Advertisement
E-Paper

নিজের বাড়িতে থাকার জন্য ৫০ হাজার টাকা জরিমানা! বিজেপি কর্মীদের অর্থ ফেরালেন তৃণমূল নেতারা, শোরগোল

বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ’২৪ সালের লোকসভা ভোটের পর রাজনৈতিক সন্ত্রাসের জেরে বহু কর্মী ঘরছাড়া হন। পরে তাঁদের কেউ কেউ বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। কিন্তু নিজের এলাকায় ফেরার জন্য জরিমানা হিসাবে মোটা টাকা নিয়েছিলেন তৃণমূল নেতারা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ২০:৩০
BJP and TMC

বীরভূমে ঘরছাড়া হওয়া বিজেপি নেতাকে বাড়ি ফেরানো হল মিছিল করে। —নিজস্ব চিত্র।

২০২১ সালের ভোটের ফলের পর জরিমানা করেছিলেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের। ২০২৬ সালে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই জরিমানার অর্থ ফেরাচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। আবার পাঁচ বছর আগে ভোট-পরবর্তী হিংসায় বাড়়িছাড়া হওয়া বিজেপি নেতা-কর্মীদের বাদ্যি বাজিয়ে ঘরে ফেরানো হল। রবিবার বীরভূমের ঘটনা।

বীরভূমের নানুর থানার বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ’২৪ সালের লোকসভা ভোটের পর রাজনৈতিক সন্ত্রাসের জেরে বহু কর্মী ঘরছাড়া হন। পরে তাঁদের কেউ কেউ বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। কিন্তু নিজের এলাকায় ফেরার জন্য জরিমানা হিসাবে মোটা টাকা দিতে হয়েছিল তৃণমূল নেতাদের। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী হওয়ার ‘অপরাধে’ কারও কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, কারও কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। নানুরের কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েত এবং আশপাশের এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছিল। সম্প্রতি শান্তিনিকেতন থানা এলাকার অন্তত ১১ জন বিজেপি নেতা-কর্মীকে সেই ‘জরিমানার অর্থ’ ফেরত দিয়েছেন তৃণমূল নেতারা।

সব্যসাচী রায় নামে এক ব্যক্তির কথায়, “২০২১ সালের নির্বাচনের পর বিজেপির হয়ে কাজ করার অপরাধে অনেকের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় বাড়িঘর। পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। দীর্ঘ দিন এলাকা ছাড়া থাকার পর ফেরার জন্য চাপের মুখে টাকা দিতে বাধ্য হতে হয়েছিল আমাদের।” তাঁর আঙুল স্থানীয় দুই তৃণমূল নেতা মামন শেখ ও আলেফ শেখের দিকে। দু’জনেই বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা বর্তমানে হাসনের তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখের ‘অনুগামী’ বলে পরিচিত।

তবে কাজলের দাবি, “২০২১ সালে ওই এলাকায় আমার কোনও দায়িত্ব ছিল না। তখন আমি সামান্য কর্মী ছিলাম দলের। কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতে যদি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে বা কেউ জোর করে টাকা নিয়ে থাকেন, সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।”

রবিবারই দুবরাজপুর বিধানসভার খয়রাশোল ব্লকের পাঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পাইগড়া গ্রামে ২০২১ সালের নির্বাচনের পর বাড়িছাড়াদের ঢোল পিটিয়ে মিছিল করে বাড়ি ফিরিয়েছেন পদ্মশিবিরের কর্মী-সমর্থকেরা। একটি প্রাথমিক স্কুলের প্রধানশিক্ষক বাবুল ধীবরের দাবি, তিনি বিজেপি করতেন বলে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল। রবিবার যখন তিনি বাড়ির সামনে দাঁড়ান, পাঁচ বছর ধরে বন্ধ থাকা দরজার তালায় মরচে পড়েছে। সেই তালা খুলে তাঁকে বাড়িতে ঢোকান কর্মীরা।

বিজেপির দাবি, সেই সময় পাঁচড়ার তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি সন্তু মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হামলা হয়েছিল। পুলিশের কাছে গিয়েও কাজ হয়নি। তার পর সিউড়িতে প্রায় আত্মগোপন করে ছিলেন শিক্ষক বাবলু। রবিবার তিনি বাড়ি ফেরায় খুশির হাওয়া পরিবার-প্রতিবেশীদের মধ্যে। নাচ-গান, আবির খেলা, মিষ্টিমুখ হয়।

অন্য দিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা-৩ ব্লকের করসা ২ নম্বর অঞ্চলে তৃণমূল কার্যালয়ের ভিতর অসংখ্য জব কার্ড এবং ভোটার কার্ড উদ্ধারে শোরগোল শুরু হয়েছে। রবিবার সকালে এলাকার কয়েক জন বিজেপি কর্মী দেখেন, বন্ধ হওয়া কার্যালয় হঠাৎ খোলা হচ্ছে। সামনে একটি টোটো দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাতে মালপত্র ওঠানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, সেই দেখে তৃণমূল কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে চমকে যান। দেখেন, হাজার খানেক জব কার্ড। তা ছাড়া জমির দলিল, ভোটার কার্ড পড়ে রয়েছে। শুরু হয় উত্তেজনা। খবর পেয়ে গড়বেতা থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী যায় সেখানে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Birbhum TMC BJP midnapore JOb cards Cut Money
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy