ভোটের মুখে থমকে গেল সুবর্ণরেখা জল প্রকল্পের কাজ। ঝালদার পুরভবন ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত কিছু দিন ধরে তুলিন থেকে ঝালদা শহর পর্যন্ত মূল পাইপলাইন ও শহরের ভেতরে কয়েকটি ওয়ার্ডে কাজ পুরোপুরি থমকে রয়েছে। জমিজটের জেরে ওই পরিস্থিতি বলে খবর সূত্রের। পাশাপাশি, কিছু ওয়ার্ডে বাসিন্দাদের তরফে পাইপ নিয়ে ও খোঁড়াখুঁড়ির পরে রাস্তা মেরামতের দাবিও কাজ থমকে থাকার কারণ হতে পারে বলে মত শহরবাসীর একাংশের। জমি সংক্রান্ত সমস্যার কথা মেনে তৃণমূলের পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়াল বলেন, “বড় প্রকল্প রূপায়ণে কিছু সমস্যা থাকে। দ্রুত সেগুলি মিটিয়ে কাজ ফের শুরু হবে।” পাইপ পাতার জন্য শহরের খোঁড়া রাস্তাও দ্রুত মেরামত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুরপ্রধানের আশ্বাসের পরেও প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দিহান শহরবাসীর অনেকে। উল্টো দিকে দলেরই অন্দরে এ নিয়ে ভিন্ন মত উঠে আসায় ভোটের মুখে তৃণমূলের ঝালদা শহর নেতৃত্বের মধ্যে কোন্দলের আঁচ পাচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। ঝালদা শহর তৃণমূল সভাপতি সোমনাথ কর্মকারের দাবি, “এত বড় একটা প্রকল্প। অথচ সেই প্রকল্পের কাজ রূপায়ণ করতে গিয়ে উনি (সুরেশ) কারও সঙ্গে আলোচনা করলেন না। জল তোলার পরিকাঠামো, রিজ়ার্ভার তৈরি, পরিশোধন কেন্দ্র কিছুই হল না। উল্টে পাইপ বসাতে গিয়ে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডের রাস্তা খুঁড়ে মানুষজনকে বিড়ম্বনায় ফেলা হল।” কাজের প্রতি ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে বলে দাবি তাঁর। যদিও সেই অভিযোগ মানতে চাননি সুরেশ।
শাসক দলের অভ্যন্তরে কোন্দলের হাওয়াকে নিজেদের পালে টানার সুযোগ হাতছাড়া করছে না বিরোধীরাও। বিজেপির রাজ্য নেতা বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর কটাক্ষ, “গোড়া থেকেই বলে আসছি, এই সরকারের আমলে মানুষের ভাল কিছু হবে না। সামনে ভোট। তাই ঝালদা শহরের মানুষকে জলের ললিপপ দেখানো হচ্ছে। ভোটপর্ব মিটলে এমনিতেও আর কাজ হত না।”
ঝালদা শহরে সুবর্ণরেখা জল প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি অনেক দিনের। তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার অম্রুত ২-এ অধীনে ওই প্রকল্প হাতে নেয়। টাকা বরাদ্দের পরে দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়া মিটে যাওয়ায় গত বছর মে নাগাদ পুরোদমে শুরু হয় কাজ। গোড়ায় দ্রুততার সঙ্গেই কাজ চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এই পরিস্থিতি। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি তোলা শহরের বাসিন্দা চাঁদনী কর্মকার, রেখা হালদারেরা বলেন, “রাজনীতির কচকচানি বুঝি না। সরকার টাকা দিয়েছে। অবিলম্বে প্রকল্পের কাজ শেষ করে শহরের ঘরে ঘরে জলদিতে হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)