মঙ্গলবার রামপুরহাটের বিনোদপুরে সভা করবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য মা হওয়া পরিযায়ী শ্রমিক সুনালী খাতুনের সঙ্গেও রামপুরহাট মেডিক্যালে তাঁর দেখা করার কথা। সুনালী-সহ জেলা তথা রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারকে বার্তা দেওয়াও রামপুরহাটে সভাস্থল ঠিক করার একটা কারণ বলে চর্চা চলছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।
বীরভূমের রামপুরহাট মহকুমায় কার্যত পাঁচটি বিধানসভা রয়েছে। তার মধ্যে নলহাটি ও মুরারইয়ের যথেষ্ট সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। বীরভূম লাগোয়া মুর্শিদাবাদেও বহু পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। গত কয়েক মাস ধরেই বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশি তকমা দিয়ে জোর করে ভিন্ রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সুনালীকেও দিল্লি থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মুরারইয়ের পাইকরের বাসিন্দা সুনালী ও তাঁর এক সন্তানকে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে ভারতে ফেরানো হলেও সুনালীর স্বামী দানিশ শেখ, আরও এক পরিযায়ী শ্রমিক সুইটি বিবি ও তাঁর দুই নাবালক সন্তান এখনও বাংলাদেশে। পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে নির্যাতন নিয়ে তৃণমূল বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। তাই সুনালীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পরিযায়ীদের নিরাপত্তার বার্তা দিতেও অভিষেক রামপুরহাটকে বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিরোধীদের অনেকের দাবি, হুমায়ন কবীর, নওসাদ সিদ্দিকীর উপস্থিতির জেরে সংখ্যালঘু ভোটে ফাটল ধরতে পারে। ফলে মুর্শিদাবাদ লাগায়ো বীরভূমের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত তিনটি আসন হাঁসন, নলহাটি এবং মুরারইয়ে যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে তা নিশ্চিত করতে চায় তৃণমূল। অনেকের দাবি, তৃণমূলের পক্ষে অন্যতম ‘কঠিন’ আসনগুলির মধ্যে রামপুরহাট রয়েছে। রয়েছে ময়ূরেশ্বরও। তাই সে সব নজরে রেখেও রামপুরহাটে সভা ঠিক করা হতে পারে।
জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন ও রামপুরহাটের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য রামপুরহাটকে কঠিন মানতে নারাজ। তিনি বলছেন, ‘‘পাঁচ বারের জেতা আসন জেলার একটিই। সেটি রামপুরহাট।’’ সংখ্যালঘু ও পরিযায়ী অধ্যুষিত আসন নিয়েও বিন্দুমাত্র চিন্তার কারণ নেই বলেই দাবি তৃণমূলের। তাদের বক্তব্য, গোড়া থেকে কারা পরিযায়ীদের পাশে থেকেছে, আইনি লড়াই করে সুনালীকে ফিরিয়ে এনেছে তা মানুষ দেখেছে। আশিস বলছেন, ‘‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ যে শাসক দলের উন্নয়নের সঙ্গে আছেন, তা বারবার সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এখানে হুমায়ুন নওসাদ কোনও ফ্যাক্টর হবে না।’’
রামপুরহাট বাছার কারণ হিসেবে আশিস বলছেন, ‘‘আমার মনে হয়, শুধুমাত্র সাংগঠনিক বিষষ়ের কথা মাথায় রেখেই রামপুরহাটকে বাছা হয়েছে। কারণ রামপুরহাটে সভা করলে মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমানকে যুক্ত করা সুবিধা।’’ বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা বলছেন, ‘‘বীরভূমের ১১টি আসনই শাসক দলের কাছে স্পর্শকাতর। সংখ্যালঘু মানুষ শাসক দলের থেকে মুখ ফিরিয়েছে। রামপুরহাট এ বার হাতছাড়া হবে। শুধু অভিষেক নন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলেও ফল বদলাতে পারবেন না।’’
পুলিশ প্রশাসন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে যেটা জানা যাচ্ছে মঙ্গলবার তারাপীঠে ঢোকার আগে চিলার মাঠে হেলিপ্যাড থেকে নেমে সাড়ে বারোটা নাগাদ তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দেওয়ার কথা। দুপুর দেড়টা নাগাদ বিনোদপুরে সভাস্থলের মাঠে উপস্থিত হওয়ার কথা। বেলা আড়াইটে নাগাদ রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে সদ্য মা সুনালী খাতুনের সঙ্গে দেখা করার কথা অভিষেকের।
সোমবার দুপুরে সোমবার দুপুরে জেলাশাসক ধবল জৈন ও জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ অভিষেকের সভাস্থল পরিদর্শন করেন। রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বর পরিদর্শন করেন প্রাক্তন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পরাগ নিয়োগী এবং রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক গোবিন্দ সিকদার। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সভাস্থলে দলীয় কর্মীদের জন্য তিনটি আলাদা আলাদা মঞ্চ করা হয়েছে। সেখানে দলের ব্লক সভাপতিরা-সহ দলের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বরা উপস্থিত থাকবেন। অভিষেকের সভার জন্য জেলার বিভিন্ন থানা সহ এবং জেলার বাইরে বিভিন্ন থানা থেকে সর্বমোট ৪ হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। জাতীয় সড়কের ধারে সভাস্থল যাওয়ার পথের দুধারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় বড় কাট আউট এবং দলীয় পতাকা টাঙানো হয়েছে শাসক দলের উদ্যোগে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)