বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি তরুণ নার্সের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছে। তবে অবনতি না হলেও তরুণী নার্সের সঙ্কট এখনও কাটেনি। তবে সূত্রের খবর, ওই দু’জন ছাড়া নতুন করে কারও নিপা ভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট পজ়িটিভ আসেনি।
বারাসতের ওই হাসপাতাল সূত্রের খবর, নিপায় আক্রান্ত তরুণী নার্স এখনও ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। তবে তাঁর অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা কমেছে। এ দিন আর জ্বর আসেনি। কিন্তু রক্তচাপ কম। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল তা ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছে। তরুণীর স্নায়বিক অবস্থা এখনও গুরুতর। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সামগ্রিকভাবে ওই নার্সের অবস্থা সঙ্কটজনক হলেও ক্লিনিক্যাল ও বায়োকেমিক্যাল সূচকগুলিতে ধীরে ধীরে উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়াও, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োগ করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, নিপায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন তরুণ নার্সের আর জ্বর আসেনি, খিঁচুনিও হয়নি। অক্সিজেনেরও প্রয়োজন হচ্ছে না। মুখে তরল ও নরম খাবার খাচ্ছেন। সাহায্য নিয়ে চলাফেরা করছেন। তরুণকে এখনও অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত ফিজ়িয়োথেরাপিও চলছে। ওই দু’জনের চিকিৎসায় থাকা চিকিৎসক ও নার্স সকলকেই সুরক্ষা বিধি মেনে কাজ করতে হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে। ক্রিটিক্যাল কেয়ারের চিকিৎসক স্বরূপ পাল, স্নায়ু রোগ চিকিৎসক অনন্যা দাস, অম্লানকুসুম দত্ত, পালমোনোলজিস্ট অভ্রদীপ দাসকে নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড ওই দু’জনের চিকিৎসারদায়িত্বে রয়েছেন।
তবে ওই দু’জনের সংক্রমণের উৎস নিয়ে এখনও সংশয়ে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্ভাব্য বেশ কয়েকটি সূত্রকে বিস্তারিত ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর। সেই মতো উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত খেজুর রসের নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। বাদুড়ের সমীক্ষাও করা হবে। এই প্রসঙ্গে এক স্বাস্থ্য কর্তা বলেছেন, ‘‘উৎসের খোঁজ চলছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)