী নির্যাতন, নারী পাচার থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথাই আবর্তিত হয়েছে নাটকে। ভাবনা শ্যামল সরকার, নির্দেশনা সৃজন সরকার, নাটকে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন তন্ময় বিশ্বাস, আলোপান্না হালদার। অভিনয়ে তন্নিষ্ঠা রায়, সুকন্যা দাস, নারায়ণী হালদার বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রুতি কুমার।
রানারের একাঙ্ক প্রতিযোগিতা
গত ২৫ ডিসেম্বর ফালাকাটা রানার নাট্য সংস্থার ৪১ তম সারা বাংলা একাংক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন । উপস্থিত ছিলেন ফালাকাটার বিধায়ক অনিল অধিকারী ও বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্বরা । সকালে পতাকা উত্তোলন , প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালামামের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও নাটকের জন্য হাঁটুন বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা হয়। সন্ধ্যায় উদ্বোধনী সঙ্গীতের পর শুরু হয় নাটক প্রতিযোগিতা। নাটক প্রতিযোগিতায় যোগ দেয় ১১টি নাট্য দল। মাথাভাঙার গিলোটিন, ফালাকাটার স্থন্ডিল, শিলিগুড়ির সৃজন সেনা, রায়গঞ্জের জাগরী, ইসলামপুরের কালপুরুষ, জলপাইগুড়ির কলাকুশলী, কলকাতার বালারকো, পূর্ব মেদিনীপুরের লক্ষপদাতিক, কোচবিহারের থিয়েটার কোলাজ, বর্ধমানের স্বপ্নঅঙ্গন, কোচবিহারের ব্রাত্যসেনা। ২৯ ডিসেম্বর পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রয়াত অমল দত্ত স্মৃতি প্রথম শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা পুরস্কার পায় কলাকুশলী নাট্য দলের নাটক শুক। প্রয়াত মধুসূদন সাহা স্মৃতি দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা লাভ করে স্বপ্নঅঙ্গনের নাটক উত্তরপূর্ব । প্রয়াত রতনলাল ভাদানি স্মৃতি তৃতীয় শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা দেওয়া হয় জাগরী থিয়েটারে নাটক আসন্ন রুদালি । শ্রেষ্ঠ পরিচালকের শিরোপা ওঠে কলাকুশলীর পরিচালক তমোজিৎ রায়ের হাতে। পুরস্কার শেষে প্রযোজিত হয় প্রতিযোগিতার আয়োজক রানার নাট্য সংস্থার নাটক অন্তহীন যাত্রা । নির্দেশনায় অলোক গুহ ।
জলপিপির কবিতাগুচ্ছ
‘নবীন’ কবিদের কলমে ঝলসে ওঠা একগুচ্ছ কবিতা সংকলিত হয়েছে শিলিগুড়ির পত্রিকা ‘জলপিপি’তে। তাঁদের কবিতায় তৈরি হয়েছে ‘ইচ্ছের কুলুঙ্গি, স্কুল ড্রেসের হাইওয়ে, চণ্ডালিকার মেঘ, অস্তিত্বের এ টি এম, বুদবুদ শব্দ, নৈঃশব্দের সংরাগ’—এমন অজস্র ‘শব্দ শিল্প’। সঙ্গে সুরশ্রী দেববর্মনের নজরকাড়া প্রচ্ছদ। ‘শুধু কবিতায় কিছুক্ষণ’ সময় কাটাতে চাইলে পড়া যেতেই পারে বিবেক কবিরাজের সম্পাদিত ‘জলপিপি’র এই সংখ্যা।
লেখা ও ছবি: সুদীপ দত্ত।
কান্তকবির জন্মবর্ষে
মালদহ শিল্পী সংসদের উদ্যোগে সম্প্রতি টাউনহলে আয়োজিত হল কান্তকবি রজনীকান্ত সেনের ১৫০তম জন্মবর্ষ উদযাপন। ‘তুমি নির্মল করো’ এবং ‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড়’ সূচনা সঙ্গীত পরিবেশিত হয় সম্মেলক কণ্ঠে। রজনীকান্তের লোকআঙ্গিকের কীর্তন এবং অন্য গান গেয়ে শোনান শেখর সাটিয়ার, মধুমিতা কর্মকার, সোনালী দত্ত, মৃত্যুঞ্জয় সিংহ-সহ শিল্পী সংসদের অন্য সদস্যরা। দীপঙ্কর ভৌমিক এবং বর্ণালী সাহা পরিবেশিত কান্তকবির কবিতা দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।
গীতিকুঞ্জ-ভ্রমরের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা
গীতিকুঞ্জ ও ভ্রমর নাট্যসংস্থার যৌথ উদ্যোগে জলপাইগুড়ির সুভাষ ভবনে পালিত হল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। গীতিকুঞ্জের শিক্ষার্থীদের সম্মেলক সঙ্গীত ‘আলো আমার আলো’য় সূচনা হয় সান্ধ্য অনুষ্ঠানের। সম্মেলক কণ্ঠে শোনা গেল ‘অথ স্বাগতম শুভ স্বাগতম’ সঙ্গীতটি। সহযোগী ছিল পাপড়ি দেবের অনবদ্য পাখোয়াজ বাদন। সংবর্ধনা জানানো হয় নাট্যকার সাধন চক্রবর্তী ও তীর্থঙ্কর রায়কে। নজরুলগীতির সঙ্গে ‘ত্রিনিচি’র নৃত্যানুষ্ঠান ছিল উপভোগ্য। গীতিকুঞ্জের শিশু শিক্ষার্থীদের নিবেদনে ছিল ভৈরব রাগ। ভ্রমর নাট্যসংস্থার উদ্যোগে মঞ্চায়িত হয় নাটক ‘ছোটদের নীতিকথার গল্প’ এবং হিন্দি নাটক ‘কহানি রূপবতী কি’। নাটক দুটির রচনা, নির্দেশনা এবং সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন পাপড়ি দেব। এই সান্ধ্য আয়োজনের উদ্বোধক ছিলেন চিত্রশিল্পী বিভাস রায়।
রবিনন্দনের কর্মশালা
বালুরঘাটের রবিনন্দন-এর উদ্যোগে হয়ে গেল রবীন্দ্রসঙ্গীতের কর্মশালা। প্রশিক্ষক ছিলেন পুবালী দেবনাথ। দু’দিনের এই কর্মশালায় প্রায় ৩৫ জন ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়। মন্মথ মঞ্চে রবিনন্দনের সদস্যরা পরিবেশন করেন সংলাপ ও সঙ্গীত সহযোগে আলেখ্য ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর নতুন বৌঠান’। পুবালী দেবনাথ রচিত ও নির্দেশিত আলেখ্যটিতে উঠে এসেছে কবি রবীন্দ্রনাথের জীবনে কাদম্বরীর প্রভাব। সঙ্গীতে ঊর্মি সাহা, শান্তনু দে, শ্যামা সেন, বিশাল দাস ও প্রাপ্তি চৌধুরী অংশ নেন। সংলাপ পাঠ করেন সুবীর চৌধুরী ও বর্ণালী সিংহ রায়। তবলায় সঙ্গত উদয় সিংহ রায়ের।
হিমাল তরাই ডুয়ার্স স্পোর্টস ফেস্টিভ্যালের সমাপ্তি অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার মাল্লাগুড়িতে বিশ্বরূপ বসাকের তোলা ছবি।