রাজ্যের পাশের হারকে ছাপিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে জেলায় পাশের হার হল ৯৮.৫৬ শতাংশ। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে জেলায় অন্তত পাঁচ জন পরীক্ষার্থী সেরা কৃতীদের তালিকায় রয়েছেন।
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস জানান, এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে পাশের হার ৯৭.৬৯ শতাংশ। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কোনও পরীক্ষা না হওয়ায় মাধ্যমিকের মতো উচ্চ মাধ্যমিকেও কোনও মেধাতালিকা ঘোষণা করা হয়নি। সর্বোচ্চ নম্বর ৪৯৯। প্রথম দশে নাম রয়েছে ৮৬ জনের। ৯০ শতাংশের বেশি পেয়েছে ৯ হাজার জনের বেশি।
সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূমে এই বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ২৮৩০১ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ১২৬৯০ এবং ছাত্রী ১৫৬১১ জন। ২৭৮৯৪ জন পাশ করেছেন। তার মধ্যে ছাত্র ১২৫১২ জন এবং ছাত্রী ১৫৩৮২ জন। বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে এই বছর জেলার অন্তত পাঁচ জন পরীক্ষার্থী এক থেকে দশের মধ্যে রয়েছেন।
স্কুলগুলি থেকে বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে, রামপুরহাট হাইস্কুলের দুই ছাত্র সাবর্ণী চট্টোপাধ্যায় এবং বঙ্গাব্দ দাস ৪৯৮ নম্বর পেয়েছেন। মুরারই অক্ষয় কুমার ইনস্টিটিউশনের ছাত্র সৌরভ নন্দীর প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৭। অন্য দিকে, বীরভূম জেলা স্কুলের ছাত্র পুষ্পল হাজরা ৪৯২ পেয়েছেন। দুবরাজপুর শ্রী শ্রী সারদা বিদ্যাপীঠের ছাত্র সপ্তর্ষী মণ্ডলের প্রাপ্ত নম্বর ৪৯০।
ফল প্রকাশের পরে শিক্ষা সংসদের সভাপতি জানান, অনেক স্কুল তড়িঘড়ি একাদশ শ্রেণির নম্বর পর্ষদে পাঠিয়েছে। তাই কোনও পরীক্ষার্থীর যদি মনে হয় যে নম্বর ঠিক হয়নি তা হলে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অনলাইনে পাঠানো কপি ও পরীক্ষার্থীর একাদশ শ্রেণির পরীক্ষার খাতা নিয়ে কাউন্সিলের অফিসে দেখা করার জন্য বলা হয়েছে। এর আগে জেলার একাধিক স্কুলে একাদশের নম্বর নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ে একাদশের মার্কশিট জমা দেওয়া হয়নি বলে জেলার শতাধিক স্কুলকে নোটিশ পাঠিয়েছিল সংসদ।
এ দিকে, মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পরে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির সুযোগ মিলবে কিনা সেই সংশয় তৈরি হয়েছিল। অত সংখ্যক পড়ুয়াকে পছন্দের বিষয় এবং স্কুল দেওয়া নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল তা আবার ফিরেছে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পরে। উত্তীর্ণ পড়ুয়া থেকে অভিভাবকদের অনেকে ভাবছেন, নম্বর পেলেও পছন্দের কলেজে পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ মিলবে তো?