Advertisement
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

মন্ত্রী কমলেও উন্নয়নের আশা দুই জেলায়

জল ধরো, জল ভরো— মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে মন্ত্রীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় সৌমেন মহাপাত্রের দফতরকে এ ভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই ব্যাখ্যা নিয়েই আশাবাদী পশ্চিম মেদিনীপুর।

শুভেন্দু অধিকারী, সৌমেন মহাপাত্র ও চূড়ামণি মাহাতো।

শুভেন্দু অধিকারী, সৌমেন মহাপাত্র ও চূড়ামণি মাহাতো।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০১৬ ০১:৩৯
Share: Save:

অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রী।

Advertisement

জল ধরো, জল ভরো— মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে মন্ত্রীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় সৌমেন মহাপাত্রের দফতরকে এ ভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই ব্যাখ্যা নিয়েই আশাবাদী পশ্চিম মেদিনীপুর।

গত বার রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের বিধায়ক। কিন্তু এ বার তমলুক থেকে সরিয়ে তাঁকে পিংলাতে প্রার্থী করেছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। কিন্তু তিনিই ফের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী হওয়ায় আশাবাদী পশ্চিম মেদিনীপুর।

সেচ উন্নয়নে জলসম্পদ দফতরের গুরুত্ব রয়েছে। এর অধীনেই ‘জল ধরো, জল ভরো’ প্রকল্প। অর্থাৎ, মাটি কেটে পুকুর খনন এবং সেখানে জল সংরক্ষণ। যা সেচের পক্ষে বিশেষ উপকারি। গত পাঁচ বছরে এই প্রকল্পে বেশ কিছু পুকুর খনন হয়েছে পশ্চিমে। জঙ্গলমহলের জেলায় সেচের অবস্থা ভাল নয়। কৃষি জমি রয়েছে প্রায় ২ লক্ষ হেক্টর, কিন্তু সেচের সুবিধে রয়েছে মাত্র ১ লক্ষ হেক্টরের কিছু বেশি জমিতে। এ হিসাব অবশ্য খাতায়-কলমে। বাস্তবে ফারাক আরও বেশি, বলেন সাধারণ কৃষকরা। জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, বিনপুর-১ ব্লকের (লালগড়) প্রায় ৫৫ শতাংশ এলাকা চাষযোগ্য। বিনপুর-২ ব্লকের (বেলপাহাড়ি) প্রায় ৩৪ শতাংশ এলাকা চাষযোগ্য। কিন্তু জলের অভাবে এই পরিমাণ জমিতে চাষ করা সম্ভব হয় না।

Advertisement

জেলার বিধায়ক জলসম্পদ মন্ত্রী হওয়ায় এই অবস্থা পাল্টাবে বলেই আশা। প্রশাসনের এক কর্তাও জানাচ্ছেন, জঙ্গলমহলের পরিস্থিতি পাল্টাতে আরও বেশি সংখ্যক ‘চেক ড্যাম’ তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে।

অন্য দিকে, গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক চূড়ামণি মাহাতোকে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। খুশির হাওয়া জঙ্গলমহলে। কারণটা সহজ— জঙ্গলমহলের উন্নয়নে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ঝাড়গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী সুধাংশুশেখর মাহাতো বলেন, ‘‘চূড়ামণিবাবু ভূমিপুত্র, অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মানুষ। আশা করি মানুষের বিশেষ উপকার হবে।’’ পুরোন দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই আশার আলো খুঁজছেন ঝাড়গ্রামের বিশিষ্ট আইনজীবী কৌশিক সিংহ। তিনি বলেন, ‘‘জঙ্গলমহলে শিল্প সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের জমি দেওয়া-নেওয়ার বিষয়ে সমস্যা রয়েছে। এ ব্যাপারে বহু ফাইল দফতরে আটকে রয়েছে। আশাকরি চূড়ামণিবাবু বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।’’

পূর্ব অভিজ্ঞতায় খুশি নয় মেদিনীপুর লোধা-শবর কল্যাণ সমিতিও। সংগঠনের সম্পাদক বলাইচন্দ্র নায়েক বলেন, ‘‘২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঝাড়গ্রামে লোধা সেল-এর উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী উপেন বিশ্বাস। অথচ পাঁচ বছর পরেও কোনও পরিকাঠামো গড়া হয়নি।’’

এ দিকে প্রত্যাশার পাহাড়ে বসে চূড়ামণিবাবু বললেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন। সাধ্যমত মানুষের সেবায় কাজ করব।’’ নতুন মন্ত্রী পেয়ে আশাবাদী আদিবাসী সামাজিক সংগঠন ‘ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল’ও। সংগঠনের জেলা কর্মকর্তা রবিন টুডু বলেন, ‘‘নতুন মন্ত্রীর কাছে আবেদন, আদিবাসীদের মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার বিষয়টি সুনিশ্চিত করা হোক। গ্রামগুলিতে সচেতনতা শিবির করে মানুষজনকে মূলস্রোতে ফেরানোর ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ করা হোক।’’

পশ্চিমের দু’জন মন্ত্রী হলেও, এ বার ভাগে কম পড়ে গিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে। গত মন্ত্রিসভায় এই জেলা থেকে তিনজন মন্ত্রী ছিলেন। সুদর্শন ঘোষদস্তিদার ও জ্যোতির্ময় কর ভোটে জিতলেও মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। অন্য দিকে সৌমেনবাবু চলে গিয়েছেন পশ্চিমের ভাগে। তাই জেলার একমাত্র মন্ত্রিত্বটি রইল শুভেন্দু অধিকারীর হাতে। তবে মন্ত্রীর সংখ্যা কম হলে কী হবে, শুভেন্দু পেয়েছেন পরিবহণ দফতর। তাতেই খুশি জেলা।

শুক্রবার দুপুরে কলকাতার রেড রোডে শুভেন্দু শপথ নেওয়ার সময়ই কাঁথি শহরে বাজি-পটকা ফাটাতে শুরু করেন সমর্থকরা। দলীয় এক কর্মীর কথায়, ‘‘দাদা এত দিন নন্দীগ্রাম আর পূর্ব মেদিনীপুরের উন্নয়নের কাণ্ডারী ছিলেন। এ বার রাজ্যের ভার অনেকটাই তাঁর হাতে।’’

তবে শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রী হওয়ায় তমলুকের সাংসদ আসনটি খালি হল। আগামীদিনে সে আসনে কে দাঁড়াবেন তা নিয়ে জেলাস্তরে নেতা থেকে সাধারণ কর্মী— কৌতূহল ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন এ বারের বিধানসভা ভোটে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু তমলুক লোকসভা কেন্দ্রেরই তিনটি আসন তমলুক, হলদিয়া ও পাশঁকূড়া (পূর্ব) বিধানসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থীরা পরাজিত। এমন পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর অবর্তমানে তমলুক লোকসভা আসন টিঁকিয়ে রাখতে দলকে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হতে পারে। দলের আর একটি মহলের বক্তব্য, ‘‘নিজের ছেড়ে যাওয়া তমলুক লোকসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থীকে স্বয়ং শুভেন্দুই জিতিয়ে আনবেন। কর্মীদের মনে কোনও সন্দেহ নেই।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.