Advertisement
E-Paper

স্বর্ণব্যবসায়ী হত্যা মামলার নথিই পৌঁছোল না আদালতে! জামিন পেয়ে বাড়ি চলে গেলেন অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ

১০০০ টাকার বন্ডের বিনিময়ে জামিন পেলেন প্রশান্ত। তাঁর বিরুদ্ধে বিএনএসের ২৮১, ১২৫বি এবং এমভি আইনের ১৮৪, ১৮৫ ধারায় এফআই রুজু হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ২০:২১
আদালত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন প্রশান্ত বর্মণ।

আদালত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন প্রশান্ত বর্মণ। — নিজস্ব চিত্র।

সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুন সংক্রান্ত নথি আদালতে পৌঁছোল না। পৌঁছোলেন না তদন্তকারী আধিকারিকও (আইও)। ফলে পুলিশের হাতে ধরা পড়েও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামিন পেয়ে বাড়ি চলে গেলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। ১০০০ টাকার বন্ডের বিনিময়ে জামিন পেলেন তিনি।

প্রশান্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র ২৮১, ১২৫বি এবং মোটর ভেহিকল আইনের ১৮৪, ১৮৫ ধারায় এফআইআর রুজু হয়। বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে ওই মামলা রুজু হয়েছিল। মঙ্গলবার তাঁকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হয়। যখন প্রশান্তকে হাজির করানো হয়, তখন বিচারক নথি চান। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু নথি না পৌঁছোনোয় জামিন পেয়ে বাড়ি চলে যান প্রশান্ত।

এই বিষযে সরকারি আইনজীবী লাবণ্য জানাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও উত্তর দেননি। প্রশান্তের আইনজীবী শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জানান, যে মামলায় তাঁর মক্কেলকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার বারাসত আদালতে আনা হয়, তা জামিনযোগ্য অপরাধ। তার সঙ্গে অন্য কোনও মামলার নথি বিধাননগর কোর্ট বা অন্য কোথাও থেকে পেশ করা হয়নি আদালতে। তার পরেও সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল অন্য মামলা রয়েছে। এসিজেএম অর্ডার রিজার্ভ রেখেছিলেন দীর্ঘ ক্ষণ। তার পরে তিনি জামিন দিয়ে দেন। কারণ, অন্য কোনও মামলার নথি বা পুলিশের পক্ষ থেকে অন্য মামলায় হেফাজতে নেওয়ার, গ্রেফতারির আবেদন জমা পড়েনি। আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা বলেন, ‘‘এ রকম অপরাধী অন্য জায়গায় গ্রেফতার হতেই পারেন। সে ক্ষেত্রে অন্য অপরাধের বা মূল মামলার তদন্তকারীরা শোন অ্যারেস্ট করবেন। আদালতে হেফাজতে চাওয়ার আবেদন করবেন। এখানে খুনের ঘটনার অভিযোগ হয়েছিল বিধাননগরে। আবার এই ঘটনাও (দুর্ঘটনা) সেখানে। তার পরেও সমন্বয় হয়নি, এই বিষয়টি অদ্ভুত।’’

পথসুরক্ষা বিধি ভেঙে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন প্রশান্ত। অভিযোগ, সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় আচমকা প্রশান্তের গাড়ি প্রথমে এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। যেখানে ঘটনাটি ঘটে, সেখান থেকে কিছুটা দূরে একটি স্কুটার দাঁড় করানো ছিল। ওই পথচারী ছিটকে গিয়ে ওই স্কুটার আরোহীর গায়ে পড়েন বলে অভিযোগ। ওই ব্যক্তির পায়ে চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। স্কুটার আরোহীই প্রশান্তের গাড়ি আটকান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ওই খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রশান্ত। বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মণ। তার বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। হাই কোর্ট সেই আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। পরে গত ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টও তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও এত দিন পুলিশের নাগালের বাইরেই রয়ে গিয়েছিলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও। শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হলেও জামিন পেয়ে গেলেন তিনি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy