ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের আবহে দেশের সেনাবাহিনীর প্রতি সংহতি জানিয়ে শুক্রবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিল সব রাজনৈতিক দল। সংঘাত-পরিস্থিতির কথা উঠে এল রাজনৈতিক দলগুলির রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের সময়েও। সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানকে উদ্ধৃত করে দেশের কল্যাণ প্রার্থনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবীন্দ্র সদনে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান মঞ্চে মমতার কথায় উঠে এসেছে সাম্প্রতিক প্রসঙ্গের কথা। তিনি বলেছেন, “সেনাবাহিনী আমাদের জন্য, মাতৃভূমি রক্ষার জন্য লড়াই করে।” কবিকে উদ্ধৃত করে মমতার সংযোজন, “নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়...। সবাই ভাল থাক, দেশ ভাল থাক।” রবীন্দ্র-স্মরণে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে দেশ ও বাহিনীর মঙ্গল কামনায় পুজো দিয়েছেন তৃণমূলের সেখানকার পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি-সহ অন্যেরা।
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের মূর্তিতে এবং মুরলীধর সেন লেনে দলের রাজ্য দফতরে কবির ছবিতে মাল্যদান করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূলের একটি সংগঠনের ‘দ্বন্দ্বে’র ফলে জোড়াসাঁকোয় বাইরে মঞ্চ করে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান করা যায়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন সুকান্ত। দলের তিন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় কবি-প্রণাম অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ওই অনুষ্ঠানের পরে ভারত-পাক সংঘাত নিয়ে সিপিএমের ‘অবস্থান’কে নিশানা করেছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “ওদের (সিপিএমের) মুখপত্র যা শিরোনাম করছে, তাতে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের কাগজও লজ্জা পাবে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ সফল হওয়ার পরে ওঁদের মুখ চুন হয়ে গিয়েছে। তেরঙ্গা মিছিল, ইনসাফ মিছিল হবে না।” তাঁর মন্তব্য, “২০২৬-এ টুকড়ে টুকড়ে গ্যাংয়ের উপরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ হবে! বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাদবপুর থেকে পেটাতে পেটাতে ভারতের সীমান্তের বাইরে পাকিস্তানে ড্রোনে বেঁধে ফেলে দিয়ে আসব!” সেনাবাহিনীর সাফল্য কামনায় মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় এবং আরামবাগে পুজো দিয়েছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। হয়েছে মিছিলও।
সিপিএম অবশ্য ফের জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের প্রশ্নে দেশের সব বিরোধী দলই এক অবস্থানে আছে। জোড়াসাঁকোয় এ দিন রবীন্দ্রনাথের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সেলিম, দলের পলিটব্যুরো সদস্য রামচন্দ্র ডোম, শ্রীদীপ ভট্টাচার্য প্রমুখ। রবীন্দ্রনাথ সব সময়ে মানবতার কথা বলতেন, তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সেলিম। এর সঙ্গেই সাম্প্রতিক সংঘাত-আবহ নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “সীমান্তে যাঁরা থাকেন, তাঁদের অবস্থার কথা চিন্তা করতে হবে। ভারত, পাকিস্তানের দু’দেশের অর্থনীতি ভাল জায়গায় নেই। যুদ্ধ হলে অস্ত্র বিক্রি করে লাভ হবে আমেরিকা, চিনের। আমাদের স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমবে। আমরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে।”
সেনাবাহিনীকে কুর্নিশ জানাতে এ দিন এআইসিসি-র কর্মসূচি মেনে প্রদেশ কংগ্রেসের ডাকে দলের রাজ্য দফতর বিধান ভবন থেকে ‘জয় হিন্দ যাত্রা’য় যোগ দিয়েছিলেন দলের বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য, মায়া ঘোষ প্রমুখ। বিধান ভবনে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনও করা হয়েছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাফল্য চেয়ে এ দিন জুম্মার নমাজের পরে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন মসজিদে ইমামেরা দোয়া করেছেন। ‘অল ইন্ডিয়া ইমাম মুয়াজ্জিম অ্যান্ড সোশাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনে’র রাজ্য সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, “দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় আমাদের বীর সেনারা পরিবার ছেড়ে সীমান্তে লড়ছেন। আমাদের সেনাবাহিনী যাতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সফল হতে পারে, সে জন্য আমরা দোয়া করেছি।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)