Advertisement
E-Paper

টানা বৃষ্টিতে কালভার্ট ভেঙেছে ১২টি

সদ্য নির্মিত কালভার্ট জলের তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। আর কাজের দায়িত্বে থাকা তৃণমূল পরিচালিত পুরুলিয়া জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে এই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।

নিজস্ব সংবাদাতা

শেষ আপডেট: ১১ অগস্ট ২০১৫ ০০:২৮
কাশীপুরের ঘুটলিয়ায় ভেঙে পড়েছে কালভার্ট। — নিজস্ব চিত্র।

কাশীপুরের ঘুটলিয়ায় ভেঙে পড়েছে কালভার্ট। — নিজস্ব চিত্র।

সদ্য নির্মিত কালভার্ট জলের তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। আর কাজের দায়িত্বে থাকা তৃণমূল পরিচালিত পুরুলিয়া জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে এই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। কাজের মান নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে শাসক দলের মধ্যেও।

প্রায় হপ্তা খানেক আগে তুমুল বর্ষণের জেরে কাশীপুর ব্লকের কালীদহ-ভাতুইকেন্দ রাস্তায় সদ্য নির্মিত একটি কালভার্ট জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে। একই ভাবে এই ব্লকেই ঘুটলিয়া গ্রামের রাস্তায় একটি কালভার্টও এই বর্ষণেই ভেঙে গিয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরেই এই কালভার্ট দু’টি তৈরি করা হয়। কালীদহ গ্রামের রাস্তার কালভার্টটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। আর ঘুটলিয়া গ্রামের কালভার্টটির কাজ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে।

কাশীপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, ‘‘বৃষ্টি তো গোটা এলাকা জুড়েই হয়েছে। অন্য কালভার্টের উপর দিয়েও জল বয়েছে। কিন্তু সদ্য নির্মিত এই কালভার্ট দু’টি ভেঙে যাওয়ায় কাজের মান নিয়েই তো প্রশ্ন উঠেছে। হয় পরিকল্পনায়, নয় নির্মাণে কোথাও ত্রুটি রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।’’ পরিকল্পনায় যে খামতি রয়েছে, তার উদাহরণ দিতে গিয়ে সৌমেনবাবু অভিযোগ করেন, চূণা-বাঁশরায়া প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় রাস্তা তৈরির সময় বাঁশরায়া গ্রামের মানুষজন রাস্তায় একটি নিচু জায়গায় কালভার্ট গড়ার দাবি তোলেন। কারণ সে জায়গা নিচু থাকায় রাস্তার উপর দিয়ে জল বয়ে যায়। সেই জায়গার কাজ এখন বন্ধ রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কালভার্টের বিষয়টি হিসেবে রেখেই তো পরিকল্পনা করা উচিত ছিল। এই সমস্ত বিষয় জেলা পরিষদের বৈঠকে তুলব।’’

শুধু কাশীপুরেই নয়, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে জেলার অন্য এলাকা থেকেও। এই বর্ষণে ঝালদা ১ ব্লকের ঝালদা-ব্রজপুর রাস্তাতেও সাপাই নদীর উপরে থাকা একটি বড় কালভার্টও ভেঙে গিয়েছে। ঝালদা ১ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা সিপিএমের উজ্জ্বল চট্টরাজ বলেন, ‘‘এই কালভার্টটি অবশ্য সদ্য নির্মিত নয়। তবে খুব বেশি দিনের পুরনো নয়। কিন্তু তাতেও ভেঙে গেল। খতিয়ে দেখা দরকার নির্মাণ কাজ বিধি মোতাবেক হয়েছিল কি না।’’ এই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কংগ্রেসের বুলু মুড়া বলেন, ‘‘কালভার্ট ভাঙার বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।’’

আড়শা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তৃণমূলের শেখ সালে মহম্মদ বলেন, ‘‘পুরুলিয়া-আড়শা রাস্তায় (বেলডি হয়ে) একটি কালভার্টও এই বর্ষণে ভেঙে গিয়েছে। ফলে বিস্তর অসুবিধায় পড়তে হয়েছে এলাকার মানুষজনকে। এই এলাকায় দোকানে বাজারে যা বিক্রি হয় সবই পুরুলিয়া থেকে আসে। দোকানদারদের ঘুরপথে মাল নিয়ে আসতে হচ্ছে। বহন খরচ বেশি পড়ায় মানুষজনকে বেশি টাকা দিয়ে জিনিসপত্র কিনতে হচ্ছে।’’ তিনি জানান, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পরে দেখা গেল, ভিতরে কোথায় লোহা ছিল তা বোঝাই যায়নি। নির্মাণ কাজ নিয়ে স্থানীয় মানুষজনের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এই কালভার্টটি সদ্য নির্মিত না হলেও খুব বেশিদিন হয়নি। তিনিও বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

জেলা পরিষদ সূত্রের খবর, জেলা জুড়ে মোট ১২টি কালভার্ট ভেঙেছে। কেন ভাঙল এত কালভার্ট? জেলা ঠিকাদার সংগঠনের পক্ষে শ্রীমন সরকার অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘যে কয়েকটি কালভার্ট ভেঙেছে তা টানা বর্ষণের জেরেই। এতে ঠিকাদারদের কোনও ভূমিকা নেই।’’ শ্রীমনবাবু স্বীকার করেন, ‘‘ফাঁক তো একটা রয়েইছে।’’ তাঁর দাবি, কোনও কাজের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সমীক্ষা করে প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করা দরকার। কিন্তু প্রকল্প রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে অনেক সময়ই তা করা হয় না বলে অভিযোগ উঠছে। ফলে বাস্তব কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, ‘‘কোথায় টানা বর্ষা হলে কতটা জল উঠতে পারে সেই বিষয়গুলি না দেখেই কাজ করতে বলা হচ্ছে। আর কালভার্ট ভেঙে গেলেই ঠিকাদারদের দিকে আঙুল তোলা হচ্ছে।’’

জেলা পরিষদের প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা প্রকল্পের নিবার্হী বাস্তুকার দিলীপ মণ্ডল বলেন, ‘‘ঘুটলিয়া গ্রামের রাস্তার কালভার্টটির বিষয়ে জানা নেই। তবে কালীদহ-ভাতুইকেন্দ রাস্তায় কালভার্টটি সদ্য নির্মিত হলেও তা অতিরিক্ত বর্ষণেই ভেঙে গিয়েছে। কারণ যতটা উঁচু করা প্রয়োজন ছিল ততটা করা যায়নি। সেই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল না।’’ তাঁর যুক্তি, তবে অন্য আরও বহু কালভার্ট রয়েছে। সে সব এই বর্ষণেও অক্ষত রয়েছে।

culvert collapse trinamoo kashipur purulia
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy