Advertisement
E-Paper

শারদীয়ার মুখে জোয়ার নাটকে

নাটক থেকে ক্যুইজ, গান থেকে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা— শারদীয়ার মুখে সাঁইথিয়ায় উৎসবের জোয়ার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০১:২৫

নাটক থেকে ক্যুইজ, গান থেকে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা— শারদীয়ার মুখে সাঁইথিয়ায় উৎসবের জোয়ার।

সামনেই শারদোৎসব। এই সময়ে যেমন পত্রপত্রিকার প্রকাশ বাড়ে, বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়—তেমনই জোয়ার আসে সংস্কৃতিতে। তবে সেটা শুধু সাঁইথিয়া নয়, গোটা জেলারই ছবি।

বেশ কয়েক দশক আগেও সাঁইথিয়ায় নাটক ও যাত্রার প্রচলন ছিল। ‘ইয়ং টাউন’, ‘মেঘদূত’, ‘বীণাপাণি’, ‘রূপতাপস’, ‘রঙ্গতীর্থ’, ‘সর্বভৌম’, ‘নিউ ফ্রেন্ডস’-সহ একাধিক ক্লাব, নাট্য বা সাংস্কৃতিক সংস্থা বছরভর নাট্যোৎসব ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করত। পরে পেশাগত ও নানা প্রতিকূলতায় অধিকাংশ সংস্থার নাট্যোৎসব বা অনুষ্ঠান হয় একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছে অথবা কমে যায়। অনেকে আবার অস্তিত্ব জানান দিতে বছরান্তে একটা, দুটো অনুষ্ঠান করে। পরে উঠে আসে ‘ইকাফো’, ‘নবারুণ’-সহ বেশ কিছু সংস্থা। তবে নাটক, সাংস্কৃতিক সেই আন্দোলনকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে চলেছে ‘ওয়েক-আপ নাট্যদল’, ‘অ্যাম্ফি থিয়েটারওয়ালা’, ‘কল্পনা স্মৃতি নৃত্যায়ন’, ‘নিত্য নিকেতন’, ‘নৃত্যাঙ্গন’, শহর লাগোয়া ভবানীপুর সপ্তপ্রদীপ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী-সহ আরও বেশ কয়েক’টি সংস্থা।

Advertisement

এই নাট্যদলগুলিই কয়েক দিনে মঞ্চস্থ করছে বেশ কিছু নাটক। সাঁইথিয়ার ‘ওয়েক-আপ নাট্যদল’ সূত্রের খবর, সম্প্রতি কলকাতা থিয়েটার ফেস্টিভালে সল্টলেকের পূর্বশ্রী মঞ্চে রবীন্দ্রনাথের ‘নিশীথে’ গল্প অবলম্বনে ‘ও-কেগো’ নাটকটি প্রশংসিত হয়েছে। চলতি মাসের সাত তারিখ কলকাতার মিনার্ভাতেও শো রয়েছে। বছর সাতেকের ভবানীপুর সপ্তপ্রদীপ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, আন্দামান, উত্তরপ্রদেশ, মেঘালয়, দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই নাটক মঞ্চস্থ করেছে।

শনিবারই স্থানীয় রবীন্দ্রভবনে ‘কল্পনা স্মৃতি নৃত্যায়ন’-এর বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘আগমনীর আহ্বান’ অনুষ্ঠিত হয়। চার তারিখ ওই মঞ্চেই ছিল রাঙামাটি চলচ্চিত্র উৎসব। তাতে দেখানো হয় কয়েক’টি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি। আনন্দ-দুলাল স্মৃতি নাট্যোৎসব মুরাডিহি কলোনিতে। প্রথম দিনে থাকছে ব্রাত্য বসুর নাটক ‘তিস্তা’। নির্দেশনা শেখর সমাদ্দার, অভিনয়ে সাংসদ শতাব্দী রায়, অর্ণ মুখোপাধ্যায় ও অন্য শিল্পীরা। দ্বিতীয় দিনে সাড়ে ছ’টায় স্থানীয় আসর নাট্যমের ‘উন্মনা মন’। নির্দেশনা বিজয় দাস। মালঞ্চ হালিশহর নিবেদিত নাটক ‘নব ভারতের চৈতন্য’। নির্দেশনা দেবাশিস সরকার। পরে থাকছে খড়দহ থিয়েটার জোনের ‘কালিন্দী’। নির্দেশনা তপন দাস। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ‘অ্যাম্পি থিয়েটারওয়ালা’র বার্ষিক নাট্যোৎসব শুরু হচ্ছে স্থানীয় রবীন্দ্রভবনে। প্রথম দিনে সন্ধ্যা সাতটায় কলকাতার ‘আভাস’ প্রযোজিত ‘অন্যদিনে’ নাটক। নির্দেশনা শেখর সমাদ্দার। দ্বিতীয় দিনে আয়োজক সংস্থা প্রযোজিত বাদল সরকারের নাটক ‘বাঘ’, নির্দেশনা তথাগত চক্রবর্তী। ১১ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় আয়োজক সংস্থা প্রযোজিত শুভজিৎ সিংহের ‘দ্বিতীয় অধ্যায়’, নির্দেশনা নীললোহিত নন্দী। উৎসবের শেষ নাটক সিউড়ি ইয়ং নাট্য সংস্থার ‘অনুভবে বিনোদিনী’, নাট্যরূপ অনির্বাণ ঘোষ, কোরিওগ্রাফি টুলটুল আহমেদ, নির্দেশনা নির্মল হাজরা।

ওয়েক আপের সম্পাদক পান্নালাল ভট্টাচার্য, অ্যাম্ফি থিয়েটারওয়ালার সম্পাদক অনিন্দ্য আচার্য্যদের কথায়, ‘‘প্রতিবন্ধকতার মধ্যে নাটক করা সহজ কথা নয়।’’ কী কী সমস্যা?

নাট্যদলের সদস্যেরা জানাচ্ছেন, প্রথম সমস্যা অর্থাভাব। এরপরে রয়েছে মঞ্চ, রিহার্সালের ঘর, মহিলা শিল্পীদের অভাব।

এমন সমস্যায় অবশ্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পুরসভা। নাট্য দলের কর্তারাই জানাচ্ছেন, পুরসভা নানা ভাবে তাদের সাহায্য করে। তা রবীন্দ্রভবনের ভাড়া কমানোই হোক, আর ইলেকট্রিক বিলে ছাড় দেওয়া।

সমস্যার কথা, সাঁইথিয়ায় নাটকের টিকিট বিক্রির চল তেমন নেই। ফলে আয়ের সম্ভাবনাও কম। চলে কী করে? ওই কর্তারা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতায় দল চলে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy