E-Paper

সভাস্থলে বাসের সারি, যাত্রী-ভোগান্তি

পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুর্গাপুর ও আসানসোল রুটে চলা বহু সরকারি বাস সভার জন্য তুলে নেওয়া হয় এ দিন।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৯
পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা।

পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা। নিজস্ব চিত্র।

আশঙ্কাই সত্যি হল। বুধবার পুরুলিয়ার লধুড়কায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি-সহ বেসরকারি অধিকাংশ বাস তুলে নেওয়ায় দিনভর ভোগান্তিতে পড়তে হল যাত্রীদের। জনসভাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিল সারি সারি বাস। এ দিকে রাস্তায় অঘোষিত ধর্মঘটের ছবি দেখা গেল।

পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুর্গাপুর ও আসানসোল রুটে চলা বহু সরকারি বাস সভার জন্য তুলে নেওয়া হয় এ দিন। পুরুলিয়া শহরের সরকারি বাসস্ট্যান্ড থেকে সরকারি বাস চলেনি বললেই চলে। যে ক’টি বাস চলেছে, সে গুলির টিকিট কাটার জন্য যাত্রীদের লম্বা লাইন পড়ে। পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন রুটে চলা বেসরকারি বাসগুলির মধ্যে এ দিন মাত্র দু-একটি রাস্তায় ছিল। মানবাজার বাসস্ট্যান্ড দক্ষিণ পুরুলিয়ার সবথেকে বড় স্ট্যান্ড। দৈনিক ৮০-৯০টি গাড়ি যাতায়াত করে এই স্ট্যান্ড থেকে। এ দিন তার অর্ধেকও চলেনি বলে খবর। এই এলাকায় রেলপথ কিংবা ছোট গাড়িতে যাতায়াতের ব্যবস্থা না বাসই ভরসা। এ দিন ওই এলাকার যাত্রীদের চরম সঙ্কটে পড়তে হয়।

পুরুলিয়া জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রতিভা রঞ্জন সেনগুপ্ত বলেন, “পুরুলিয়া শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় সাড়ে ৪০০ বাস জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে। তার মধ্যে ৪০০ বাস সভার জন্য নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সভার যেহেতু আগে থেকেই জানা যায়, তা-ই এই দিনগুলিতে অনেকেই জেলা সদরে আসা এড়িয়ে যান। তবে সভা থাকলে কিছুটা ভোগান্তি তো হবেই।”

আদ্রা থানা এলাকার বাসিন্দা অনিল মাহাতো এ দিন পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরার বাস না পেয়ে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “মনে হচ্ছে যেন ধর্মঘট। একটিও গাড়ি নেই। মানুষের অসুবিধা করে সভার কোনও মানে হয় না।”

পুরুলিয়া মফস্সল থানার গোলকুণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা সুনির্মল পরামানিক বলেন, “বাড়ির ফেরার জন্য কোনও গাড়ি নেই। হেঁটেই যেতে হবে। অসুবিধা হলেই বা কী করব?” বোরো থানা এলাকার বাসিন্দা যতীন হেমব্রম বাসের অপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দিয়ে অটোতে করে রওনা হন।

বান্দোয়ান বাসস্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন রুটে চলা ৭০টির বেশি বাসের মধ্যে এ দিন তিন-চারটি গাড়ি রাস্তায় ছিল। একই অবস্থা আড়শা, বলরামপুর ও রঘুনাথপুরেও।

এ নিয়ে সরব হয়েছেন এসইউসিআই-এর জেলা কমিটির সদস্য রঙ্গলাল কুমার। তিনি বলেন, “কোনও সংগঠন ন্যায়সঙ্গত ভাবে বনধ্ বা ধর্মঘট করলে বাস চালাতে তৎপর হয়ে ওঠে সরকার। আর নিজের সভার নামে মানুষকে হয়রান করা কি ঠিক? উত্তর দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?”

অসুবিধা মেনে নিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি যাতে মানুষের অসুবিধা না হয়। বেশ কিছু গাড়ি এ দিন তাঁদের জন্য ছিল।”(তথ্য সহায়তা: সমীরণ পাণ্ডে,সমীর দত্ত, অমিতকুমার মাহাতো)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Abhishek Banerjee

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy