Advertisement
E-Paper

নিভৃতবাস কেন্দ্র গড়ার সিদ্ধান্ত প্রতি পঞ্চায়েতে

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনগুলি। 

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২০ ০০:৩৯
অপেক্ষা: স্বাস্থ্য পরীক্ষার আগে গণনার জন্য দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে মহারাষ্ট্র থেকে আসা শ্রমিকদের। বৃহস্পতিবার রামপুরহাট স্টেশনে। ছবি: সব্যসাচী ইসলাম

অপেক্ষা: স্বাস্থ্য পরীক্ষার আগে গণনার জন্য দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে মহারাষ্ট্র থেকে আসা শ্রমিকদের। বৃহস্পতিবার রামপুরহাট স্টেশনে। ছবি: সব্যসাচী ইসলাম

জেলায় এখনও পর্যন্ত যে-সব রোগীর দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে, তাঁদের প্রায় সকলেই পরিযায়ী শ্রমিক। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনগুলি।

রেল ও জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বুধবার মাঝ রাত থেকে উত্তরবঙ্গগামী পরিযায়ী শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনগুলি ছুঁয়ে যাচ্ছে বীরভূমের রামপুরহাট স্টেশন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ২৮টি ট্রেন পূর্ব রেলের রামপুরহাট স্টেশন ছুঁয়ে যাওয়ার কথা। সেই তালিকায় রয়েছে শুধু মহারাষ্ট্র থেকেই আসা ২০টি ট্রেন। রয়েছে তামিলনাড়ু ও গুজরাত থেকে আসা ট্রেনও। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত রামপুরহাটে ৭টি ট্রেন থেমেছে। নেমেছেন এগারোশোর বেশি পরিযায়ী শ্রমিক।

জেলা প্রশাসনের এক কর্তার দাবি, ‘‘কোন ট্রেন থামবে কোনটি নয়, তার কোনও তথ্য রেল আগাম জেলা প্রশাসনকে দেয়নি। কত লোক নামবে, তারও কোনও আগাম হিসেব নেই। যাঁরা রামপুরহাটে নেমেছেন, তাঁদের মধ্যে বীরভূমের পাশাপাশি পড়শি মুর্শিদাবাদের শ্রমিকেরাও আছেন। অসুবিধার মধ্যেও প্রচুর সংখ্যক বাসের ব্যবস্থা রেখে সকলকে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা হয়েছে।’’

প্রশাসন সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই জেলায় ২৬ হাজার ৪০০ জন পরিযায়ী শ্রমিক ফিরছেন। স্পেশ্যাল ট্রেনে বা অন্য ভাবে জেলায় এক ধাক্কায় ১০-১২ হাজার শ্রমিক চলে আসতে পারেন— সেটা ধরে নিয়েই এগোচ্ছে জেলা প্রশাসন। যাতে, করোনা সংক্রমণ রোখা যায় ।

হুট করে এত সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক এসে পড়লে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা ঠিক করতে তৎপরতা বেড়েছে জেলা প্রশাসনে। রাজ্যের নির্দেশে সংক্রমণের চূড়ান্ত অবস্থায় থাকা মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত, দিল্লি এবং তামিলনাড়ু— এই পাঁচটি রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়রান্টিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রত্যেকের লালারসের নমুনা পরীক্ষা হবে। এই সব ঠিক করতে বৃহস্পতিবার সিউড়িতে প্রশাসনিক বৈঠক হয়। জেলার দুই মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্ত্রনাথ সিংহ, জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু, জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহ, জেলাপরিষদের মেন্টর রানা সিংহ, প্রশাসনের অন্যান্য কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন বিধায়ক, বিডিও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মহূর্তে ৩৬টি প্রাতিষ্ঠানিক নন হোম কোয়রান্টিন সেন্টার রয়েছে। বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক আসার কথা মাথায় রেখে জেলার ১৬৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটিতে কমপক্ষে আরও দু’টি করে সরকারি নিভৃতবাস করা হচ্ছে। কোথায় কোথায় সেগুলি হবে, তার তালিকা জমা পড়েছে। প্রতিটি ব্লকে নজরদারির জন্য কমিটি থাকছেই, গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরেও একটি করে কমিটি থাকছে। কোন এলাকায় ভিন্ রাজ্য থেকে কে আসছেন, তিনি সেই পাঁচটি রাজ্য থেকে আসেছেন কিনা, এ সব দেখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।

ভিন্ রাজ্য থেকে এসে যাঁরা হোম কোয়রান্টিনে থাকবেন, নজর রাখা হবে তাঁদের উপরেও। কারণ প্রায়ই অভিযোগ উঠছে লালারসের নমুনা নিয়ে বাড়িতে ১৪ দিনের নিভৃতবাসে থাকার পরামর্শ দিলেও বহু পরিযায়ী শ্রমিক তা মানছেন না।

অভিজিৎবাবুর কথায়, ‘‘জেলা, ব্লক প্রশাসন, পুলিশ বা স্বাস্থ্য দফতরের পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাড়ে তিন হাজার সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির ৪০০ সদস্য এবং জেলা পরিষদের ৪২ জন সদস্যও এই নদরদারির সমান সহযোগিতা করবে প্রশাসনকে।’’

প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, হোম ও নন-হোম কোয়রান্টিনে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তাঁদের ডান হাতের বুড়ো আঙুলে ভোটের কালি লাগানোর ভাবনাও রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে পদক্ষেপ করা হয়েছে।

Coronavirus Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy