E-Paper

পাঠাভ্যাস ফেরাতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার

পাঠক গ্রন্থাগারের কাছে না আসলে গ্রন্থাগারই পৌঁছে যাবে পাঠকের কাছে। এই ভাবনা থেকেই শুরু হল ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বইওয়ালা’।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০২
সিউড়ির নগরীতে উদ্বোধন হল ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার, বুধবার।

সিউড়ির নগরীতে উদ্বোধন হল ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার, বুধবার। নিজস্ব চিত্র ।

বই পড়ার অভ্যাস হারিয়ে যেতে বসেছে বর্তমান প্রজন্মের এক বড় অংশের মধ্যে। গ্রাম হোক বা শহর চিত্রটা প্রায় সর্বত্রই একই। জেলা গ্রন্থাগার থেকে শুরু করে গ্রামীণ পাঠাগার, কোথাওই আর আগের মতো পাঠকের ভিড় চোখে পড়ে না। মোবাইল ফোন, সামজ মাধ্যম ও ডিজিটাল বিনোদনের দাপটে বই পড়া যেন ধীরে ধীরে পিছনের সারিতে চলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পাঠাভ্যাসকে জীবন্ত করে তুলতে সিউড়ির অরুণজ্যোতি পাঠাগার উদ্যোগী হল।

পাঠক গ্রন্থাগারের কাছে না আসলে গ্রন্থাগারই পৌঁছে যাবে পাঠকের কাছে। এই ভাবনা থেকেই শুরু হল ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বইওয়ালা’। বুধবার সিউড়ি ১ ব্লকের নগরী সুধাংশুবদনী শিক্ষা নিকেতন থেকে এই ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের সূচনা করা হয়। বাংলা ও ইংরেজি ভাষার নানা ধরনের গল্পের বই, কিশোর সাহিত্য, বিজ্ঞান, সাধারণ জ্ঞান ও মননশীল পাঠ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে এই গ্রন্থাগারটি। সব বয়সের পাঠকের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে বইয়ের সম্ভার।

এই উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে অরুণ চৌধুরী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। পাশাপাশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। উদ্যোক্তাদের মতে, কেবল পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে মননের বিকাশ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি হলেই কল্পনা, যুক্তিবোধ ও মানবিকতা বিকশিত হয়।

‘বইওয়ালা’-র অন্যতম উদ্যোক্তা শুভাশিস গড়াই বলেন, “ইদানীং ছেলেমেয়েরা বই পড়তে উৎসাহী নয়। কৃতী পড়ুয়াদের অনেকে পাঠ্য বইয়ের বাইরে বই পড়ে না। গ্রন্থ পাঠের অভ্যাস ফিরিয়ে আনতেই বইকে হাতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটা প্রয়াস করা হচ্ছে।”

উদ্যোক্তারা জানান, প্রাথমিক ভাবে নগরী, গজালপুর, মাজিগ্রাম-সহ সিউড়ি ১ ও সিউড়ি ২ ব্লকের মোট দশটি গ্রামে এই ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার যাবে। প্রতি সপ্তাহের শনি ও রবিবার নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে পাঠকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে। বই পড়ার পাশাপাশি শিশুদের সঙ্গে আলোচনা, বই বাছাইয়ে সহায়তা ও পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নগরী সুধাংশুবদনী শিক্ষা নিকেতনের শিক্ষক সমর্পণ ভট্টাচার্য বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে দাঁড়িয়ে বইয়ের প্রতি আগ্রহ ফেরানোর এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। অরুণজ্যোতি পাঠাগারের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার শুধু বই পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নয়, বরং একটি হারিয়ে যেতে বসা পাঠসংস্কৃতিকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার সামাজিক আন্দোলন।”

এই প্রচেষ্টা সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই কর্মসূচি হবে বলে আশা উদ্যোক্তাদের।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Suri

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy