Advertisement
E-Paper

সব হোম স্টের মধ্যে সমন্বয়ের খোঁজ

শহরের বিলাসবহুল হোটেলের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কনফারেন্স হল। মঙ্গলবারের দুপুর। রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী থেকে দফতরের যুগ্ম অধিকর্তা, হোম স্টের জন্য সরকার কী করছে, কী ছাড় দিচ্ছে তা জানিয়ে এগিয়ে আসার জন্য উৎসাহ দিলেন উদ্যোগীদের। হাততালি পড়ল গোটা হল জুড়ে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০১৬ ০৯:৩৪
শিলিগুড়িতে পর্যটন দফতরের হোম-স্টে নিয়ে কর্মশালার উদ্বোধন করছেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। মঙ্গলবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

শিলিগুড়িতে পর্যটন দফতরের হোম-স্টে নিয়ে কর্মশালার উদ্বোধন করছেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। মঙ্গলবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

শহরের বিলাসবহুল হোটেলের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কনফারেন্স হল। মঙ্গলবারের দুপুর। রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী থেকে দফতরের যুগ্ম অধিকর্তা, হোম স্টের জন্য সরকার কী করছে, কী ছাড় দিচ্ছে তা জানিয়ে এগিয়ে আসার জন্য উৎসাহ দিলেন উদ্যোগীদের।

হাততালি পড়ল গোটা হল জুড়ে। তার পর কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের আঞ্চলিক অধিকর্তা আলাদাভাবে হোম স্টে-র মালিকদের মন্ত্রকের অধীনে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে জানিয়ে দিলেন। দেখানো হল, হোম স্টে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়মাবলী ও নানা তথ্য সম্বলিত ভিডিও। সবশেষে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) সদস্য নিজেদের পাহাড়ি এলাকায় সুষ্ঠুভাবে হোম স্টে চালানোর উপর জোর দিয়ে সরকারি সাহায্যও চাইলেন।

কেন্দ্রীয় পযর্টন মন্ত্রক হোম-স্টে-র ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট স্কিম’ নিয়ে মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে একটি কর্মশালার আয়োজন করেছিল। তাতে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব থেকে কেন্দ্র, রাজ্য এবং জিটিএ-র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ দিন সব শুনে পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন থেকে হোম-স্টের মালিকেরা বললেন, ‘‘কেন্দ্র, রাজ্য, জিটিএ সকলেই নিজের মত করে হোম স্টে নিয়ে ভাবছে। আইন করছেন, নিজেদের মত কাজও করছেন। একসঙ্গে একই ছাতার তলায়, সুসংসহতভাবে করে এগোনোটা দরকার। নজরজারিও বাড়বে। তা হচ্ছে না।’’

মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হন পর্যটন ব্যবসায়ীরাও। অনুষ্ঠানে ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী সভাপতি সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‘সরকারিস্তরে কাজ হচ্ছে। কিন্তু হোম স্টের বিষয় একটি ছাতার তলায় আনাটা জরুরি। সেখানে আইন মেনে হোম স্টের ছাড়পত্র, প্রচার, বিজ্ঞাপন, বিপণনের ব্যবস্থা থাকবে। থাকবে নজরদারির কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাও।’’ তাঁর মতে, এটা না হয়ে আলাদা আলাদা হওয়ায় ছাতার মত গজাচ্ছে হোম স্টে। আর তাতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পর্যটকেরা। একইভাবে অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের আহ্বায়ক রাজ বসু বলেন, ‘‘গত সাত বছর ধরে পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স হোম স্টে শুরু হয়েছে। প্রায় দুই হাজার হোম-স্টের ঘর এই অঞ্চলে রয়েছে। কিন্তু নিয়মাবলী মেনে চলা, কেন্দ্রীয় সরকারি নথিভুক্তকরণ বিষয় এখনও হচ্ছে না। এ দিনের কর্মশালার অনুষ্ঠানে সবাই এক জায়গায় আসল। আগামী দিনে নিশ্চয়ই সবাই মিলে কাজ করবে।’’

সরকারি সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের নিয়ম অনুসারে বাড়ির সঙ্গে ১-৬টি ঘর থাকলে, কেউ হোম স্টে চালু করতে পারেন। কিন্তু ট্রেড লাইসেন্স, স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের ছাড়পত্র ছাড়াও থাকা, খাবার সঠিক ব্যবস্থা থাকাটা জরুরি। তবে সেই বাড়িতে মালিকের থাকাটা বাধ্যতামূলক। দেশ বিদেশের পযর্টকেরা সেই সব হোম স্টে থেকে স্থানীয় সুস্বাদু ব্যঞ্জনের স্বাদ নিতে পারবেন। এখনও অবধি রাজ্যে এমন ছ’টি হোম স্টে নথিভুক্ত করেছে, পর্যটন মন্ত্রকের অধীনে। কিন্তু উত্তরবঙ্গের বহু হোম স্টেতে মালিকেরাই থাকেন না। অথচ তা আ আদতে হোম স্টে হিসেবে চলছে। আবার রাজ্য পর্যটন দফতর আলাদাভাবে পাহাড়, ডুয়ার্স মিলিয়ে ১০০টির উপর হোম স্টের পরিকাঠামো তৈরি করছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী, জমির মালিকদের সঙ্গে লভ্যাংশ ভাগ করে সেগুলি চালানোর ব্যবস্থা হয়েছে।

তেমনই, জিটিএ এলাকা ভিত্তিক উন্নয়ন কমিটি ধরে ধরে হোম স্টে তৈরির রাস্তায় হাঁটছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষেবা, খাবার নিয়ে মাঝেমধ্যেই অভিযোগ ওঠে। এক ছাতার তলায় আসলে এ সব সমস্যা মিটবে বলেই আশা সবার।

পরে গৌতমবাবু বলেন, ‘‘এ বার পুজোর এখনই যা খোঁজখবর চলছে, তাতে কোনও হোটেল, লজ বা গেস্ট হাউসে ঘর খালি থাকবে না বলেই মনে হচ্ছে। সেখানে হোম-স্টেগুলি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাই এখন থেকেও আরও সুসংহতভাবে কাজ করতে হবে। পর্যটন মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করা পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’’

মন্ত্রীর কথায় রাশ ধরেই কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের আঞ্চলিক অধিকর্তা জে পি শাহ বলেন, ‘‘রাজ্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সমন্বয় থাকাটা জরুরি। নানা পরামর্শ কর্মশালা থেকে উঠে এসেছে। উচ্চ পর্যায়ে কথা বলে, আগামীতে কী ভাবে একসঙ্গে কাজ করা যায়, তা দেখা হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy