Advertisement
E-Paper

Bankura University: সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে

সম্প্রতি দিল্লিবাসী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী সান্দীপনি ভট্টাচার্য তাঁর সংগ্রহে থাকা এই প্রত্ন বস্তুগুলি বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করেছেন।

তারাশঙ্কর গুপ্ত

শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:০৫
পুরাতত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতি বিষয়ক সংগ্রহশালায় নতুন সংযোজন।

পুরাতত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতি বিষয়ক সংগ্রহশালায় নতুন সংযোজন। নিজস্ব চিত্র।

বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতি বিষয়ক সংগ্রহশালায় এ বার যুক্ত হল সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন। সম্প্রতি দিল্লিবাসী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী সান্দীপনি ভট্টাচার্য তাঁর সংগ্রহে থাকা এই প্রত্ন বস্তুগুলি বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করেছেন।

বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগ্রহশালার ভান্ডার ভরছে শুনে খুশি ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের কলকাতা মণ্ডলের সুপারিন্টেডেন্ট আর্কিওলজিস্ট শুভ মজুমদার। সান্দীপনিবাবুর দান করা উপকরণের ছবি দেখে তিনি বলেন, ‘‘সেগুলির কয়েকটি সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন। এতে বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা আরও সমৃদ্ধ হল। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই এমন উদ্যোগী হওয়া জরুরি। বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিষয়ে যথেষ্ট উদ্যোগী হয়েছে। অনেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ দিয়ে সাহায্য করেছেন। সংগ্রহশালা সমাজের সম্পদ হিসাবে বিবেচ্য হয়।’’

বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ক্রমশ সমৃদ্ধ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা। মানুষজন ঐতিহাসিক সামগ্রী দিতে এগিয়ে আসায় এটা সম্ভব হচ্ছে।’’

আদতে নৈহাটির কাঁঠালপাড়ার বাসিন্দা সান্দীপনিবাবুর নেশাই হল সিন্ধু সভ্যতা অঞ্চলে ক্ষেত্রসমীক্ষা করে নানা প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান সংগ্রহ করা। তাঁর সেই সংগ্রহেরই একটি অংশ পেয়েছে বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়। সান্দীপনিবাবু বলেন, ‘‘বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে সিন্ধু সভ্যতার সময়ের পোড়ামাটির নানা ধরনের মৃৎপাত্রের অংশ বিশেষ দিয়েছি। সে কালের আঁকা মৃৎপাত্রও আছে তার মধ্যে। রয়েছে টেরাকোটা-কেক।’’

তিনি জানান, সিন্ধু সভ্যতার এই উপকরণগুলি তিনি গুজরাত, হরিয়ানা প্রভৃতি রাজ্য থেকে তিনি সংগ্রহ করেছেন। তাঁর মতে, ‘‘বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় এই সব ঐতিহাসিক উপকরণ থাকলে ইতিহাস বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা হবে। সিন্ধু সভ্যতা নিয়ে কৌতূহলী ব্যক্তিরাও এই বিষয়ে চর্চা করতে পারবেন।’’

বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরাতত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতি বিষয়ক সংগ্রহশালা তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহে এসেছে প্রাচীন মুদ্রার সম্ভার ও বেশ কিছু প্রাচীন পুথি, মন্দিরের গায়ের টেরাকোটা কাজ, বেলিয়াতোড়ের ছান্দারে ‘অভিব্যক্তি’-র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত শিল্পী উৎপল চক্রবর্তীর সংগ্রহে থাকা বানগড় ও গৌড়ের নানা রকম পুরাবস্তু।

সম্প্রতি মালিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা অশেষ লেউকি তাঁর বাবা নন্দলাল লেউকির সংগ্রহ করা সুপ্রাচীন নবরত্ন মন্দিরের কৃষ্ণলীলা খোদাই করা প্রস্তরের ভাস্কর্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালাকে দিয়েছেন। অশেষবাবুর কথায়, ‘‘বাবা বহু কাল আগে এই সুন্দর প্রাচীন ভাস্কর্যটি সংগ্রহ করেছিলেন। এই ভাস্কর্যের উপযুক্ত স্থান হল বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা। ইতিহাস ও শিল্পকলার উপাদান হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের এটি কাজে আসবে ভেবে আনন্দ হচ্ছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy