স্নাতকে নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তির আবহে ইউনিয়ন রুম মারফত কোনও রকম দুর্নীতির সম্ভাবনা নির্মূল করতে এ বার কলেজে কলেজে ‘ইউনিয়ন ফি’-এর তহবিল হিসাব-নিকাশের নির্দেশ দিল রাজ্য উচ্চ শিক্ষা দফতর। ডিরেক্টর অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন স্বাক্ষরিত নির্দেশিকায় সাত দিনের মধ্যে ইউনিয়ন ফি বাবদ সংগৃহীত টাকা এবং খরচের খুঁটিনাটি জানতে চাওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমে উইয়ে কাটা লাখো টাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পরে বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছে সদ্য ক্ষমতাসীন সরকার। কলেজের তরফে অডিট রিপোর্ট বিকাশ ভবনে জমা পড়েছে। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘সব কলেজের অধ্যক্ষ বা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে সাত দিনের মধ্যে ইউনিয়ন ফি ও ইউনিয়ন রুম সংক্রান্ত খুঁটিনাটি হিসেবের রিপোর্ট দিতে হবে।’’
নির্দেশিকাটিতে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিয়ন রুমের ভিতরের সামগ্রীর খতিয়ানও চাওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ বা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী-সহ অন্তত পাঁচ জনের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন রুমের সব সামগ্রীর তালিকা করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটির ছবি তুলে রাখতে ও ভিডিয়োগ্রাফি করতেও বলা হয়েছে। কোথাও কিছু গোলমেলে বস্তুর হদিস পেলে ডিপিআই বা কলেজের প্রশাসককেতা সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে বলেও নির্দেশ। তৃণমূল আমলে ছাত্র ইউনিয়নের ভোট বন্ধ হওয়ার পরে তখনকার শাসক দলের অনুগামী তথাকথিত ছাত্রনেতা বা প্রাক্তনীদের দৌরাত্ম্যে কলেজ স্তরে ভর্তি-দুর্নীতি ও অরাজকতা লাগামছাড়া হয়েছে বলে দাবি। হাই কোর্ট গত বছর ইউনিয়ন রুমগুলি বন্ধ করতে বলে। ভর্তির সময়ে কলেজ ছাত্রনেতাদের প্রভাবমুক্ত করতেইএই নতুন পদক্ষেপ বলে দাবি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)