Advertisement
E-Paper

বাবাকে খুনের অভিযোগ

স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ক’দিন আগেই জামিন পেয়ে গ্রামে ফিরে এক ভাগ্নের বাড়িতে থাকতে শুরু করেছিলেন। মসজিদ থেকে নমাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে সেই প্রৌঢ়কেই নৃশংস ভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁরই নিজের ছেলেদের বিরুদ্ধে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০১৬ ০০:০০
দর্জিপাড়ায় এই নালাতেই পড়েছিল নিহত সাওলাদ শেখের ক্ষতবিক্ষত দেহ। —নিজস্ব চিত্র

দর্জিপাড়ায় এই নালাতেই পড়েছিল নিহত সাওলাদ শেখের ক্ষতবিক্ষত দেহ। —নিজস্ব চিত্র

স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ক’দিন আগেই জামিন পেয়ে গ্রামে ফিরে এক ভাগ্নের বাড়িতে থাকতে শুরু করেছিলেন। মসজিদ থেকে নমাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে সেই প্রৌঢ়কেই নৃশংস ভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁরই নিজের ছেলেদের বিরুদ্ধে।

সোমবার রাতে মাড়গ্রামের দর্জিপাড়ার ঘটনা। পুলিশ জানায়, নিহতের নাম সাওলাদ শেখ (৫২)। বাড়ি মাড়গ্রামের খানকাশরিফ এলাকায় হলেও সম্প্রতি দর্জিপাড়ায় ভাগ্নের বাড়িতে থাকতেন তিনি। সেই বাড়িরই অদূরে রাস্তার ধারে একটি নালা থেকে ওই প্রৌঢ়ের গলার নলিকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় নিহতের চার ছেলে-সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভাগ্নে সিলন শেখ। নীলচাঁদ শেখ নামে সাওলাদের সম্পর্কে এক ভাগ্নেকে আটক করেছে পুলিশ। বাকিরা পলাতক বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, গত বছর ১৫ অগস্ট খুন হন গ্রামেরই খানকাশরিফের সেরিফা বিবি। ঘটনার পরে থানায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন তাঁর স্বামী পেশায় ক্ষুদ্র চাষি সাওলাদ। স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে তার পর থেকেই জেল হাজতে থাকা ওই প্রৌঢ় মাস দুয়েক আগে জামিন পেয়ে ভাগ্নের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। পরিজনদের দাবি, জামিন পেয়ে ফিরে বেশির ভাগ সময় ধর্মকর্ম নিয়েই থাকতেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় নমাজ পড়ার জন্য বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে মাড়গ্রামের বড় মসজিদে গিয়েছিলেন। রাতে ভাগ্নের বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরে কবরস্থান লাগোয়া এলাকায় রাস্তার ধারে বাসিন্দাদের একাংশ তাঁর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, নমাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথেই ওই প্রৌঢ়কে খুন করা হয়েছে। দুষ্কৃতীরা অন্ধকারে কোনও একটি জায়গায় ওঁত পেতে ছিল। সাইকেল চালিয়ে কবরস্থান পেরিয়ে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতীরা বেরিয়ে এসে সাওলাদের উপরে হামলা চালায়। পুলিশ জানায়, মৃতদেহে মাথার পিছনে ধারাল অস্ত্রের কোপ রয়েছে। কোপ রয়েছে ঘাড়ের কাছেও। ছুরি বা চাকু জাতীয় ধারাল অস্ত্র দিয়ে প্রৌঢ়ের গলার নলিও কেটে দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দূর থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার কানে এলেও রাস্তার উপর ঠিক কী ঘটছে, তা কেউ-ই ঠাওর করতে পারেননি।

মঙ্গলবার সকালে এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, নালার কাদাজলে তখনও রক্তের দাগ। ঘটনাস্থলকে ঘিরে জনতার ভিড়। সাওলাদের ভাগ্নের বাড়িতে গিয়ে দেখা মিলল শিলনের স্ত্রী নুরনেহার বিবির। নুরনেহার জানান, সাওলাদের পাঁচ ছেলেমেয়ে। মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পরে খানকাশরিফ এলাকায় তিন ছেলের সঙ্গে থাকতেন সাওলাদ। বড় ছেলে আসগার আলাদা থাকতেন। সেরিফার খুনের পরে প্রায় এক বছর জেলে খেটে সম্প্রতি জামিন পেয়ে তাঁদের বাড়িতে উঠেছিলেন সাওলাদ। নুরনেহারের দাবি, ‘‘সাওলাদের দুই ছেলে মাঝে মধ্যেই মুম্বইয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে যেতেন। বাবার হাতে মায়ের খুনের পরে ওঁরা আর বাইরে কাজ যাননি। ওঁরা মায়ের খুনের প্রতিশোধ নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে রাস্তায় বলে বেরাতেন।’’ তাঁর অভিযোগ, জেলে থাকাকালীন বাবার নামে থাকা সাড়ে তিন বিঘা জমি জাল দলিল বানিয়ে নিজেদের নামে করে নিয়েছে সাওলাদের চার ছেলে। জামিন পেয়ে গ্রামে ফিরে সেই জমি পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতে মামলাও করেছিলেন সাওলাদ। আজ, বুধবারই সেই মামলার শুনানি ছিল। তার আগেই ছেলেরা তাঁকে খুন করল বলে নিহতের ভাগ্নের দাবি।

এ দিন খানকাশরিফ এলাকায় অভিযুক্ত চার ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে কারও দেখা মেলেনি। প্রত্যেকের বাড়িতেই তালা ঝুলছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশেরও অনুমান, মায়ের খুনের বদলা নিতে এবং জমি সংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমার জেরে ছেলেরাই বাবাকে খুন করে থাকতে পারেন। এক অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy