বালিঘাটের রাশ কার হাতে থাকবে, সেটা নিয়েই বিরোধ ছিল এলাকায়। তার জেরেই দলেরই কয়েক জনকে মারধর করে জখম করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বুথ সভাপতি ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে দুবরাজপুর থানা এলাকার ফকিরবেড়া গ্রামে।
লোবা পঞ্চায়েত এলাকায় ওই ঘটনাকে ঘিরে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছায়াও প্রকট হয়েছে। কারণ, জখম চার জনই বুথ সভাপতির বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর বলে এলাকায় পরিচিত। আহত শেখ কেরামত, শেখ আবদুল্লা, শেখ মুজফ্ফর এবং শেখ মহিবুলকে প্রথমে দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে য়াওয়া হয়। পরে তাঁদের ভর্তি করানো হয় সিউড়ি জেলা হাসপাতালে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে, বুধবার বিকেল পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ হয়নি।
আহত কেরামতের দাবি, তাঁরা চার জনই বর্তমান অঞ্চল সভাপতি তথা লোবার কৃষিজমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ফেলারাম মণ্ডলের অনুগামী। মাস কয়েক আগে উজ্জ্বল ঘোষকে সরিয়ে ফেলারামকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার পর থেকে ঝামেলা লেগেই আছে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, ফেলারাম গোষ্ঠীর সঙ্গে ঝামেলা মূলত বুথ সভাপতি শেখ সাদেক আলির। বুথ সভাপতি উজ্জ্বল ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলেই তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে।
স্থানীয় ভাবে বালিঘাটের দখলকে ঘিরে এ দিনের সংঘাতের কথা উঠে এলেও বালি-প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন কেরামত। তাঁর দাবি, ‘‘বুধবার সকালে হঠাৎ করেই আমার এক দাদা মহিবুলকে আক্রমণ করে সাদেকরা। কারণ বলতে পারব না। প্রতিবাদ করতে গিয়েই আমাদের মার খেতে হয়েছে।’’
সাদেক আলির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় নবি। উজ্জ্বল ঘোষ অবশ্য দ্বন্দ্বের অভিযোগ মানতে চাননি। তিনি বলেন, ‘‘দলের নির্দেশে এখন আমি আর ফেলারাম মণ্ডল একযোগে কাজ করছি। তা সত্ত্বেও কিছু লোক ঝামেলা লাগিয়ে রেখে। তবে এ দিনের ঝামেলার সঙ্গে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের যোগ বা রাজনীতি নেই। বরং অজয়ে দু’টি বালিঘাটের নিয়ন্ত্রণ কার দখলে থাকবে, তা নিয়েই ঝামেলা।’’
অন্য দিকে অঞ্চল সভাপতি ফেলারাম বালি প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলছেন, ‘‘যাঁরা মার খেয়েছেন এবং যাঁরা মেরেছেন বলে অভিযোগ, সকলেই দলের লোক। কিন্তু দলের হলেই তো আইনের ঊর্ধ্বে নয়। পুলিশ-প্রশাসন সেটা দেখে ব্যবস্থা নিক। নেতৃত্বকেও জানিয়েছি। তবে, যে কারণেই হোক দ্বন্দ্ব রয়েছে। বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। আমরা চাই, এলাকার মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারেন। এই অন্যায় কাজ চলতে পারে না।’’
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস কয়েক আগে জেলার নির্দেশে অঞ্চল সভাপতি হিসেবে ফেলারাম দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় আগের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর নতুনদের সংঘাত তৈরি হয়েছে। দু’পক্ষের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না। তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কী কারণে সমস্যা, দলের পক্ষ থেকে সেটা দেখা হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে পুলিশকে।’’