Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২২ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

সাইবার সুরক্ষায় বাধা রাজনীতিই: প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ ০৩:১৭
প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান অরূপ রাহা। ফাইল চিত্র।

প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান অরূপ রাহা। ফাইল চিত্র।

শুধু স্থল, আকাশ বা নৌপথে নয়, শত্রুপক্ষের হানার আশঙ্কা বাড়ছে সাইবার মাধ্যমেও। তাই দেশের নিরাপত্তা বাড়ানো দরকার। কিন্তু সেই নিরাপত্তা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কাজিয়াই মূল সমস্যা বলে মনে করেন প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান অরূপ রাহা।

বুধবার ‘সেন্টার ফর নর্থ-ইস্ট রিজিওনাল স্টাডিজ-কলকাতা’ এবং বণিকসভা ‘বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’ আয়োজিত সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন অরূপবাবু। অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি জানান, সাইবার মাধ্যমে শত্রুর হানাদারির আশঙ্কা বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় পরিকাঠামোর দ্রুত উন্নয়ন জরুরি। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই সেই পরিকাঠামো বৃদ্ধির ক্ষেত্রে টালবাহানা চলছে।

অনেকেই মনে করছেন, রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে যে-কাজিয়া চলছে, সেই দিকেই ইঙ্গিত করেছেন প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান। মঙ্গলবার সেনার ইস্টার্ন কম্যান্ডের জিওসি-ইন-সি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজমুকুন্দ নরবনে জানান, সাইবার হানা রুখতে স্থল, বায়ু ও নৌসেনার মিলিত বাহিনী তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সেনা সূত্রের খবর, কয়েক বছর আগে এই পরিকল্পনা হলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

Advertisement

দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাইবার সন্ত্রাসের কথা এ দিন উঠে এসেছে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বক্তার মুখে। প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল এমকে নারায়ণন বলেন, ‘‘সাইবার হামলার মোকাবিলায় আমাদের রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক, দু’ধরনের কৌশলই নিতে হবে।’’ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, সাইবার হামলায় যেমন প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল বা বিদ্যুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো নষ্ট করা যেতে পারে, তেমনই এই ধরনের হামলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড পর্যন্ত ভেঙে দিতে পারে অপরাধীরা। অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশি শত্রুরা এই ধরনের হামলা চালানোর জন্য ভা়ড়াটে অপরাধী নিয়োগ করছে। সন্ত্রাস ছ়ড়ানোর জন্য মুম্বইয়ের তাজ হোটেলে হামলা চালিয়েছিল কাসভেরা। কিন্তু সাইবার যুগে আন্তর্জাতিক হোটেল সংস্থার সার্ভারে হামলা চালিয়ে জঙ্গিরা আবাসিকদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করেছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, আগামী দিনে তথ্যই হবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর সম্পদ। সাইবার অপরাধীরা সেই তথ্য হাতিয়ে নেয়, নেট দুনিয়ায় ‘ডার্ক ওয়েব’ বা অন্ধকার পথে তার লেনদেনও চলে। তথ্যের সেই চোরাই ব্যবসার অর্থ জমা পড়ে জঙ্গি সংগঠনের ভাঁড়ারে। ‘‘ডার্ক ওয়েবে এই তথ্যের লেনদেনের ফলে জন্ম নিচ্ছে নতুন ধরনের অপরাধীরা,’’ বলেন নারায়ণন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’ (র)-এর প্রাক্তন প্রধান এএস দুলত সাইবার অপরাধীদের ভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, নেট দুনিয়ায় বিভিন্ন বিজ্ঞাপন মানুষ খুলে দেখতে চান এবং নিজের অজান্তেই তথ্য দিয়ে দেন অপরাধীদের।

আরও পড়ুন

Advertisement