Advertisement
E-Paper

দেব ব্যতিক্রম, টলিউডের ‘ব্যান’ সংস্কৃতির মধ্যেও আমাদের নিয়ে কাজ করেছে: অকপট রূপা

"ভয়, আতঙ্ক পশ্চিমবঙ্গবাসীর রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তাই মঞ্চের খ্যাতিনামীদের বলব, আমাদের উপর একটু ভরসা করুন।"

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ১৯:৪৬
রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং দেব।

রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং দেব। ছবি: ফেসবুক।

কত দিন পরে নন্দন চত্বরে? রূপা গঙ্গোপাধ্যায় আনমনা। আঙুল গুণে হিসাব করলেন। মৃদু হেসে বললেন, “১০ বছর পরে।” তার পরেই কনফারেন্স রুমের ডান দিকের একটি চেয়ার দেখিয়ে বলে উঠলেন, “ওই চেয়ারটায় বসতাম। আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠক হত। কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের বৈঠকও। উৎসবের সময় ঘন ঘন আসা-যাওয়া করতাম।”

রাজনৈতিক পালাবদল রূপার ‘নান্দনিক প্রত্যাবর্তন’ ঘটিয়েছে। সমর্পণ সেনগুপ্তের পরিচালনায় ‘প্রত্যাবর্তন’ ছবির হাত ধরেই নেত্রী-অভিনেত্রী ফের তাঁর পুরোনো জায়গায়। ১০ বছরে কি অনেক বদলে গিয়েছে তাঁর প্রিয় জায়গা? প্রশ্ন শুনে রূপা একটু ভাবলেন। বললেন, “কনফারেন্স রুম ঝকঝকই আছে। এখানে নেতা-মন্ত্রীরা বসতেন তো! প্রেক্ষাগৃহের হয়তো কিছু সারাইয়ের দরকার।” তার পরেই চওড়া হেসে জানালেন, সবে ১০ দিন হল বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব নিয়েছে। “আমাদের একটু সময় দিন। আস্তে আস্তে সব হবে।”

টলিউডের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ অরূপ এবং স্বরূপ বিশ্বাস। বদলে পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং রূপা বাংলা বিনোদনদুনিয়ার দায়িত্বে। ইন্ডাস্ট্রির ভাল-মন্দ কি আপনারা চার জন আলোচনায় ঠিক করবেন? নাকি, নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নেবেন? প্রশ্ন করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। রূপার চটজলদি জবাব, “আমাদের সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যা বলবেন, সে ভাবেই কাজ করব আমরা। এই বিষয়ে এখনও কিছুই ঠিক হয়নি।” তবে শুধু এই চার জন নন, ইন্ডাস্ট্রির সবাই এক হয়ে টলিউড সামলাবেন, এই বার্তাও দেন তিনি।

‘ব্যান’ সংস্কৃতি আর থাকবে না, ফেডারেশনের ‘দাদাগিরি’ বন্ধ হবে, প্রযোজক-পরিচালক-শিল্পীরা স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবেন এবং কারও গায়ে রাজনৈতিক রং লাগতে দেওয়া হবে না-- এই আশ্বাস দেন রূপা। বদল আসতে পারে ইন্ডাস্ট্রির একাধিক সংগঠনে, এমন আভাসও দেন তিনি।। তবে রাতারাতি বদল হয়তো হবে না, এমনই মত তাঁর। তার পরেই স্পষ্ট বলেন, “ইমপা, আর্টিস্ট ফোরাম নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। কারণ, আমি বিতর্কে জড়াতে ভালবাসি না।”

'ব্যান' কালচারের তালিকাভুক্ত ছিলেন রূপা নিজেও। দীর্য দিন তিনি তাই অভিনয় থেকে দূরে। তার মধ্যেও তৃণমূল সাংসদ-অভিনেতা দেব কিন্তু সকলের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর ছবিতে মিঠুন চক্রবর্তী, অঞ্জনা বসু, রুদ্রনীল এবং রূপা অভিনয় করেছেন। তার জন্য দেবের কিছু ছবি নন্দনে জায়গা পায়নি। প্রসঙ্গ তুলতেই মিষ্টি করে হাসলেন রূপা। স্বীকার করলেন সবটা। বললেন, "একমাত্র দেব ব্যতিক্রম। ওর তরফ থেকে যতটা করা যায়, ততটা করেছে। কখনও বাছবিচার করেনি। ও আমার ছোট্ট ভাই।" তবে অভিনয় নয়, রূপা এখন মন দিয়ে রাজনীতি করবেন। তাই আপাতত কারও সঙ্গেই হয়তো পর্দায় দেখা যাবে না তাঁকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি ঘোষণা হাসি ফিরিয়েছে বাংলার নাট্যদুনিয়ার মানুষদের মুখে। তিনি ঘোষণা করেছেন, পুণের মতো কলকাতায় নাট্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হবে। এমন খুশির আবহেও কৌশিক সেনের মনে শঙ্কার মেঘ, "মঞ্চের স্বাধীনতা থাকবে তো? পরিচালক স্বাধীন ভাবে নাটকের বিষয় ভাবতে পারবেন? স্বাধীন ভাবে সেই নাটক মঞ্চস্থ করতে পারবেন?" রূপার কাছে সেই শঙ্কার কথা জানাতেই ফের তাঁর মুখে হাসি। বললেন, "ভয়, শঙ্কা রাজ্যবাসীর রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তাই তাঁরা আতঙ্কিত। তাঁদের বলছি, ভয়, শঙ্কা সরিয়ে আমাদের উপর একটু ভরসা করেই দেখুন না!"

২২ মে ইমপার পক্ষ থেকে বিজেপির জয়ী তারকা প্রার্থীদের সংবর্ধনা দেবেন সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। রূপার কাছে হয়তো আমন্ত্রণলিপি পৌঁছেছে। রূপা যাবেন? এ বার প্রকাশ্যে তাঁর লড়াকু মনোভাব। রূপা স্পষ্ট বলেছেন, “আমি কথা কম, কাজ বেশিতে বিশ্বাসী। তাই সংবর্ধনা, ফুলের মালার প্রতি কোনও লোভ নেই।” একটু থেমে যোগ করেছেন, “পিয়া সেনগুপ্ত যতই বলুন, তিনি ‘অরাজনৈতিক’, আদতে কি তিনি তা-ই? স্বরূপ বিশ্বাসও তো দাবি করতেন, তিনি নাকি রাজনীতির ধারেপাশে নেই! ওঁরা ওঁদের কাজ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, আসলে ওঁরা কী।”

BJP Tollywood Roopa Ganguly Dev
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy