Advertisement
E-Paper

যাব না সেফ হোমে, গোঁ রোগীর

ঘটনাটি খয়রাশোলের মুক্তিনগর গ্রামের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০১:২৯
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

আড়াই ঘণ্টা ধরে বহু চেষ্টা করেও এক কোভিড রোগীকে সরকারি সেফ হোমে নিয়ে যেতে পারল না প্রশাসন।

রোগীকে নিয়ে যেতে পিপিই কিট পরিহিত কর্মীরা অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে হাজির হয়েছিলেন দরজায়। হাজির ছিল পুলিশও। কিন্তু, ওই প্রৌঢ় রোগী সেফ হোমে গেলেনই না, বরং পরিবারের ও পাড়ার কিছু মহিলাকে ঢাল হিসেবে এগিয়ে দিলেন বলে অভিযোগ। ওই রোগীর জন্য ঠায় অ্যাম্বুল্যান্সে বসে থাকতে হল কোভিড আক্রান্ত এক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী ও তাঁর বছর সাতেকের মেয়েকে!

ঘটনাটি খয়রাশোলের মুক্তিনগর গ্রামের। গত মাসে দুবরাজপুর শহরের করোনা আক্রান্ত এক বয়স্ক দম্পতিকে সেফ হোমে পাঠাতে গিয়েও এ ভাবেই পাঁচ ঘণ্টা হিমশিম খেতে হয়েছিল প্রশাসনকে। শেষ পর্যন্ত কোভিড ওঁদের সেফ হোমে পাঠানো গিয়েছিল। খয়রাশোলের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হয়নি। বিডিও (খয়রাশোল) সঞ্জয় দাসের আক্ষেপ, ‘‘আর কবে, কী ভাবে মানুষ সচেতন হবেন, জানা নেই। ঘটনাটি শুনেছি। সেফ হোমে না যান, ওই আক্রান্ত যাতে বাড়ির ভিতরে থাকেন, সেটা নিশ্চিত করাটাই এখন জরুরি।’’ উপরন্তু ওই আক্রান্ত মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দিব্যি পাড়ার কিছু লোকের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পেয়েছে ব্লক প্রশাসন।

খয়রাশোল ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার মুক্তিনগর গ্রামে এক আশাকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর উপসর্গ থাকায় তাঁকে বোলপুর কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু কমিউনিটি হেলথ সার্ভিস পরিষেবা প্রদান করেন আশাকর্মীরা, তাই এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ল কিনা জানতে পর দিনই ওই গ্রামে করোনা পরীক্ষার জন্য শিবির করা হয় স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে। জানা গিয়েছে, সে দিন শ’দেড়েক গ্রামবাসীর র্যাপিড অ্যন্টিজেন ও আরটিপিসিআর— দু’ধরনের টেস্ট করা হয়। র্যাপিড অ্যন্টিজেন টেস্টে সে দিনই পাঁচ জন বাসিন্দার শরীরে করোনার অস্তিত্ব মেলে। ওই পাঁচ জনের মধ্যে তিন জনকে সেফ হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করে প্রশাসন।

সেদিন ধরা না পড়লেও পরে আরটিপিসিআর-এ সিউড়ি জেলা হাসপাতাল থেকে রবিবার রাতে কোভিড পজ়িটিভ রিপোর্ট আসে মুক্তিনগরের মধ্য পঞ্চাশের এক বাসিন্দার। অন্য দিকে, সোমবারই খয়রাশোল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লালারসের নমুনার র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে এক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী (ব্লক আশা ফেসিলিটেটর) ও তাঁর শিশুকন্যার করোনা ধরা পড়ে। ব্লক লেভেল টাস্ক ফোর্সের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী মৃদু উপসর্গযুক্ত ওই মা-মেয়ে এবং মুক্তিনগরের ওই প্রৌঢ়কে দুবরাজপুরের নিরাময় সেফ হোমে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

কিন্তু, গ্রামে অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছতেই সেফ হোমে না যাওয়ার ‘নাটক’ শুরু হয়। আক্রান্ত প্রৌঢ় বলতে থাকেন, ‘‘এক দিন নেগেটিভ, পর দিন পজ়িটিভ— এসব বজরুকি। আমি যাব না।’’ এই ‘যুক্তি’-র সঙ্গে সহমত হয়ে তাঁর পরিবারের লোকজন ও পাড়ার কিছু মহিলাও আক্রান্তকে সেফ হোমে নিয়ে যাওয়ার বিরোধিতা করতে শুরু করেন। খয়রাশোল থানার পুলিশও গিয়ে বিস্তর চেষ্টা করে বোঝাতে ব্যর্থ হয়। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘‘ওই প্রৌঢ়কে বারবার বলা হয়, সেফ হোমে গেলে তাঁরই ভাল। কিন্তু, তিনি গোঁ ধরে থাকেন যাবেন না বলে। অগত্যা তাঁকে বাড়িতেই রাখতে হয়।’’

Coronavirus Covid 19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy