ব্রিগেডে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রইলেন শ্যামাপ্রসাদ
মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গী মাখনলাল সরকার। বিজেপির পূর্ববর্তী সংগঠন জনসঙ্ঘের
প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। আর তাঁর রাজনৈতিক সঙ্গী ছিলেন নবতিপর মাখনলাল।
শনিবার ব্রিগেডে মাখনলালকে শাল পরিয়ে বরণ করে নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। তার পর মাখনলালকে আলিঙ্গন করতেও দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে।
পরে মাখনলালকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন মোদী। সেখানে তিনি লেখেন, “শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মাখনলাল সরকারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হল। উনি নিবেদিত জাতীয়তাবাদী মানুষ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছিলেন এবং জম্মু ও কাশ্মীরে গ্রেফতার হয়েছিলেন। উনি আমাদের দলের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে আমাদের সংগঠনকে প্রসারিত করেছেন এবং মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।”
মাখনলালকে প্রণাম করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। মাখনলালের পরিচয় বর্ণনা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানান, শ্যামাপ্রসাদের রাজনৈতিক সঙ্গী ছিলেন মাখনলাল। দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার জন্য কংগ্রেস আমলে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। তাঁকে আদালতে নিয়ে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি।
শমীকের কথায়, “মাখনলাল আদালতে বলেন, তিনি কোনও অন্যায় করেননি। কেবল একটি গান গেয়েছেন। বিচারক তাঁকে গানটি গেয়ে শোনাতে বলেন। আদালতকক্ষেই মাখনলাল গানটি গেয়ে শোনান। তার পরেই বিচারক পুলিশকে নির্দেশ দেন যে, ট্রেনের একটি ফার্স্ট ক্লাস টিকিট দিয়ে মাখনলালকে বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে এবং যাতায়াতের জন্য ১০০ টাকা দিতে হবে।”
মাখনলাল সরকারের স্ত্রী পুতুল সরকার। —নিজস্ব চিত্র।
একই সঙ্গে শমীক বলেন, “মাখনলাল সরকার হলেন এমন এক জন, যিনি ১৯৫২ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক কাশ্মীর যাত্রার সঙ্গী ছিলেন। সেই যাত্রায় আর যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কেউ এখন আর বেঁচে নেই। তাই আজ যখন শ্যামাপ্রসাদের মাটিতে শ্যামাপ্রসাদের আদর্শের অনুসারী সরকার তৈরি হল, তখন মাখনলাল সরকারকে মঞ্চে রাখা হল।”
৯৭ বছর বয়সি মাখনলাল১৯৪৫ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত। ১৯৫২ সালে কাশ্মীরে শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। তিনি শিলিগুড়ির দাগ গ্রামের বাসিন্দা। মাখনলালকে শিলিগুড়ির প্রথম সাংগঠনিক সভাপতি করেছিল বিজেপি। ১৯৮০ সালে বিজেপি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাঁকে পশ্চিম দিনাজপুর (অধুনা ভেঙে উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর), জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিঙের সাংগঠনিক সমন্বয়কারী করে বিজেপি। ১৯৮১ সালের পর টানা সাত বছর জেলা সভাপতি পদে ছিলেন তিনি।
শপথগ্রহণের মঞ্চে উপস্থিত থাকার জন্য শুক্রবারই মাখনলালের কাছে বার্তা গিয়েছিল। সেই মতো তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র মাখনলালকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। মাখনলালের স্ত্রী পুতুল সরকার বলেন, “১৩ বছর বয়সে ওর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। দেশভাগের সময় এই দেশে চলে আসা। তখন থেকেই দেখি আরএসএস করে৷ সঙ্ঘই ছিল ওর কাছে শেষ কথা।” জ্যেষ্ঠপুত্র মানিকলাল সরকারের কথায়, “বাবা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত৷ দলের উত্থানপতন হয়েছে। কিন্তু বাবাকে কখনও দলের আদর্শ থেকে বিমুখ হতে দেখিনি। বাবা আজ শান্তি পেলেন৷ জীবিত অবস্থাতেই বাংলায় দলকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হতে দেখে যেতে পারলেন।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শনিবার সকালে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার, পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ করবেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
- অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তাঁকে ৪ মে-র পরে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসতে হবে। সেইমতো পঁচিশে বৈশাখ রাজ্যে আসছেন মোদী।
- প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিট নাগাদ দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার বি-৭৭৭ বিমানে চেপে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা মোদীর।
-
১৩:০৯
ব্রিগেডের মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের ‘জনশক্তি’কে নতজানু প্রণাম প্রধানমন্ত্রীর! মোদীর সাফল্যের শিরোপায় জুড়ল নতুন পালক -
০৭:৩৬
ব্রিগেডের মঞ্চে শপথের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে আলিঙ্গন মোদী-শাহের, গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে দিলেন আদিত্যনাথ -
২৩:০০
আরজি করের ঘটনায় বসবে কমিশন, সন্দেশখালিতেও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা! ঘোষণা হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর -
২২:৫৮
বিধানসভা থেকে সরল মমতার নামফলক, মহাকরণে তিনতলার কক্ষ প্রস্তুত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর জন্য! চলছে ব্রিগেডের প্রস্তুতিও -
২১:৪২
‘জেলার ছেলে মুখ্যমন্ত্রী’! কাঁথি থেকে নন্দীগ্রামে উৎসব, শপথগ্রহণ দেখতে পূর্ব মেদিনীপুর কলকাতার পথে