Advertisement
E-Paper

BJP: ‘চলো পাল্টাই’ স্লোগানে তৃণমূলকে হটানোর বার্তা

২০১৫-র পুরভোটের পর থেকে পুরুলিয়া শহরে তৃণমূলের সাফল্য অধরা থেকেছে। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের কাছে পুরুলিয়া আসনটি খোয়াতে হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২২ ০৭:১৩
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

আগামী পুরভোটে তৃণমূলের মোকাবিলায় বিজেপির স্লোগান হতে চলেছে ‘চলো পাল্টাই’। দলের নেতা-কর্মীদের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক অতীতে পরিবর্তনের স্লোগান শুধু পুরুলিয়া শহর নয়, রঘুনাথপুর ও ঝালদাতেও বিজেপির ভিত শক্ত করেছে। সেই সাফল্য থেকে ফের পাল্টানোর স্লোগানকে হাতিয়ার করছে দল। বিজেপির এক জেলা নেতার কথায়, “গত পঞ্চায়েত ভোটে এই স্লোগানে ভিত নড়ে গিয়েছিল তৃণমূলের। পরে, লোকসভা ও বিধানসভা ভোটেও যে মানুষ আমাদের বেছে নিয়েছেন, তা গোটা জেলা দেখেছে।”

২০১৫-র পুরভোটের পর থেকে পুরুলিয়া শহরে তৃণমূলের সাফল্য অধরা থেকেছে। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের কাছে পুরুলিয়া আসনটি খোয়াতে হয়েছে। শহরের ২৩টি ওয়ার্ডের ১৩টিতে এগিয়েছিল কংগ্রেস। ২০১৯-র লোকসভা ভোটেও ২০টি ওয়ার্ডে ‘লিড’ ছিল বিজেপির। গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল শহর পুনরুদ্ধারে নামলেও বিজেপির কাছে ১৮টি ওয়ার্ড হারাতে হয়।

এ বারে কি চাকা উল্টো দিকে ঘুরবে? পুরুলিয়া কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তথা পুরসভার বিদায়ী বিরোধী দল-নেতা সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের কথায়, “পুরুলিয়া পুরসভায় যাঁরা ক্ষমতায় রয়েছেন, মানুষ তো দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের দেখছেন। তাঁদের নিয়ে মানুষ কী ভাবছেন, গত নির্বাচনগুলির ফলেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। সে জায়গা থেকেই আমাদের আহ্বান, এ বার পাল্টান।”

দলের জেলা সভাপতি বিবেক রঙ্গা বলেন, “এখনও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি। তবে দিনক্ষণ ঘোষণার পরেও, করোনা-পরিস্থিতিতে বড় সভা বা জমায়েত করা যাবে কি না, স্পষ্ট নয়। কিন্তু মানুষের কাছে তো যেতেই হবে। তাই ‘চলো পাল্টাই’ স্লোগান সামনে রেখে আমরা মানুষের কাছে পৌঁছনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

বড় মিছিল-কর্মসূচি বা জমায়েতের অনুমতি না পাওয়া গেলে, সোশ্যাল মিডিয়া বা হোর্ডিংয়ে প্রচারে বদলের স্লোগান প্রাধান্য পাবে জানিয়ে বিবেক আরও বলেন,“পুরুলিয়া পুরসভার ২৩টি ওয়ার্ডের আওতায় ১১২টি বুথ রয়েছে। প্রতি বুথে দশ জন করে কর্মী কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে দলের বিভিন্ন শাখার কর্মী রয়েছেন। শহরের পুর-পরিষেবা ভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় তাঁরা তুলে ধরার কাজ শুরু করেছেন।”

তবে শুধু বদলের কথা নয়, পুরসভায় দল ক্ষমতায় এলে কী-কী কাজের পরিকল্পনা রয়েছে, তা-ও প্রচারে তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানান জেলা সভাপতি। তার মধ্যে শহরের পানীয় জল ও নিকাশি-সমস্যা মেটানো, বস্তির উন্নতি-সহ নানা বিষয় রয়েছে। “এক-এক জন কর্মী অন্তত ৫০ জনের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দেবেন। আপাতত পুরুলিয়া শহরে বদলের স্লোগানকে সামনে রেখে কর্মীরা কাজ শুরু করেছেন। রঘুনাথপুর ও ঝালদাতেও একই ভাবে কাজ হবে”, বলেন তিনি। দলের পুরুলিয়া শহর (দক্ষিণ) মণ্ডলের সভাপতি সত্যজিৎ অধিকারীও জানান, গত দিনে পুরসভা যে সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ, যে সব বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, এক-এক করে সবই তুলে ধরা হবে।

বিজেপির স্লোগান-প্রচার নিয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়ার টিপ্পনী, “রাজ্য বিজেপির অন্দরে কী চলছে, তা মানুষ প্রতিদিনই দেখছেন। এই স্লোগান তো মনে হচ্ছে, নিজেদের জন্যই তৈরি করেছেন।” তাঁর আরও দাবি, “বিজেপি ভোটের সময়ে ভেসে উঠে মানুষজনকে ভুল বোঝায়। বিধানসভা ভোটের সময়েও দেখেছি, সোশ্যাল মিডিয়া দেখে অনেকেই মনে করছিলেন, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসছে। কিন্তু মানুষ রায় দিয়েছিলেন তৃণমূলের পক্ষে। কাজের নিরিখে জেলার তিনটি পুরসভায় তৃণমূলই ফের ক্ষমতায় ফিরবে।”

TMC BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy