জটিলতা কাটিয়ে আরও একধাপ এগোলো বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেল যোগাযোগ। রবিবার ‘মায়ের গাঁ’ হিসাবে পরিচিত সারদাদেবীর জন্মভূমি বাঁকুড়ার জয়রামবাটিতে গড়াল বহু প্রতীক্ষিত যাত্রিবাহী রেলের চাকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে উদ্বোধন হল এই ট্রেনের। স্বাভাবিক ভাবেই আনন্দের জোয়ারে ভাসলেন জয়রামবাটির বিস্তীর্ণ অংশের মানুষ।
কথিত আছে, সারদাদেবী কলকাতা যাতায়াতের জন্য ট্রেন ধরতেন বিষ্ণুপুর স্টেশন থেকে। সে জন্য জয়রামবাটি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা তাঁকে যেতে হত গরুর গাড়িতে। সেই জয়রামবাটিকে রেলপথে যুক্ত করার দাবি ছিল দীর্ঘ দিনের। ২০০০-’০১ অর্থবর্ষে সারদাদেবীর পবিত্র জন্মভূমি জয়রামবাটি হয়ে বিষ্ণুপুর তারকেশ্বর রেলপথ নির্মাণের প্রকল্পের সূচনা করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ২০১০ সালে বিষ্ণুপুর থেকে গোকুলনগর এবং ২০১২ সালে বিষ্ণুপুর থেকে ময়নাপুর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়। কিন্তু কিছু দিন পরে ভাবাদিঘির জমিজটের কারণে থমকে যায় বাকি রেলপথ নির্মাণের কাজ। শেষমেশ গত বছরের মার্চে জয়রামবাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। ২৭ মার্চ জয়রামবাটি পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ভাবে ট্রেন চালিয়ে ওই লাইনে যাত্রিবাহী ট্রেন চলাচলে সবুজ সঙ্কেত দেয় কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি। অবশেষে রবিবার প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরের সভা থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা করলেন। এই প্রথম একটি যাত্রিবাহী ট্রেন ‘মায়ের গাঁ’ জয়রামবাটি থেকে ছাড়ল। গন্তব্য বাঁকুড়া স্টেশন।
জয়রমাবাটি স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেনের যাত্রা চাক্ষুষ করতে হাজির ছিলেন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। তাঁদের মধ্যে নীলকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতাম, জয়রামবাটি থেকে ট্রেনে চড়ে হাওড়া যাচ্ছি। আজ সেই স্বপ্নই পূরণ হল।’’ স্থানীয় রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনের মহারাজ স্বামী প্রবুদ্ধানন্দের মন্তব্য, ‘‘সারা বছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা মা সারদার জন্মভূমিতে আসেন। এ বার থেকে তাঁরা সরাসরি ট্রেনে চলে আসতে পারবেন।’’
আরও পড়ুন:
রেলের হাওড়া বিভাগের ডিআরএম বিশাল কাপুর জানিয়েছেন, বাঁকুড়া থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত দৈনিক একটি ট্রেন যাতায়াত করবে। পরে ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই ভাবাদিঘির জমি সংক্রান্ত জটিলতা কেটে গিয়েছে। খুব দ্রুত কাজ এগোচ্ছে। অচিরেই এই রেলপথ তারকেশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। তখন এই লাইনে সরাসরি হাওড়া পর্যন্ত যাত্রিবাহী ট্রেন চালু হবে। আর তা চালু হলে এই এলাকার মানুষের আর্থ সামাজিক পরিবেশের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটনের প্রভূত উন্নতি হবে।’’