কারখানার দরজা আটকে বিক্ষোভ দেখাল তৃণমূল। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটির নিধিরামপুর গ্রামের একটি স্টিলের বিলেট তৈরির কারখানার ঘটনা। শ্রমিকেরা কারখানায় ঢুকতে না পারায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ কারখানা কর্তৃপক্ষের। দুপুরের পরে, বিক্ষোভ উঠলে শ্রমিকেরা কারখানায় ঢোকেন। জেলা পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার বলেন, “কারখানায় বিক্ষোভের খবর পেয়েই পুলিশ গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে নির্দিষ্ট অভিযোগ করা হলে তদন্ত হবে।”
স্থানীয় সূ্ত্রে জানা যায়, এ দিন সকাল থেকে গঙ্গাজলঘাটি পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা গঙ্গাজলঘাটি ব্লক তৃণমূলের সম্পাদক নিমাই মাজির নেতৃত্বে কারখানার প্রবেশপথের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখানে স্থানীয়দের কারখানায় কাজ না দেওয়া, গ্রামের রাস্তা দিয়ে অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে গাড়ি চলাচল, মাটির তলার জল চুরি করে কারখানায় ব্যবহার করা-সহ নানা অভিযোগ তোলা হয়।
কারখানার জেনারেল ম্যানেজার রাজেশ পুরুষোত্তমের অভিযোগ, “সকাল থেকে কারখানার মূল দরজা অবরুদ্ধ করে তৃণমূল বিক্ষোভ দেখিয়েছে। আমাদের শ্রমিকেরা ভেতরে ঢুকতে পারেননি। দৈনিক ২০০ টন মাল উৎপাদিত হয়। বিকেল পর্যন্ত কাজই শুরু করা যায়নি আন্দোলনের জেরে।” তাঁর আরও দাবি, “পুলিশকে সমস্যার কথা জানিয়েছিলাম। অথচ, কোনও সাহায্য করা হয়নি। জেলা তৃণমূল সভাপতি ও শাসকদলের রাজ্য নেতৃত্বকেও বিষয়টি জানিয়েছি।”
নিমাইবাবুর অবশ্য দাবি, “কারখানা বন্ধ করে আমরা কোনও আন্দোলন করিনি। শ্রমিকদের যাতায়াতেও কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের কাজে না নেওয়ায় গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ। সে সঙ্গে নানা বেআইনি কাজ হচ্ছে এখানে। এ সবের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ভাবে আমরা আন্দোলন করেছি।” অভিযোগ অস্বীকার করে রাজেশবাবুর দাবি, ‘‘কারখানার ১২০ জন শ্রমিকের মধ্যে ৭২ জনই স্থানীয়। আর আমরা কোনও নিয়মবিরুদ্ধ কাজ করলে, প্রশাসনিক তদন্ত হোক।”
এ দিকে, শাসকদলের কারখানার দরজা আটকে আন্দোলনের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্র বলেন, “রাজ্যের শাসকদলের নেতাদের আচরণের জেরে শিল্প ক্ষেত্রে গোটা দেশের কাছে রাজ্যের মুখ পুড়ছে। ওদের চরিত্র বদল না হলে আগামী দিনেও ভাল কিছু হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না।”
জেলা তৃণমূল সভাপতি শ্যামল সাঁতরার অবশ্য দাবি, “কারখানার দরজা আটকে বিক্ষোভ দেখানো দলের নীতির পরিপন্থী। বিক্ষোভকারীরা কোনও শ্রমিককেই আটকাননি বলে জানিয়েছেন। তবে প্রকৃতপক্ষে কী হয়েছে, তা দলীয় ভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কেউ দলের নীতি ভাঙলে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”