অনলাইনে মোবাইল গেম খেলা নিয়ে দুই বন্ধুর গোলমাল হয়েছিল। সেই গোলমাল গড়ায় পারিবারিক বিবাদে। তার জেরে এ বার দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল অন্য জনের পরিবারের বিরুদ্ধে। তিন সদস্য অগ্নিদগ্ধ হন। এক জন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। ৮ অগস্টের এই ঘটনায় বুধবার নলহাটি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।
আক্রান্তের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নলহাটি থানার আটকুলা গ্রামের দুই বন্ধু রাজা মোল্লা ও নাবেদুল হাসান। অনলাইন মোবাইল গেম খেলা নিয়ে দু’জনের ঝগড়া হয়। পুলিশের কাছে অভিযোগে নাবেদুলের পরিবার দাবি করেছে, ৮ অগস্ট ফোনে হুমকি দেওয়ার পরে ওই রাতেই ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘরে ছিলেন নাবেদুলের বাবা জুলফিকার আলি, মা শাবানা আজমি ও বছর আটকের বোন নওরীন আজমি। দরজা খুলে বাইরে বেরোতে গেলে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করা ছিল বলেও লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। তিন জনের আর্তনাদে প্রতিবেশী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উদ্ধার করেন। প্রথমে তিন জনকেই মুর্শিদাবাদের পাঁচগ্রাম হাসপাতলে ভর্তি করানো হয়। অন্য দু’জনকে এখন ছেড়ে দেওয়া হলেও জুলফিকার আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনার পরে আবারও চর্চায় সেই অনলাইন গেম। গত বছর লকডাউনের পরে শহরাঞ্চলে এই সমস্যা দেখা গিয়েছিল। এখন গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে শিশুদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে কাজ করছেন মঞ্জির ঘোষ। গবেষণার মাধ্যমে করোনা-কালে শিশুদের একাকীত্ব থেকে মুক্ত রাখার নানা পন্থা বার করেন তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা। শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত মঞ্জির বলেন, ‘‘মোবাইল এখন নিও নর্মাল জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। মোবাইল বাদ গিয়ে চলা যাবে না। এই অবস্থায় আগে ছেলেমেয়েদের মনের চাহিদা তার বাবা-মাকে বুঝতে হবে। অনলাইন গেমে আসক্তি তৈরি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’’
এ দিকে, বুধবার রাতে নলহাটি থানায় রাজা মোল্লা ও তার বাবা লেবু মোল্লার নামে অভিযোগ দায়ের করেন নাবেদুলের দাদু আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘‘দুই বন্ধুর মধ্যে ঝগড়া থেকে এই ঘটনা ঘটবে বুঝিনি। রাতের অন্ধকরে পেট্রল দিয়ে পরিবারকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করেছিল রাজা ও তার বাবা। দোষীদের শাস্তি হোক।’’ পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। অভিযুক্তদের আত্মীয়দের অবশ্য দাবি, তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে।