বিজেপি কর্মীর মা ও স্ত্রীকে মারধর ও নিগ্রহের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
শনিবার মহম্মদবাজারের আঙ্গারগড়িয়া পঞ্চায়েতের গৌরনগর গ্রামের ঘটনা। বিজেপির দাবি, এ দিন সকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে এলাকার তৃণমূল কর্মীরা তাঁদের এক স্থানীয় কর্মীর মা ও স্ত্রীকে মারধর ও হেনস্থা করে। ওই বিজেপি কর্মীর স্ত্রী ছ’জনের নামে মহম্মদবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ জমা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকজনের নামে অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে অভিযোগে কোনও রাজনৈতিক দলের উল্লেখ নেই। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় বিজেপি নেতা আশিসকুমার মণ্ডল ও ব্লকের মণ্ডল কমিটির সম্পাদক মাধব মণ্ডল বলেন, ‘‘ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ গৌরনগর বাসস্ট্যান্ডে চেকগেট ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল মিথ্যা অভিযোগ এনে বিজেপির মণ্ডল সম্পাদক সন্তোষ ভান্ডারি-সহ বেশ কয়েকজনকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করায়। বর্তমানে তাঁরা সকলেই জেলে রয়েছেন। সেই সুযোগেই এ দিন সকালে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বরা তেমনই এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে গিয়ে অত্যাচার চালায়। ওই কর্মীর মা ও স্ত্রীকে মারধর করে ও হেনস্থার চেষ্টা করে।’’ ওই কর্মীর স্ত্রীর করা অভিযোগে রোহিতোষ মণ্ডল, মাখন মণ্ডল, তীর্থ মণ্ডল, সুকুমার বাগদি, বুদ্ধদেব বাগদি ও সুপ্রিয় মণ্ডলের নাম রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, তাঁরা এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে রহিতোষ মণ্ডল বলেন, ‘‘সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগ। এটা ওদের পারিবারিক ঘটনা। এর সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।’’ তাঁর পাল্টা অভিযোগ, কয়েকদিন আগে বিজেপি নেতৃত্বের কয়েকজন এসে চেকগেট ভাঙচুর করে ও তাঁদের মারধর করে। রহিতোষের কথায়, ‘‘আমি থানায় অভিযোগ করেছিলাম ও সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এখন ওদের বাড়ির দুই ছেলে জেলে রয়েছে। তাই নিজেদের পারিবারিক অশান্তির ঘটনায় আমাকে ফাঁসানোর জন্য আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।’’
অভিযোগ মানেননি তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তাপস সিংহও। তিনি বলেন, ‘‘আমি স্থানীয় কর্মীদের কাছে খোঁজ নিয়েছি। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। এটা ওদের পারিবারিক ঘটনা। এখন বিজেপি পারিবারিক ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে তৃণমূলের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে।’’