E-Paper

হাসপাতালের পিছনে সদ্যোজাতের দেহ

তবে হাসপাতালের সুপার শুভঙ্কর কয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গত দু-তিন দিনে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটিতে কোনও সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১০
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ঝোপের মধ্যে পড়েছিল কাপড়ের পুঁটলিটা। ধীরে ধীরে সে দিকে এগিয়েছিল চারপেয়ে। তবে সেটা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগেই ধরে ফেলেন এলাকাবাসী।পুঁটলি খুলতেই বেরিয়ে আসে এক সদ্যোজাতের মৃত দেহ। রবিবার বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ঠিক পেছনে ঘটনাটি ঘটে। এলাকাবাসীর দাবি, পচাগলা ওই ছোট্ট দেহহাসপাতাল থেকেই ঝোপে ফেলা হয়েছে। যদিও দাবি মানতে চাননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শী শুভাশিস বাউরির কথায়, “আমরা রাস্তার ধারে বসেছিলাম। কিছুটা দূরে ঝোপে কাপড়ে জড়ানো কিছু একটা পড়েছিল। একটি কুকুর সেটা মুখে নিয়ে পালাতে যাচ্ছিল। আমরা আটকাই। তার পরেই দেখি ভিতরে এক নবজাতকের দেহ রয়েছে।” সাত সকালে এমন কাণ্ডে হতবাক হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মধ্যে অনেকের দাবি, “হাসপাতাল থেকে মৃত শিশুর দেহ এ ভাবে ফেলা দেওয়া হয়। কয়েক দিন আগেও একটি দেহ কুকুরে নিয়ে এসে ফেলেছিল বাড়ির কাছে। এ সব বন্ধ করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিক। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই সব ধরা পড়বে।”

তবে হাসপাতালের সুপার শুভঙ্কর কয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গত দু-তিন দিনে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটিতে কোনও সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়নি। হাসপাতালের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এক নিরাপত্তাকর্মীকে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে কোনও সদ্যোজাতের মৃত্যু হলে দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ওই শিশুর দেহ হাসপাতাল থেকে ফেলা হয়েছে কি না তা বলা যাচ্ছে না। অনেক সময়ে বিভিন্ন নার্সিংহোম এই কাজ করে থাকে।”

যদিও এলাকাবাসীর দাবি, হাসপাতাল থেকে মৃত সদ্যোজাতের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ঠিকই। কিন্তু অনেকে হাসপাতালের কর্মীদেরই টাকা দিয়ে দেহের সৎকার করে দিতে বলেন। তবে বোঝাই যাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত নবজাতকের মৃত দেহের কী গতি হয়। পুলিশ দেহটি ময়না-তদন্তের জন্য বাঁকুড়া মেডিক্যালে পাঠায়। তদন্ত শুরু হয়েছে।

ভোটের মুখে এ নিয়ে রাজনৈতিক কাজিয়াও শুরু হয়েছে। বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাসের কটাক্ষ, ‘‘হাসপাতালের প্রাচীরের বাইরে যদি এ ভাবে সদ্যোজাতের দেহ পড়ে থাকে, তাহলে সবাই বুঝতে পারছেন স্বাস্থ্য পরিষেবা কেমন।’’ পাল্টা বিষ্ণুপুর শহর তৃণমূলের সভাপতি দিব্যেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার হাসপাতালের অনেক উন্নতি করেছে। সদ্যোজাতের দেহ কে বা কারা হাসপাতালের প্রাচীরের বাইরে ফেলে গেল, তা তদন্তে করলেইধরা পড়বে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bishnupur Super Speciality Hospital Bishnupur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy