দীর্ঘ পনেরো বছর নতুন কমিটি তৈরি হয়নি। তারাপীঠ মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তৃণমূল প্রভাবিত কমিটি। এ বার রাজ্যে পালাবদলের পরে মন্দির কমিটিতেও বদল এল। পুরনো কমিটি ভেঙে তৈরি করা হল নতুন মন্দির কমিটি।
প্রসঙ্গত, পূর্বতন মন্দির কমিটির বিরুদ্ধে টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তের কাজ চলাকালীনই বুধবার রাতে তারাপীঠ মন্দিরের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। ১৫ জনের নতুন কমিটিতে আপাতত সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ মনোনীত হয়েছেন। নতুন সভাপতি হয়েছেন মন্দির কমিটির দীর্ঘদিনের সেবায়েত তথা বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, সম্পাদক হয়েছেন বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য পুলক চট্টোপাধ্যায় এবং কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন তারক চট্টোপাধ্যায়। বাকি ১২ জন সদস্যের নাম এখনও ঠিক হয়নি।
নতুন কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক দিন থেকেই পুরনো কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়ে এসেছেন। মন্দিরের উন্নয়নের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগও করেছেন বরাবর। বুধবার তারাপীঠ মন্দিরের আদি ১২টি সেবায়েত পরিবারের সদস্য দেড় শতাধিক সেবায়েতের উপস্থিতিতে মন্দির চত্বরে নতুন কমিটি গঠনের বৈঠক হয়। নিখিলের দাবি, সাধারণ দর্শনার্থীরা পুজো দিতে এসে যাতে হয়রান না হন, নতুন মন্দির কমিটি তা দেখতে যথার্থ ভাবে দায়িত্ব পালন করবে। মন্দিরের পুজো সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করতেও দায়বদ্ধ থাকবে। মন্দিরের উন্নয়নের টাকা যথার্থ কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নতুন কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে পুরনো কমিটি মন্দিরের উন্নয়ন নিয়ে সাধারণ সভা ডাকত না। নতুন কমিটি মন্দিরের দায়িত্ব নেওয়ার পরে প্রতি বছর সাধারণ সভা ডেকে উন্নয়নের টাকার হিসেব তুলে ধরবে।’’
বুধবারের বৈঠকে পুরনো কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘‘আমরা দু’বছর আগেই মন্দিরের উপদেষ্টা কমিটির হাতে মন্দির দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছি। এখন নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। তাদের স্বাগত জানাই।’’ উপদেষ্টা কমিটির প্রধান বামাপদ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দু’বছর থেকে মন্দিরের যাবতীয় উন্নয়নের কাজ দেখভাল করছি। বর্তমানে দু’বছরের কাজের হিসা নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।’’ কেন তার আগের বছরগুলির হিসাব নিয়েও তদন্ত হবে না, সে প্রশ্নও তুলেছেন বামাপদ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)