ছোট্ট চৌবাচ্চায় ফুটেছে নীল-সাদা শালুক। আজ, মঙ্গলবার দু’দিনের বাঁকুড়া সফরে আসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর জন্য এ ভাবেই সেজে উঠছে বাঁকুড়ার সার্কিট হাউস।
রাজ্যে পালাবদলের পরে, সরকারি অফিস-কাছারি ও নানা নির্মাণে নীল-সাদা রঙের প্রলেপ দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বা দলীয় সভামঞ্চকেও ওই রঙের কাপড় দিয়ে মুড়ে ফেলতে দেখা যায়। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য সার্কিট হাউসে আনা হয়েছে নীল-সাদা শালুক। নীল-সাদা পাথরে মোড়া চৌবাচ্চায় তা লাগানো হয়েছে। সোমবার গিয়ে দেখা গেল, রং-বেরঙের ফুলে সেজেছে সার্কিট হাউস চত্বর। রয়েছে নানা প্রজাতির গোলাপ, গ্যাজেলিয়া, ডায়ানথাস, পিটুনিয়া, ইনকা, সেলোসিয়ার মতো মরসুমি ফুল। সার্কিট হাউসের মূল দরজা থেকে কিছুটা দুরেই রয়েছে ছোট চৌবাচ্চাটি। সূত্রের খবর, ওন্দার কল্যাণী এলাকার এক ফুল-চাষি একটি পুকুরে ওই বিশেষ শালুক চাষ করেন। সেখান থেকেই সার্কিট হাউসের চৌবাচ্চা সাজাতে নিয়ে আসা হয়েছে।
জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি তথা বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি শুভাশিস বটব্যাল বলেন, ‘‘উদ্যান পালন দফতরের উদ্যোগে জেলায় ধান আর আলুর বিকল্প হিসেবে ফুলের চাষ হচ্ছে। তেমন নানা ফুলের সম্ভার আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে চাই।” তিনি জানান, বুধবার বাঁকুড়ার রবীন্দ্রভবনে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে। সেখানেও জেলায় চাষ হওয়া ফুল রাখা হবে। বাঁকুড়ার মাটিতে ফলা বর্ষাতি পেঁয়াজ আর খেজুর গুড়ের পাটালিও তুলে ধরা হবে তাঁর সামনে।
জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী কিছু দিন আগে জেলায় এসে কর্মিবৈঠকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে বাঁকুড়া শহরকে ‘তৃণমূল নগরী’ হিসাবে সাজিয়ে তুলতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী আসার আগে থেকেই কার্যত গোটা শহরে অসংখ্য তৃণমূলের পতাকা, ফেস্টুন, ব্যানার দেখা গিয়েছে। বাঁকুড়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘শহরকে আমরা জোড়া ফুলে মুড়ে ফেলেছি।’’
বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্রের মন্তব্য, ‘‘সরকারি দেওয়াল থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পে গড়া উদ্যান— সর্বত্রই তৃণমূলের পতাকা। এটা কি নিয়মবিরুদ্ধ নয়?’’ যদিও নিয়ম-ভাঙার অভিযোগ মানতে
নারাজ তৃণমূল।