Advertisement
E-Paper

মোদীর সভায় ডিম-ভাত, সিঙ্গুরে বিজেপি কর্মীদের ভোজের আয়োজন উস্কে দিল তৃণমূলের ‘ডিম্ভাত’ স্মৃতি

হরিপাল বিধানসভার সহদেব গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ইলাহিপুর শ্রীপতিপুর পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপি কর্মীরা জানালেন, সারা দিনে আর কখন খাওয়া হবে, ঠিক নেই। তাই সকাল সকাল পেটে দুটো ভাত পড়লেই ভাল। শক্তি আসবে। আর ডিম-ভাতের চেয়ে তাড়াতাড়ি কোন রান্নাই বা হবে!

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৫১
রান্না হচ্ছে ডিমের ঝোল। পাশের উনুনে বসেছে ভাত।

রান্না হচ্ছে ডিমের ঝোল। পাশের উনুনে বসেছে ভাত। —নিজস্ব ছবি।

ডান হোক বা বাম, তৃণমূল হোক বা বিজেপি— বড় সভার আগে ডিম-ভাতেই প্রাণ। সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় যাওয়ার আগে পেট ভরে ডিমের ঝোল আর ভাত দিয়ে আহার সারলেন বিজেপি কর্মীরা। ফেরাল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ব্রিগেডের ‘ডিম্ভাত’ স্মৃতিও।

রবিবারের সকাল। জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহেও হুগলির গ্রামাঞ্চলে শীতের আমেজ পুরোদস্তুর। মোদীর সভার আগে অনেকটা বনভোজনের মেজাজে দেখা গেল কর্মীদের। জায়গায় জায়গায় পাকা ইট দিয়ে তৈরি হয় উনুন। বড় বড় লোহার কড়াইয়ে চলছে রান্না। সর্বত্রই ‘মেনু’ মোটামুটি এক। ভাত আর ডিমের ঝোল। কোথাও কোথাও আরও একটি পদ। হরিপালের বিভিন্ন গ্রামের বিজেপি কর্মীরা যেমন ডিম-ভাত আর সয়াবিনের তরকারি খেয়ে মোদীর সভায় যাচ্ছেন। সকাল সকাল হাঁকডাক দিয়ে ‘কাজের লোক’ জড়ো করেছেন নেতারা। তাড়াতাড়ি রান্না-খাওয়া সেরে বাসে চেপে যেতে হবে সিঙ্গুরে ‘টাটার মাঠে।’

হরিপাল বিধানসভার সহদেব গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ইলাহিপুর শ্রীপতিপুর পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপি কর্মীরা জানালেন, সারা দিনে আর কখন খাওয়া হবে, ঠিক নেই। তাই সকাল সকাল পেটে দুটো ভাত পড়লেই ভাল। শক্তি আসবে। আর ডিম-ভাতের চেয়ে তাড়াতাড়ি কোন রান্নাই বা হবে! অগত্যা ‘ডিম্ভাত।’ রান্না করতে করতেই তাঁরা তুললেন ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি।

আসলে স্বল্প খরচে, কম সময়ে তৈরি এবং সুষম আহার বলতে এখনও রাজ্যের মানুষ ডিম-ভাত বোঝেন। অতিমারি করোনার আবহে দু’বেলার খাবার জোগাড় করা যখন বড় অংশের মানুষের কাছে চ্যালেঞ্জ, তখন ‘মা’ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুঃস্থ মানুষদের জন্য মাত্র ৫ টাকায় ডিম-ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও সেই সময় এই ডিম–ভাতে ভরসা রেখেছিল। লাইন দিয়ে খেয়েছেন মানুষজন। তবে ‘ডিম্ভাত’ ইতিহাস আর একটু পুরনো।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্‌-সময়। ব্রিগেডে ২২টি বিরোধী দলকে নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা। দূরদূরান্ত থেকে যাঁরা সমাবেশে যোগ দিতে আসবেন, তাঁদের পেট ভরে ডিমের ঝোল ও ভাত খেতে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করে দিয়েছিল আয়োজক তৃণমূল। তবে প্রচারের সময় ‘ঠোক্কর’, ঘটেছিল বানান-বিভ্রাট। দু’-একটি দেওয়াললিখনে ডিম-ভাতের পরিবর্তে লেখা হয়েছিল ‘ডিম্ভাত’। ব্যস, সেই থেকে চায়ের দোকান থেকে অফিস ক্যান্টিনে শুরু হয়ে গিয়েছিল ‘ডিম্ভাত চর্চা।’ তার আগে সমাজমাধ্যমেও ব্যঙ্গবিদ্রুপ শুরু হয়ে যায়। বানান ভুল নিয়ে যেমন কটাক্ষ উড়ে আসে, তেমনই নিরন্ন মানুষকে ডিমের ঝোল-ভাত খাইয়ে তৃণমূল ব্রিগেড ভরাতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের বোদ্ধারা। যদিও তারই দিন পনেরোর মধ্যে বামেদের সমাবেশেও ভাতে ডিমের ঝোলে মেখেই তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন কর্মী-সমর্থকেরা।

আসলে রাজনীতির পথ বাম হোক বা ডান, বড় সভার আগে এখনও পেটে দুটো ‘দানাপানি’ ফেলার প্রশ্নে ডিম-ভাতের কথাই আগে মনে আসে। ‘ডিম্ভাত’ নিয়ে যতই টিপ্পনী হোক, এখনও পাড়ার দোকানে চারটে ডিম কিনতে গেলে খরিদ্দার বলেন, ‘একটু বড় দেখে দেবেন।’

PM Narendra Modi BJP TMC Singur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy