মল্লারপুরে পুলিশ হেফাজতে নাবালকের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা পুলিশ, প্রশাসনের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করলেন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার রাতে মল্লারপুরে পুলিশ হেফাজতে এক নাবালকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। সেই ঘটনা নিয়ে রবিবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বোলপুর সার্কিট হাউসে বৈঠক করেন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের সদস্যরা।
বৈঠকে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী, কমিশনের বিশেষ উপদেষ্টা সুদেষ্ণা রায়, জেলা শিশু কল্যাণ আধিকারিক নিরুপম সিংহ, জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু, পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহ সহ একাধিক আধিকারিকেরা। এক ঘণ্টারও বেশি সময় চলে বৈঠক।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে কমিশনের তরফে জেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হয় পুলিশ হেফাজতে থাকা নাবালকের কী ভাবে মৃত্যু হল? কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়েছি। যিনি ময়নাতদন্ত করেছেন, সেই চিকিৎসক বলেছেন ছেলেটি পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেছে। পুলিশও তাই বলেছে। প্রশ্ন কেন আত্মহত্যা করল? পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার ও জেলাশাসককে জানানো হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল তদন্ত হচ্ছে। ফরেনসিক দলও আসছে।’’ মল্লারপুরের ঘটনা নিয়ে প্রথম থেকেই রাজনীতির তরজা চলছে। কমিশনের চেয়ারপার্সন মনে করেন এই নিয়ে রাজনীতি না করাই ভাল। একই সঙ্গে কমিশনের সদস্যদের প্রশ্ন, থানায় যেখানে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে সেখানে সিসি ক্যামেরা কেন সচল নয়। কমিশনের তরফে বিভিন্ন থানার সিসি ক্যামেরা সারানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। কমিশনের মতে, যদি সিসি ক্যামেরা কাজ করত তা হলে পুলিশের কাছেও এই ঘটনার উপযুক্ত প্রমাণ থাকত।
জেলা প্রশাসনের তরফেও ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে এ দিন কমিশনকে জানানো হয়। বৈঠক শেষে পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহ বলেন, ‘‘পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় যা যা করণীয়, তার সব ক’টি নিয়মই পালন করেছি। বিচারবিভাগীয় তদন্তও হচ্ছে। তিন জন সিনিয়র ডাক্তার ময়না-তদন্ত করেছেন। সেই রিপোর্ট কমিশনকে পাঠানো হয়েছে।’’