Advertisement
E-Paper

অমিত হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ফের পিছোল

যিনি মূল অভিযোগকারী, সাক্ষ্যদানে তিনিই অনুপস্থিত! তাই ফের পিছিয়ে গেল সাব ইন্সপেক্টর অমিত চক্রবর্তী হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব। যেহেতু মূল অভিযোগকারীর সাক্ষ্যগ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই, সেই কারণে সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত সূচি বাতিল করে দেওয়া হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৬ ০৪:০৬

যিনি মূল অভিযোগকারী, সাক্ষ্যদানে তিনিই অনুপস্থিত! তাই ফের পিছিয়ে গেল সাব ইন্সপেক্টর অমিত চক্রবর্তী হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব।

যেহেতু মূল অভিযোগকারীর সাক্ষ্যগ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই, সেই কারণে সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত সূচি বাতিল করে দেওয়া হয়। চলতি মাসের ২৮ তারিখ নতুন করে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন বিচারক। মঙ্গলবার সিউড়ির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্যের এজলাসের ঘটনা।

গত ১৯ জানুয়ারি দুবরাজপুরের সাব ইন্সপেক্টর অমিত চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের চার্জ গঠন হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে পরপর তিন বার নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণের দিন বাতিল করতে হল। কখনও সরকারি আইনজীবীর দায়িত্বে কেউ নেই। কখনও বা ধৃত এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়নি। এবার অভিযোগকারীর অনুপস্থিতি। মামলরা সরকারি আইনজীবী তপন গোস্বামী বলেন, ‘‘তৎকালীন দুবরাজপুর থানার ওসি ত্রিদীপ প্রামাণিক যিনি মামলার অভিযোগকারী তিনি বর্তমানে বাঁকুড়ায় কর্মরত। একটি বিশেষ পুলিশি অভিযানে রাজস্থানে গিয়েছেন। তাই তিনি আদালতে উপস্থিত থাকবেন না এই মর্মে আদালতে আবেদন করে জানিয়েছেন। সবদিক বিবেচনা করে সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে দিয়েছেন বিচারক। মঙ্গল থেকে বৃহস্পতি, তিনদিন সাক্ষ্যের দিন ধার্য হয়েছিল।’’


হতাশায় কান্না। নিহতের স্ত্রী পুতুলদেবী। নিজস্ব চিত্র।

কী ঘটেছিল ২০১৪ সালের ৩ জুন?

দুবরাজপুরের যশপুর পঞ্চায়েতের আউলিয়া-গোপালপুর গ্রামে ১০০ দিন প্রকল্পে একটি পুকুর সংস্কার করাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও সিপিএমের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমার আঘাতে মারাত্মক জখম হয়েছিলেন দুবরাজপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর অমিত চক্রবর্তী। দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অমিতবাবু মারা যান ওই বছর ২৮ জুলাই। পুলিশ সিপিএম তৃণমূলের ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আলিম শেখ-সহ সিংহভাগই শাসকদলের। গ্রেফতার হয়েছিলেন এক নাবালক-সহ মাত্র ১৭ জন। ধৃতদের মধ্যে একজন মারা গিয়েছেন। চার্জ গঠনের পর পুলিশ আর এক জনকে গ্রেফতার করে। নাবালককে বাদ দিয়ে মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছে। কিন্তু এভাবে বারবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন পিছিয়ে যাওয়ায় অভিযুক্তদের অত্মীয়স্বজনের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের স্ত্রী ও অন্যজনের শিশু কন্যা অসুস্থ থাকায় তাঁদের জামিন দেওয়া হবে কিনা সংশ্লিষ্ট দুবরাজপুর থানার ওসির কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছিলেন বিচারক। এ দিনও দুটি জামিনের অবেদনই খারিজ করে দেন। তবে শিশুকন্যার অসুস্থতা সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে চেয়েছেন। এ ভাবে বারবার সাক্ষ্য পিছিয়ে যাওয়ায় হতাশ অভিযুক্তদের পরিবার।

ধৈর্য হারিয়ে আদালতের বাইরে এসে কেঁদে ফেলেন অমিতবাবুর স্ত্রী পুতুল সরকার চক্রবর্তীও। একটু পরে নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সাক্ষ্য দিতে আসতে পারেননি তৎকালীন ওসি ত্রিদীপ প্রামাণিক সেটা হতেই পরে। পুলিশের কাজটাই এমন। কিন্তু নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর অভিযুক্তদের ধরার ব্যাপারে তৎপরতা শুরু হয়। তবু কেন আমার স্বামী খুনে অধিকাংশ অভিযুক্তদের পুলিশ ধরতে পারছে না সেটা মেনে নিতে পারছি না। এটা পুলিশের ব্যর্থতা। পুলিশসুপার এর দায় এড়াতে পারেন না।’’

এ ব্যাপারে পুলিশসুপার মুকেশ কুমারের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy