E-Paper

সোনা-টাকার লোভেই খুন, দাবি বোনের

সোমবার সাঁইথিয়ার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেহুলাপাড়ায় নিজের বাড়ি থেকেই সকাল ১১টা নাগাদ উদ্ধার হয় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী গীতা দত্তের (৫১) দেহ।

পাপাই বাগদি

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৬
মৃত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী গীতা দত্ত।

মৃত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী গীতা দত্ত। ফাইল চিত্র।

সাঁইথিয়ার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর গীতা দত্তের খুনের ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মোবাইলের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেছে সাঁইথিয়া থানার পুলিশ। তবে খুনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশায় মৃতের পরিজন ও পুলিশ। তবে, নিহতের বোনের দাবি, নগদ টাকা ও সোনার গয়না হাতানোর উদ্দেশ্যেই পরিচিত কেউ বা কারা খুন করেছে গীতাকে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সাঁইথিয়ার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেহুলাপাড়ায় নিজের বাড়ি থেকেই সকাল ১১টা নাগাদ উদ্ধার হয় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী গীতা দত্তের (৫১) দেহ। ঘটনার পরে পরিবারের পক্ষ থেকে সাঁইথিয়া থানায় খুনের লিখিত অভিযোগ করা হয়। বাড়ি থেকে গীতার মোবাইল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘিরে রাখা হয়েছে ওই বাড়িটিকে। উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের আসতে বলা হয়েছে। বীরভূমের পুলিশ সুপার আমনদীপ মঙ্গলবার বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত অনেকটাই এগিয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত অপরাধী ধরা পড়বে।”

পরিবারের দাবি, চুরির কারণেই খুন হতে হয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী গীতা দত্তকে। গত বছর সাঁইথিয়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ১৬ নম্বরের বেহুলাপাড়ার নতুন বাড়িতে উঠে গিয়েছিলেন গীতা। বাড়িটি ফাঁকা জায়গায়। বোন রীতা দে প্রায়ই এসে দিদির সঙ্গে থাকতেন। রীতার দাবি, সন্ধ্যা হয়ে গেলে বা কেউ ডাকলে হঠাৎ করে দরজা খুলতেন না গীতা। দরজার পাশের জানলা থেকেই কথা বলতেন। রীতা বলেন, ‘‘আমাদের ধারণা, পরিচিত কেউ এই ঘটনা ঘটিয়েছে। যাকে বিশ্বাস করে দিদি দরজা খুলে দিয়েছিল। আমরা এ কথা পুলিশকে জানিয়েছি।’’

রীতার দাবি, তাঁর দিদিকে টাকা ও সোনার লোভে খুন করা হয়েছে। কারণ, গীতার বাড়িতে নগদ কয়েক হাজার হাজার টাকার পাশাপাশি দিদি-বোনের ও তাঁদের মায়ের সোনার অলঙ্কার ছিল। সেগুলি একটাও নেই। এ ছাড়াও বেশ কিছু নথি ও ব্যাঙ্কের পাসবইও পাওয়া যাচ্ছে না বলে রীতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘খুব পরিচিত কেউ না হলে দিদি কাউকে সচরাচর বাড়িতে ঢুকতে দেয় না। কোনও কিছু নেওয়ার অজুহাতে দিদির বাড়িতে খুব পরিচিত কেই সোমবার রাতে ঢুকেছিল বলে আমার সন্দেহ। তার পরে দিদিকে মেরে আলমারি থেকে টাকা-গয়না চুরি করে নিয়ে পালিয়েছে।’’ রীতার দাবি, যে এই কাজ করেছে, সে জানে গীতা আলমারির চাবি কোথায় রাখেন। তাই আলমারি ভাঙা হয়নি। চাবি দিয়ে আলমারি খুলে সমস্ত নেওয়া হয়েছে।

গীতার প্রতিবেশী প্রীতি ঘোষ মোদী বলেন, “ঘটনার পর থেকে আমরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনার কথা শুনেছি। এই এলাকায় এমন ঘটনা এর আগে কোনও দিন ঘটেনি। ফলে ভয়ের মধ্যেই রয়েছি। আমরাও দিনের বেশির ভাগ সময় বাড়িতে একাই থাকি। তাই আমরা চাই, পুলিশ দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুক।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

sainthia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy