রানাঘাটে সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণ ও ডাকাতির পর তিন মাস পেরিয়েছে। তদন্তকারী সিআইডি চলতি মাসেই ওই ঘটনায় চার্জশিট পেশ করবে।
সিআইডি-সূত্রে খবর, আপাতত মোট ৮ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হবে। এদের পাঁচ জন ইতিমধ্যে গ্রেফতার, বাকি তিন জনকে দেখানো হবে পলাতক হিসেবে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গোয়েন্দাদের দাবি, ঘটনার মূল দুই চক্রান্তকারী হল মিলন সরকার আর নজু। মিলন ধরা পড়লেও নজু ফেরার। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ১৩ মার্চ রাতে রানাঘাটের এক কনভেন্টে আট দুষ্কৃতী হানা দেয়। টাকা লুঠের পাশাপাশি স্কুলের বৃদ্ধা সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণ করা হয়। এর দু’সপ্তাহের মাথায় হাবরায় ধরা পড়ে গোপাল সরকার। মুম্বইয়ে সালিম শেখ ও বনগাঁ স্টেশনে খালেদর রহমান মিন্টু ওরফে ফারুককে পাকড়াও করে সিআইডি। পরে শিয়ালদহ স্টেশনে ধরা পড়ে মিলন ও ওহিদুল ইসলাম ওরফে বাবু।
নিগৃহীতা সন্ন্যাসিনী দিন কয়েক রানাঘাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সপ্তাহখানেকের মাথায় তিনি দিল্লি চলে যান। সেই ইস্তক ওঁর ঠিকানা দিল্লির মন্দির মার্গ থানা এলাকায় একটি বাড়ি। সিআইডি’র গোয়েন্দারা সেখানে গিয়েই তাঁর গোপন জবানবন্দি নিয়ে এসেছেন।
ভবানী ভবনের খবর, ধৃতেরা জেরায় কবুল করেছে, ডাকাতি করতেই তারা স্কুলে চড়াও হয়। ধর্ষণের আগাম মতলব ছিল না। ধৃতদের বয়ান অনুযায়ী, ধর্ষণ করে নজু। ধর্ষককে শনাক্ত করতে গোয়েন্দারা সন্ন্যাসিনীর রক্তের নমুনা ফরেন্সিক এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। চাদরে লেগে থাকা রক্ত ও বীর্যের নমুনাও পরীক্ষা করে অভিযুক্তদের ডিএনএ-র সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। তবে তার রিপোর্ট এখনও মেলেনি।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, রানাঘাট-কাণ্ডের মূল দুই চক্রী তো বটেই, অভিযুক্তদের অধিকাংশ বাংলাদেশি। তারা হাবরায় মিলনের আত্মীয় গোপালের বাড়িতে বসে ডাকাতির ছক কষে। নজু ও মিলন দু’বার ওই কনভেন্ট স্কুলে গিয়ে সব কিছু খুঁটিয়ে দেখে আসে। সিআইডি-সূত্রের দাবি, গোপাল এক সময় স্কুলটিতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেছিল। তার স্ত্রীকে জেরা করতে গিয়েই মিলন-সহ অন্য দুষ্কৃতীদের কথা জানা যায়।
গোয়েন্দারা বলেছেন, ১৩ মার্চ রাতে দুষ্কর্ম সেরে আট জন পাঁচিল টপকে বাইরে আসে। হেঁটে কাছের রেল স্টেশনে পৌঁছায়। মিলন-সহ কয়েক জন চলে যায় বনগাঁ। সেখান থেকে তারা বাংলাদেশে গিয়েছিল।