Advertisement
E-Paper

নাম লিখিয়েও লালারসের নমুনা না দিয়ে বাড়ির পথে

স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিন্ রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রথম থেকেই নাম নথিভুক্ত করে লালারসের নমুনা নেওয়া হচ্ছিল।

বাসুদেব ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২০ ০৩:১৫
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

গ্রামে গ্রামে আশাকর্মীরা খোঁজ রাখছেন কারও জ্বর-সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে কিনা। তেমন উপসর্গ থাকা ব্যক্তি এবং ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের করোনা পরীক্ষার জন্য লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। নাম নথিভুক্ত করে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছে ইলামবাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও। কিন্তু, নাম নথিভুক্ত করলেও শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে লালারসের নমুনা সংগ্রহ না করতে দিয়ে কিছু লোক বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

এই ঘটনায় চিন্তা বাড়িয়েছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিন্ রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রথম থেকেই নাম নথিভুক্ত করে লালারসের নমুনা নেওয়া হচ্ছিল। তখন কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু। গত ২৯ মে থেকে পরিযায়ী শ্রমিক নন, কিন্তু করোনা উপসর্গ রয়েছে, এমন মানুষজনকেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নাম-ঠিকানা নথিভুক্ত করিয়ে লালারসের নমুনা দিতে হচ্ছে। এর পরেই ছবিটা বদলেছে। ২৯ মে ইলামবাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ২৭ জন নমুনা সংগ্রহের জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করিয়েছিলেন। পরে দেখা যায়, ২৩ জন রয়েছেন। ৬ জন ফিরে গিয়েছেন উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও।

একই ভাবে ৯ জুন নমুনা সংগ্রহের জন্য ৪৫ জনের নাম নথিভুক্ত করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩০ জন তাঁদের লালারসের নমুনা দিয়েছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রের খবর, শনিবার নমুনা পরীক্ষা করার জন্য ২৮ জনের নাম নথিভুক্ত করা হলেও ২৪ জনের পরীক্ষা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানাচ্ছেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের আলাদা করে নমুনা নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা ফিরে যাচ্ছেন না। মূলত, পরিযায়ী নন, কিন্তু করোনার উপসর্গ রয়েছে এমন মানুষজনই নাম নথিভুক্ত করিয়েও শেষ পর্যন্ত নমুনা না দিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন।

ইলামবাজার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ) সুবীর রায়চৌধুরীর কথায়, ‘‘মানুষের মধ্যে একটা ভয় কাজ করছে। তাই বেশ কিছু জন নাম নথিভুক্ত করা সত্ত্বেও করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ না করিয়েই চলে যাচ্ছেন। কিন্তু এতে তাঁদের তো বটেই, তাঁদের কাছে থাকা মানুষেরও ঝুঁকি বাড়ছে। পরীক্ষা না করালে আমরা জানতে পারব না, কে আক্রান্ত হয়েছেন, আর কে হননি। এতে বিপদ আরও বাড়বে।’’ তাঁর মতে, যাঁদের উপসর্গ রয়েছে কিন্তু বাইরে থেকে আসেননি এবং যাঁরা বাইরে থেকে এসেছেন, দু’পক্ষেরই করোনা পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক চিকিৎসক বলছেন, ‘‘মানুষের মধ্যে এখনও ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে, যার কারণে অনেকেই করোনা পরীক্ষা করাতে ভয় পাচ্ছেন। ভাবছেন যদি করোনা রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে, তা হলে তাঁকে সবার থেকে আলাদা করে দেওয়া হবে। কিন্তু, এই ভয় কাটিয়ে তাঁদেরই এগিয়ে আসতে হবে। না হলে এই সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হবে না।’’

Coronavirus Health COVID-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy