বিধি ভেঙে রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত তিনটে পর্যন্ত পুলিশের সামনেই রায়গঞ্জ শহরে চড়া শব্দে ডিজে ও সাউন্ড বক্স বাজিয়ে শোভাযাত্রা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও ডান-বাম বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার জেরেই বিভিন্ন পুজো কমিটি উচ্চশব্দে ডিজে ও সাউন্ডবক্স বাজিয়ে শহরে শোভাযাত্রা করে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার সাহস পেয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ ওয়াকার রেজার দাবি, ‘‘শোভাযাত্রা চলাকালীন পুলিশ জোর করে উচ্চ শব্দে বাজতে থাকা ডিজে ও সাউন্ড বক্স বন্ধ করতে গেলে গোলমাল ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে ও সাউন্ডবক্স বাজার ছবি পুলিশ সংগ্রহ করেছে। শীঘ্রই অভিযুক্ত কমিটিগুলিকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’
পুলিশ ও পুরসভা সূত্রের খবর, রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত তিনটে পর্যন্ত রায়গঞ্জের খরমুজা ও বন্দর কুলিক নদীর বিসর্জন ঘাটে ৮৪টি সর্বজনীন পুজো কমিটির দূর্গা প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। বিভিন্ন পুজো কমিটি শহরের শিলিগুড়িমোড় থেকে কসবা ও জেলখানা মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার রাস্তা শোভাযাত্রা করে ঘাটে গিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছেন। পুলিশের দাবি, ৩৫-৪০টি পুজো কমিটি চড়া শব্দে ডিজে ও সাউন্ডবক্স বাজিয়েছে। রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনুবন্ধু লাহিড়ী ও পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত সোম বলেন, ‘‘পুলিশ সক্রিয় থাকলে এমন হতো না।’’
রায়গঞ্জের কংগ্রেস বিধায়ক তথা পুরসভার চেয়ারম্যান মোহিত সেনগুপ্তের অভিযোগ, পুজোর চার দিন পুলিশের সামনেই বিভিন্ন মণ্ডপে উচ্চশব্দে সাউন্ডবক্স ও মাইক বাজায় শহরে ব্যাপক শব্দদূষণের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘শুধু পুজো কমিটির সঙ্গে দায়সারা বৈঠক করলেই সরকারি নির্দেশ কার্যকরী হয় না।’’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক অপূর্ব পালের সন্দেহ, ‘‘উপর মহলের নির্দেশেই পুলিশ বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে ও সাউন্ডবক্স বন্ধ করেনি।’’ বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে সাউন্ডবক্স বাজানো বন্ধ করতে পুলিশের সক্রিয় হওয়া উচিত।’’