Advertisement
E-Paper

সংসার সামলে পুজোয় বড়কইলের মেয়েরা

আগমনী গান গেয়ে পুজো শুরু করে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের বড়কইল মহিলা পুজো কমিটি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সেই শুরু। এরপর সপ্তমী থেকে নবমী—তিনদিন পুজো মণ্ডপ চত্বরে জমে ওঠে নাচ গান আর নাটক।

অনুপরতন মোহান্ত

শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৫ ০৪:১৬

আগমনী গান গেয়ে পুজো শুরু করে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের বড়কইল মহিলা পুজো কমিটি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সেই শুরু। এরপর সপ্তমী থেকে নবমী—তিনদিন পুজো মণ্ডপ চত্বরে জমে ওঠে নাচ গান আর নাটক। সম্পূর্ণ মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত বালুরঘাট ব্লকের ঠাকুরপুরা অঞ্চলের বড়কইল গ্রামের ওই বারোয়ারি পুজোর এবার ৯ এ পা দিল। প্রতিবারের মতো এবারও গ্রামের ১৫ জন মহিলা মিলে পুজো কমিটি গড়ে পুজোর প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়েছেন। পাশে দাঁড়িয়েছেন এলাকার আরও অন্তত ৫৬ জন মহিলা। পুজোর নিমন্ত্রণপত্র ছাপিয়ে বিলি করা থেকে চাঁদা তোলা, প্রতিমা ও প্যান্ডেলের বায়না দেওয়া, সদর বালুরঘাটে গিয়ে প্রশাসন, বিদ্যুৎ, দমকল বিভাগে ঘুরে অনুমতির যাবতীয় ব্যবস্থা নিজেরাই দায়িত্ব নিয়ে শেষ করছেন মহিলারা।

পুজোকমিটির অন্যতম কর্মকর্তা প্রবীণা মঞ্জুশ্রী সাহা বলেন, ‘‘পুজো আয়োজনের পাশাপাশি পুজোর ক’টা দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য আলাদা কমিটি হয়েছে। মুনমুন দেব, প্রতিমা দেব, অনিতা মজুমদাররা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য এলাকার কিশোরী ও তরুণীদের নিয়ে মহড়ায় মেতে উঠেছেন। তাছাড়া পুজো কমিটিতে সভাপতি থেকে সম্পাদক, সহ সম্পাদক প্রতিটি পদে দুজন তিনজন করে মহিলারা রয়েছেন, যাদের নেতৃত্বে চলছে পুজোর তোড়জোড়। গোটা বড়কইল গ্রামেই এখন সাজ সাজ রব।

এবারে এখানে পুজোর থিম নেপালের ভূমিকম্প। মন্ডপ সজ্জা থেকে ভেতরের দৃশ্য নেপালের ভূমিকম্পের আদলে তৈরি হচ্ছে। অভিনবত্বের আঁচ পেতে কচিকাঁচারাও কৌতুহল নিয়ে সকাল থেকে মন্ডপে ভিড় করছে। পুজো কমিটির যুগ্ম সভাপতি জ্যোৎস্না চৌধুরী এবং লক্ষ্মী মহন্ত বলেন, ‘‘নবমীতে গোটা বড়কইল গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিলি করা হয়। ষষ্ঠীতে পুজো উদ্বোধনের দিন দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের মধ্যে বই খাতা ও পোশাক বিলির ইচ্ছা রয়েছে।’’ যুগ্ম সম্পাদিকা শম্পা দেব ও অনিতা মজুমদার বলেন, ‘‘৯ বছর আগে এলাকার পুরুষরা আগ্রহ হারানোয় গ্রামের এই একমাত্র বারোয়ারী দুর্গা পুজোটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। সেসময় এলাকার মহিলারা একজোট হয়ে পুজোর দায়িত্ব নিয়েছিলাম। এতবড় পুজোর আয়োজন মহিলারা কী করে করবেন, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল অনেকের।’’ প্রথমদিকে গ্রামবাসীদের একাংশ বিষয়টি নিয়ে মহিলাদের কটাক্ষও করেন বলে অভিযোগ।

Advertisement

গত বছর পুলিশ প্রশাসন থেকে জেলার সেরা মহিলা পুজোর সম্মান পেয়েছিল বড়কইল। এবারে সংসার সামলে দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে ঝাঁপিয়েছেন প্রমিলা বাহিনী। পুরষরাও নাকি এখন সহায়তার হাত বাড়াচ্ছেন। এবার বড়কইল মহিলা পুজো কমিটির নিমন্ত্রণপত্রের শেষে লেখা হয়েছে, বিঃ দ্রঃ “প্যান্ডেলে ডবল জেনারেটরের ব্যবস্থা আছে। মহিলাদের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে।“ মহিলাদের নিরাপত্তাহীনতার কথা মাথায় রেখেই এই আয়োজন, জানিয়েছেন তাঁরা। অতএব এবার পুজো মণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে রাত হলেও কোনও সমস্যা নেই এলাকার মেয়েদের।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy