ওড়িশার নাট্যচেতনা জলপাইগুড়িতে
১৯৮৬ সাল,ওড়িশার উত্কল সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের একদল ছাত্র ‘এনএসএস’এর ক্যাম্প করতে গিয়েছিল ভুবনেশ্বরের রঘুনাথনগর বস্তিতে। তখন ‘বনা মনিষা’ নামের একটি দশ মিনিটের নাটক করে সেখানে। সেই সন্ধ্যায় সেই বস্তিবাসী দর্শকের উপর এই ছোট্ট নাটকের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ায় জন্ম হয়েছিল একটি নতুন নাট্যদলের। ‘নাট্যচেতনা’র প্রতিষ্ঠাতা নির্দেশক সুবোধ পট্টনায়ক এভাবেই শোনালেন সংস্থার জন্মকথা। এ পর্যন্ত ‘নাট্যচেতনার’ প্রায় ২৫টি বড় ও ৪৫টি ছোট নাটকে সুবোধ প্রয়োগ করেছেন এক ভিন্নতর নাট্যশৈলী। যার নামকরন করেছেন ‘সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ আধুনিক ভারতীয় নাট্যধারা’। এই নাট্যধারা উদ্ভাবনের প্রাক-প্রেরনা হিসেবে কাজ করেছে-ফিলিপিন্স এডুকেশনাল থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের কর্মশালায় ‘নন্-আর্টিস্ট,পার্টিসিপেটারি মেথড’এর অভিজ্ঞতা। বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন তৃতীয় ও মুক্ত থিয়েটারের জনক বাদল সরকারের ‘পোর্টেবল্ থিয়েটারে’। সুবোধের নাট্যধারায়- অনেকটা ‘নাট্যশাস্ত্র’এর অনুকরণে মঞ্চ ব্যবহার করা হয়। দড়ি, বাঁশ, বাঁশের লাঠির সাহায্যে বিমূর্ত-নির্মাণে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। সাধারণ এবং স্থির আলোয় নাটক চলে। ব্যবহার করা হয় আদিবাসী অথবা লোক-সঙ্গীত ও বাদ্য। বাস্তবে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা বা সাধারণের জীবন-যাপনের নানা সঙ্ঘাত, অথবা ওড়িয়া সাহিত্যের কোনো গল্প নিয়ে ওড়িয়া ভাষায় লেখা হয় নাটক। নাট্যানুষঙ্গের জন্য কোনো বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া হয় না। নাট্য-নির্মান তাদের এক দলগত প্রয়াস। নাট্যচেতনার নাটকগুলো হয় দুটো মডেলে। আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনোর উদ্দেশ্যে প্রতি বছর এক একটি নাটক নিয়ে সাইকেলে চেপে নাট্য অভিযানে বেড়িয়ে তারা পৌঁছে যান গ্রাম থেকে গ্রামে। ৩৫ থেকে ৪৫ মিনিটের এই নাটকগুলি হয় দিনের আলোতে। এ পর্যন্ত তাদের দীর্ঘতম সাইকেল অভিযান- ২০ দিনের যাত্রা, ৭০টি জায়গা, ৭০০ কিলোমিটার পথ. এই মডেলটিকে তারা বলে ‘সাইকো থিয়েটার’। আর অন্য মডেলটি হল শহরের দর্শকের কাছে পৌঁছানোর জন্য স্বাভাবিক প্রেক্ষাগৃহে দেড় থেকে দু’ঘন্টার ‘অন্তরঙ্গ থিয়েটার’। জলপাইগুড়ির চিত্তপট নাট্যসংস্থা ১৯৯৯ সাল থেকেই নিজেদের থিয়েটারের পাশাপাশি নানা দলের নানা শৈলীর থিয়েটারের সঙ্গে এ শহরের দর্শকদের পরিচিত করাতে প্রয়াসী হয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই সুবোধ পট্টনায়ক ও নাট্যচেতনা অনবদ্য কিছু সৃষ্টির সঙ্গে এ শহরের সংযোগের একটা সেতু তৈরি করছে চিত্তপট। সংস্থার ব্যবস্থাপনায় গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নাট্যচেতনা এসেছিল ‘চ্রিং চ্রিং’ নাটকটি নিয়ে। জুনে তিন দিনের একটি কর্মশালায় আসেন সুবোধ। শহরের বিভিন্ন সংস্থার অনেকে অংশগ্রহণ করেন এই কর্মশালায়। এ বছর ১লা সেপ্টেম্বর আবার তারা ঘুরে গেলেন ‘ফুলা’ নাটক নিয়ে। নাটক এবং নাটক সংক্রান্ত নানা কাজে আমন্ত্রিত হয়ে সুবোধকে ঘনঘন পাড়ি দিতে হয় ইউরোপ, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার নানা দেশে। সুবোধ অবশ্য বলেন, “২০ ফুট বাই ২৫ ফুটের একটা অঙ্গন পেলে, তা সে যেখানেই হোক নাট্যচেতনা থিয়েটার করতে প্রস্তুত। সেই ভরসাতেই কাজ অর্ধসমাপ্ত থাকা সত্ত্বেও রবীন্দ্র ভবনে মঞ্চস্থ হল ‘ফুলা’।
মুখোমুখি তনভির
লেখা: গৌতম গুহ রায়।
অনেকেই তাঁকে উপমহাদেশের অন্যতম চলচিত্র মস্তিস্ক বলে মনে করেন। সিনেমা শুধু নয়, কবিতা এবং প্রবন্ধের জগতেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। উত্তরবঙ্গে ঘুরে গেলেন তিনি। মুখোমুখি হলেন দেশভাগের সময় ভিটে ছেড়ে আসা কয়েকজন প্রবীণদেরও। খোলামেলা আলোচনায় বসলেন উত্তরবঙ্গের পাঠক ও দর্শকদেরও। বললেন, দেশভাগের কষ্টের কথা, আর সেই কষ্ট তাকে কী ভাবে শান্তিতে থাকতে না দিয়ে ক্রমাগত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। গত ৯ অক্টোবর শিলিগুড়িতে পৌঁছন তানভির মোকাম্মেল। দেশভাগের সময়ে ‘উদ্বাস্তুদের’ নিয়ে তথ্যচিত্রের কাজে তিনি উত্তরবঙ্গে এসেছিলেন। সে দিন-ই জলপাইগুড়ির রাজবাড়ি দিঘির ধারে জড়ো হয়ে থাকা সেই সময়ের ভিটে ছেড়ে আসা বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি, যন্ত্রণা ক্যামেরাবন্দি করেন তিনি। সন্ধ্যায় ‘দ্যোতনা’র আয়োজন করা সাহিত্য আড্ডায় সংস্কৃতিমনস্কদের মুখোমুখি হন। অনুষ্ঠানের সব আয়োজক ছিল জলপাইগুড়ি সিনে সোসাইটি। আড্ডার নাম রাখা হয়েছিল ‘মুখোমুখি তানভির’। দ্যোতনার সম্পাদক গৌতম গুহরায়ের বক্তৃতার পরে তানভিরের কাজকর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচয় করিয়ে দেন প্রাবন্ধিক তথা ‘কালি ও কলম’ পত্রিকার সহ সম্পাদক সুশীল সাহা। আড্ডায় তানভির বলেন, “বাংলার মানুষ ক্রমশ শিকড় থেকে বিচ্যুত হচ্ছেন। নগরের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছেন। যে চলে যায় সে যেমন হারায়, যে থেকে যায় সে-ও হারায়। আমরা শুধু চলে যাওয়া মানুষটার কথা ভাবি, তার নস্টালজিয়া, কষ্টের কথা ভাবি। কিন্তু পড়ে থাকা মানুষটার কথা বা তার কষ্টের কথা ভাবি না। আমিও সেরকম পড়ে থাকা একজন মানুষ। আর কষ্টটাই আমাকে তাড়িয়ে ফেরে।” এই চলে যাওয়া মানুষদের কথা নিয়েই তৈরি হচ্ছে ‘চিত্রা নদীর পাড়ে।’ তিনি জানান, ১৯৪৭ এর দেশভাগ থেকে শুরু, তার পরে পূর্ব পাকিস্তান, বাঙালি হিন্দুদের ‘দেশত্যাগে’ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক সব রকম ক্ষতি তো হয়েছে। তবে সর্বাধিক ক্ষতি হয়েছে শিক্ষা-সংস্কৃতিতে। নানা প্রশ্নের উত্তরে তিনি ১৯৭১ সাল নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরির কাহিনি শুনিয়েছেন। তবে কী কারণে নন্দনে তাঁর ‘জীবন ঢুলি’র প্রদর্শন বন্ধ থাকে, তা নিয়ে তিনি নীরব-ই থাকেন। আরাত্রিকা গুহ রায়ের আবৃত্তি করেন অনুষ্ঠানে।
