পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অন্তত ১১০টি মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টে! নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিককে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আদালত অবশ্য কমিশনের নেওয়া সমস্ত সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। কোনও মামলাতেই কমিশনের বিরুদ্ধে কোনও নির্দেশ বা রায় যায়নি।
২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট ঘটনাবহুল। ১৫ বছরের শাসক তৃণমূলকে হারিয়ে এ রাজ্যে প্রথম বার ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারা। তবে দু’দফার ভোটের সময়, আগে এবং পরে নানা অভিযোগে মামলা হয়েছে। পিটিআই জানিয়েছে, সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু কমিশনের বিরুদ্ধেই ১১০টি মামলা দায়ের হয়েছিল। ভোটঘোষণা থেকে ফলপ্রকাশের মধ্যে ওই মামলাগুলির অধিকাংশই দায়ের করেছিল তৃণমূল।
সরকারি আধিকারিককে উদ্ধৃত করে পিটিআই বলছে, ‘‘যদিও কোনও মামলাতেই কমিশনের বিপক্ষে কোনও নির্দেশ জারি হয়নি।’’ বস্তুত, বিধানসভা নির্বাচনের সময় এসআইআর ইস্যু থেকে ভোট বিষয়ক নানা কারণে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একের পর এক চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী তথা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির হয়ে ভোট করানোর অভিযোগ থেকে পক্ষপাতিত্বের নানা অভিযোগে জ্ঞানেশ তথা কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয় তৃণমূল। একের পর এক নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেছেন মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পিটিআই জানিয়েছে, ওই সময়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ১১০টি মামলার মধ্যে বেশির ভাগ অভিযোগ ছিল পক্ষপাতিত্বের এবং অধিকাংশ মামলাই করেছিল তৃণমূল। এসআইআর-বিরোধিতায় তৃণমূলের অবস্থান এতটাই তীব্র ছিল যে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের সামনে নিজে উপস্থিত হয়েছিলেন। বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে এবং কমিশন একপেশে ভাবে কাজ করছে দাবি করে তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্ব সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
অন্য দিকে, কমিশন বরাবরই বলে এসেছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য কেবল মৃত, নকল, স্থানান্তরিত এবং অনুপস্থিত ভোটারদের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।
শেষ দফা ভোটের আগে রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তি পাকাতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। দ্বিতীয় দফা ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত ১৫৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সে নিয়েও হাই কোর্টে গিয়েছিল তৃণমূল।