দক্ষিণ শহরতলির বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে ৭ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল আলিপুরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত। প্রসঙ্গত, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার এবং বিজয় মিছিল থেকে পুলিশকে শাসানি দেওয়ার মামলায় ফেরার ছিলেন দিলীপ। বুধবার ভোরে পুরীর একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। বৃহস্পতিবার সকালে এসটিএফের তরফে দিলীপকে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অফিসারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বিষ্ণুপুর থানায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এক প্রস্ত জিজ্ঞাসাবাদের পরে দিলীপকে নিয়ে আদালতের উদ্দেশে রওনা হয় বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। এ দিন অবশ্য শুনানি চলাকালীন বিধায়ককে আদালত কক্ষে আনা হয়নি। তাঁকে রাখা হয়েছিল আলিপুর আদালতের লক-আপে।
সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত বিধায়কের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারার ১১টি মামলা আমাদের হাতে এসেছে। ধর্ষণ, খুনের চেষ্টা, বাড়িতে আগুন ধরানোর মতো ওই ঘটনাগুলি ঘটেছিল ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছরের মধ্যে। তবে, আরও একাধিক মামলা থাকতে পারে তাঁর নামে। সম্প্রতি দিলীপ ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সেই মামলায় নির্যাতিতার মেডিক্যালপরীক্ষাও করা হয়েছে। ১১টি মামলার মধ্যে দশটি মামলায় বিধায়কের জেল হেফাজত এবং চলতি বছরে ঘটা ধর্ষণের মামলায় পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হচ্ছে। তবে, এতগুলি মামলার জন্য বিধায়ককে দীর্ঘদিন পুলিশি হেফাজতে রাখার প্রয়োজন রয়েছে। তাই ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হচ্ছে।’’
অভিযুক্তের আইনজীবীরা বলেন, ‘‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য দিলীপের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁর জামিনের আর্জি জানানো হচ্ছে।’’ সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক বিধায়ককে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠান।
এ দিন সওয়াল-জবাব চলাকালীন সরকারি আইনজীবী তৃণমূলের বিধায়ককে ‘কুখ্যাত অপরাধী’ (নটোরিয়াস ক্রিমিনাল) বলে উল্লেখ করেন। পরে আদালতের বাইরে তিনি বলেন, ‘‘ধর্ষণের মামলা ছাড়া আরও ১০টি মামলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য দিলীপ সিন্ডিকেট-বাহিনী নিয়ে নিরীহ মানুষদের উপরে অত্যাচার করেছেন বলে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে ওই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে দিলীপকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হতে পারে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)