শুনানি শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘অযোগ্য’ ভোটারের সংখ্যা বাড়ল অনেকটাই। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিমার্জিত সূচি অনুযায়ী, ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে এসআইআরের শুনানি পর্ব। তাতে ওই দিন পর্যন্ত অযোগ্য ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১.৬৬ লক্ষ। সোমবার তা-ই বেড়ে হয়েছে প্রায় ২.০৮ লক্ষ। ঘটনাচক্রে, এ দিন কমিশন ফের জানিয়েছে, এসআইআরে একমাত্র বৈধ নথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা বাংলার বাড়ির শংসাপত্র গ্রাহ্য হবে না। কারণ, তা কমিশনের এবং আদালতের নির্দেশিত নথিগুলির মধ্যে পড়ছে না।
রাজ্যের প্রায় ৭.৬৬ কোটি ভোটারের জন্য এসআইআর শুরু করে কমিশন। এনুমারেশন পর্বের পরে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় বাদ যায় প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম। যাঁরা প্রধানত মৃত, স্থায়ী ভাবে ঠিকানা বদল হওয়া অথচ পুরনো ঠিকানায় নাম রয়েছে, অনুপস্থিত এবং ডুপ্লিকেট অর্থাৎ যাঁদের একাধিক ভোটার কার্ড বা নম্বর রয়েছে— তাঁদের নাম ছিল সেই তালিকায়। যে হেতু এই এসআইআরের ভিত্তি ছিল ২০০২ সালে হওয়া এসআইআরের তালিকা, তাই সেখানে যে ভোটারদের নিজস্ব অথবা পরিজনদের নামের মিল নেই, তেমন প্রায় ৩২ লক্ষকে আন-ম্যাপড হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে চিহ্নিত হন প্রায় ১.২০ কোটি ভোটার, যাঁদের যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি রয়েছে। এই দু’টি গোত্রের প্রায় ১.৫২ কোটি ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়। সুপ্রিম কোর্ট এবং কমিশন নির্দেশিত নথিগুলির মধ্যে যে কোনও একটি দাখিল করার কথা ছিল সেই সময়ে। সেই পর্বই শেষ হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। ফলে সেই দিন পর্যন্ত যাঁরা হাজির হয়েছিলেন এবং নথি দাখিল করেছেন, তাঁদের নথির পুনর্যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজ চলছে এখন। যে পর্ব চলার কথা ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
তবে কমিশন সূত্রের বক্তব্য, এমন ভোটারদের একটা বড় অংশের কাছে ‘বৈধ’ কোনও নথি নেই। অথবা এমন নথি দাখিল করা হয়েছে, যা কোনও অবস্থাতেই নথি হিসাবে গ্রাহ্য হওয়ার কথা নয়। ফলে সেই সব ঘটনাগুলিকে ‘রেড-ফ্ল্যাগ’ করে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে ইআরও-এইআরওদের। সেই কাজটাই আপাতত চলছে। তাতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২.০৮ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বাদ যাওয়ার যোগ্য’ হিসাবে ধরা পড়েছে। তবে এখনও জেলাস্তর থেকে নিষ্পত্তির হার খুবই কম। তাই যত নিষ্পত্তি হবে, তত এই সংখ্যায় হেরফের হতে পারে।
চলতি এই পর্বে নতুন করে আর কোনও নথি দাখিল বা আপলোড করা যাচ্ছে না। তাই খুব সম্প্রতি রাজ্য সরকার কমিশনকে অনুরোধ করেছে, যাতে এই সুবিধা আর কয়েকটা দিন বাড়ানো যায়। তবে কমিশনের জবাব—ইতিমধ্যেই দু’বার শুনানির দিনসংখ্যা বেড়েছে। তার মধ্যে বার বার এই কাজ শেষ করতে বলা হয়েছিল সব জেলাকে। তাই এখন আর এই দিন বদলের সম্ভাবনা নেই। কমিশনের এক কর্তার কথায়, “যাঁরা শুনানিতে এসেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের নথি আপলোড করার কথা ইআরও বা এইআরও-দের। তা কেউ না করে থাকলে এবং সে সম্পর্কে অভিযোগ এলে সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে কমিশন।” ফলে এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের। তার পরে কারও দাবি থাকলে তিনি কমিশনের কাছে নাম তোলার আবেদন করতে পারেন উপযুক্তি নথি-সহ।
অন্য দিকে, কমিশন ফের জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নির্ধারিত বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি পাট্টার নথিকে গ্রহণযোগ্য বলা রয়েছে। অর্থাৎ, সরকারের থেকে কেউ তৈরি বাড়ি বা জমি পেয়ে থাকলে, সেই শংসাপত্রকে গ্রাহ্য করা হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আবাস বা বাংলার বাড়ি তালিকাভুক্ত নথির আওতায় পড়ছে না। কারণ তা প্রধানত অনুদান প্রকল্প। তাই এই নথি একক হিসাবে গ্রাহ্য নয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)