নাটকে আন্দোলন চিত্র
মুক্তিযুদ্ধ থেকে সহবাগ পরবর্তী আজকের বাংলাদেশে নতুন করে স্বাধীনতার লড়াই শুরু হয়েছে। নাটকের আঙ্গিকে ওই আন্দোলন তুলে ধরল বাংলাদেশের একঝাঁক নাট্যকর্মী। দেশভাগ তার পরে দু’দেশের মাঝে কাঁটাতারের বেড়া যে দুই বাংলার সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, মনন ও সাংস্কৃতিক চর্চায় কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি তা আরও একবার দেখালেন ঢাকার শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে সম্প্রতি তারা মঞ্চস্থ করলেন দুটি নাটক ইনফর্মার এবং ঠিকানা বালুরঘাটের এক নাট্য সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশের ওই দুটি নাটকে অভিনয়, প্রযুক্তির ব্যবহার মন্ত্রমুগ্ধ করেছে বালুরঘাটের নাট্যমোদী মানুষকে। ১৯৭১য়ের উত্তাল সময়ে বাংলাদেশকে যেভাবে পাকিস্তান করায়ত্ত্ব করে রাখতে চেয়েছিল তার বিরুদ্ধে সূর্যোদয় আনতে যেভাবে সে দেশের লড়াই সংগ্রামে ভারতবর্ষ সাহায্য করেছিল, সেই সময়কার প্রেক্ষাপটকে সমকালীন করে পরিবেশন করা হয়েছে ইনফরমার নাটকে। ঠিকানা নাটকের বিষয়বস্তু শহবাগ পরবর্তী বাংলাদেশ। সে দেশের নবীন প্রজন্ম তথা বাংলাদেশের অধিবাসীদের মতে বাংলাদেশ, এখন নতুন করে স্বাধীনতার লড়াই চলছে। তাকেই নাটকের মাধ্যমে পরিবেশন মানুষকে জাগরিত করার চেষ্টা। সাম্প্রতিক কালে বালুরঘাটে ঢাকা পদাতিক নাট্য সংস্থা পরিবেশন করে গিয়েছে নাটক। উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ম্যাকবেথ। তাতে দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশের নাটকে প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে। আলো এবং মঞ্চ নিয়ে যেভাবে এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে নাটকের শহর বালুরঘাটে তা অনুপস্থিত। বালুরঘাটে বাংলাদেশের নাটক মঞ্চায়নের এই উদ্যোগগুলি মূলত ভারত-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পথকে অনেকটা সমৃদ্ধ করবে। আয়োজক নাট্যসংস্থার এক কর্তা জানালেন, এর পর বাংলাদেশেও বালুরঘাটের নাটক যাবে ওদের উত্সবে। ঢাকা শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের নির্দেশক খোরশেদ উল আলম বলেন, বালুরঘাট নাটকের শহর। এখানকার নাট্যমোদীদের উন্মাদনা, শিক্ষিত দর্শক তাঁদের অনুপ্রেরণা দিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রথম সারির নাটকের দল নিয়ে ভারত বাংলাদেশ যৌথ নাট্য উত্সব করার লক্ষ্যে এগোচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
হিজল
আলিপুরদুয়ারের শামুকতলা থেকে প্রকাশিত হল সাহিত্য সাংস্কৃতিক বিষয়ক পত্রিকা ‘হিজল’এর উত্সব সংখ্যা। সৌরভ রায়ের সম্পাদনায় হিজলের উত্সব সংখ্যায় পাঁচটি প্রবন্ধ,একটি গল্প, পুস্তক আলোচনা ও একগুচ্ছ তরতাজা কবিতা স্থান পেয়েছে। ‘বই এবং পাঠক’ প্রবন্ধে অধ্যাপক অর্ণব সেন লিখেছেন, বৈদ্যুতিন মাধ্যমের দানবিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুস্থ সাধারণ পাঠকের প্রতিবাদ চিরকালই থাকবে। রাজনৈতিক বিপ্লবের চেয়েও জরুরি সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যা মানবিক গুণ সম্পন্ন সাহিত্যের পাঠক গড়ে তুলবে। তবে সাহিত্য সমাজ নিরপেক্ষ নয়, তাই পরিবর্তন একটা আসছে। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘কুয়োতলা’ আখ্যান নিয়ে সুন্দর আলোচনা করেছেন অধ্যাপক সুদীপ্ত মাজি। এ ছাড়া প্রমোদ নাথের পৌষ-পার্বণ উত্সব, সৌরভ রায়ের বনফুলের ‘ডানা’-র উত্তরণ প্রবন্ধ গুলি সুখপাঠ্য। প্রশান্ত দেবনাথ, বেণু সরকার সহ বেশ কিছু কবির কবিতা মন ছুঁয়ে যায়। রবার্তো বোলানোর তিনটি কবিতা অনুবাদ করেছেন শৌভিক দে সরকার। এ ছাড়া সাহিত্যিক তনুময় সরকারের প্রচ্ছদ, দু’টি কবিতা ও একটি গল্প পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য সম্পাদককে ধন্যবাদ জানাতেই হয়।
সম্প্রীতির মিলন মেলা
বিজয় দশমী উপলক্ষে মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হল রামগঞ্জে। ৮ অক্টোবর রামগঞ্জের স্কুল মাঠে। রামগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ ও রামগঞ্জ শারদীয় মিলন মেলা কমিটির উদ্যোগে ওই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ওই মেলায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর থানার আইসি মকসুদুর রহমান, রামগঞ্জের ফাঁড়ির আধিকারিক রেজাউল করিম সহ এলাকার অনেক বিশিষ্ট মানুষেরা। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, রামগঞ্জের ওই মিলন মেলা এবার পঞ্চম বর্ষ পড়েছে। সেই মেলায় এ বছর রামগঞ্জের ৮টি পুজো কমিটি পুরস্কৃত করা হয়। সেই মেলাতে এলাকাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা সহ বহু অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এমনকী, সেই দিনই এলাকায় একটি শারদীয় পত্রিকারও উদ্বোধন করা হয়। ওই মিলন মেলা কমিটির সম্পাদক সুনীল বসাক জানান, প্রতি বছর ওই দিনটির জন্য এলাকার মানুষেরা অপেক্ষা করে থাকে। হিন্দু মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মিলন মেলা বসে।
শব্দ ঊশিরা
লেখা: সুদীপ দত্ত।
জলপাইগুড়ির পার্বণী সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংস্থা তাদের শারদ সংকলন “শব্দ ঊশিরা” (সম্পাদনা: ছন্দবীথি কুণ্ডা) প্রকাশ করল। সংকলনে স্থান পেয়েছে একগুচ্ছ কবিতা গল্প এবং প্রবন্ধ। স্থানীয় সুভাষভবনে আয়োজিত পত্রিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থার পক্ষ থেকে সমাজসেবী সাধন চক্রবর্তী এবং প্রাক্তন শিক্ষিকা নীলিমা দত্তকে সম্মান প্রদান করা হয়। প্রকাশিত হল নিরঞ্জন হালদারের উপন্যাস “শতবর্ষের শেষে।” উপন্যাসের পটভূমি প্রাচীন বঙ্গদেশের মাত্সন্যায় যুগ। এই যুগের অবসান ঘটাতে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা বঙ্গদেশের রাজা নির্বাচন করেন। বঙ্গদেশের প্রথম নির্বাচিত রাজা, তাঁর পুত্র ধর্মপাল এবং পৌত্র দেবপালের শাসনে বঙ্গদেশ ক্রমে শিল্প শিক্ষা বাণিজ্যে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ইতিহাস আর কল্পনার বুননে এই সময়কালের রচয়িতার কথা কাহিনি “শতবর্ষের শেষে।” লেখক পেশায় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হলেও গতিশীল ভাষা এবং কাহিনি বিন্যাসে পাঠককে উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
আলোচনাচক্র
লেখা : অনিতা দত্ত।
‘রবীন্দ্রনাটকে প্রতিবাদ’ শীর্ষক একটি আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত হল মালদহের সাউথ মালদা কলেজে। দু’দিনের এই জাতীয় আলোচনাচক্রের উদ্বোধন করেন গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোপাল মিশ্র। আজকের সময়ে রবীন্দ্রনাট্যভাষ্যের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে। ‘চিত্রাঙ্গদা’ কিংবা ‘কালমৃগয়া’তে সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, অরণ্য সংহার রোখার জন্য ও পরিবেশ রক্ষায় নারীর প্রতিবাদী সুর তুলে ধরেন অধ্যাপক ডঃ বিকাশ রায়। রবীন্দ্রনাটকে বহু কৌণিক উচ্চারণ উপস্থাপিত করেন তিনি। প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট অধ্যাপকরা। উপস্থিত ছিলেন নন্দন ভট্টাচার্য, অধ্যাপক আদিত্য কুমার লাল প্রমুখ।
ডাক পেল সঙ্ঘশ্রী
রাজ্য সরকারের তথ্য সংস্কৃতি দফতর ও নাট্য অ্যাকাডেমির উদ্যোগে রাজ্য নাট্য মেলায় এনিয়ে পর পরর তিনবার ডাক পেল আলিপুরদুয়ারের সঙ্ঘশ্রী যুবনাট্য সংস্থা আগামী জানুয়ারী মাসে শুরু হবে। রাজ্য নাট্য মেলা বিভিন্ন জেলায় এই নাট্য মেলা চলবে। আলিপুরদুয়ারের ৩০ বছরের নাটকের দলটি জানুয়ারি মাসে দুর্গাপুরে নাট্য মেলায় নাটক মঞ্চস্থ করবে। সংস্থার তরফে পরিতোষ সাহা বলেন, “এদিন নিয়ে পর পর তিন বার আমাদের সংগঠন রাজ্য নাট্য মেলায় ডাক পেয়েছে। এ বছর শিব শর্মার ‘সাধু বাবা’ নামে একটি নাটক আমরা মঞ্চস্থ করব।”
‘বন্ধন যাক টুটে’
খাগরাবাড়ি ছন্দম সাংস্কৃতিক সংস্থার বার্ষিক অনুষ্ঠান হল কোচবিহারে। অনুষ্ঠানে, কত্থক, ভারত নাট্যম, ওডিশি নৃত্যশিল্পীরা অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ করেন। ছিল নৃত্যনাট্য, গীতি আলেখ্য ‘বন্ধন যাক টুটে।’ মৌটুসী বসু ঠাকুর জানান, শতাধিক শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। গিরিধারী নায়েককে সংবর্ধনা জানানো হয়।
দশমী পালন
জলপাইগুড়ির আর্য নাট্যসমাজের সদস্যদের বিজয়া দশমী অনুষ্ঠান সাজানো হয় সঙ্গীত, আবৃত্তি, গীতিনাট্য দিয়ে। ছিলেন দেবাশিস ঘোষ, কিংশুক বসু, আনন্দগোপাল ঘোষ, শম্ভু চট্টোপাধ্যায়।
‘বিবৃতি’র অনুষ্ঠান
জমজমাট সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দিল ‘বিবৃতি’ গোষ্ঠী। সম্প্রতি মাথাভাঙার ‘কিছুক্ষণ’ হলঘরে ওই অনুষ্ঠান হয়। দশম বর্ষ পূর্তি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়।