Advertisement
E-Paper

ফের বিস্ফোরণ, নাম জড়াল বিজেপির

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নির্মীয়মাণ বাড়িটি পদুমা পঞ্চায়েতের চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং এলাকায় বিজেপি কর্মী হিসাবে পরিচিত বাগাড়াম্বর পালের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২১ ০৩:০১
ঘটনাস্থল: এখানেই বিস্ফোরণ হয় বলে অভিযোগ। নিজস্ব চিত্র।

ঘটনাস্থল: এখানেই বিস্ফোরণ হয় বলে অভিযোগ। নিজস্ব চিত্র।

বীরভূমে এ বার বিস্ফোরণ বিজেপি কর্মীর নির্মীয়মাণ বাড়িতে!

বুধবার মধ্যরাতে ঘটনাটি ঘটেছে দুবরাজপুর থানার বসহরি গ্রামে, পদুমা গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে। একটি নির্মীয়মাণ বাড়ির সিঁড়ি ঘরের নীচে ওই বিস্ফোরণে রাজনৈতিক রং লেগেছে। এর আগেও দুবরাজপুরের যশপুর ও হেতমপুর পঞ্চায়েত এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে, সে সব ঘটনায় তৃণমূলের নাম জড়িয়েছিল। এ বার নাম জড়াল বিজেপি-র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নির্মীয়মাণ বাড়িটি পদুমা পঞ্চায়েতের চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং এলাকায় বিজেপি কর্মী হিসাবে পরিচিত বাগাড়াম্বর পালের। ভেঙে না পড়লেও বিস্ফোরণের জেরে ফাটল ধরেছে সিঁড়ির জন্য দেওয়া কংক্রিটের ঢালাইয়ে। বিস্ফোরণের শব্দ কেঁপে উঠেছিল গোটা এলাকা। ঘটনার জন্য বাগাড়ম্বরবাবুর ভাইপো বনমালী পাল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের দায়ী করে এবং উপযুক্ত তদন্ত চেয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও, বিজেপি এবং তৃণমূল একে অপরকে দায়ী করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের খবর, লোকসভা নির্বাচনের কিছুদিন আগে থেকেই ওই এলাকায় দুই দলের সংঘাত চলছে। বোমাবাজি, রক্তারক্তিও হয়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বোলপুরের কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীদের বাধা দেওয়াকে ঘিরে দু’পক্ষের সংঘাতে তেতে উঠেছিল এলাকা। সংঘাতের কেন্দ্রে ছিল এই বসহরি গ্রাম। এখনও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন আছে এলাকায়। তার মধ্যেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ১টা ১০ নাগাদ বিকট আওয়াজ শোনা যায় গ্রামে। ছুটে আসেন সিভিক ভলান্টিয়ার। কিন্তু, অত রাতে আওয়াজের উৎস চিহ্নিত করা যায়নি। বৃহস্পতিবার ভোরে জানা যায়, পঞ্চায়েত কার্যালয় ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র লাগোয়া বাগাড়াম্বরবাবুর খামার সংলগ্ন নির্মীয়মাণ বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে। ধান রাখার জন্য ঘর, গোয়ালঘর ও পিছন দিয়ে ওঠার জন্য সিঁড়ি ঘর তৈরি হয়েছে। বাকি অংশে দরজা বসলেও সিঁড়ি ঘরে দরজা ছিল না। সিঁড়ির ঠিক নীচেই বিস্ফোরণ ঘটেছে।

এ দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সিঁড়ির নীচে মাটিতে খানিকটা গর্ত হয়েছে। ফাটল ঘরেছে সিঁড়ির ঢালাই ও বাড়ির দেওয়ালে। বনমালী দাবি করেছেন, এ দিন সকালে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠার সময় তিনি বারুদের গন্ধ পান। দেখেন, বাইরে থেকে প্রায় ৪০ ফুটের তার পড়ে রয়েছে। বনমালী বলেন, ‘‘বেশ কিছুদিন থেকেই গ্রামে দুষ্কৃতীদের দাপট চরমে উঠেছে। বুঝতে পারি ওই তারের সাহায্য নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা চলেছে।’’

এই ঘটনার জন্য তৃণমূলকে দায়ী করেছেন বিজেপি-র প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা এলাকার বাসিন্দা রামকৃষ্ণ রায়। তাঁর দাবি, ‘‘গোটা এলাকায় এখন আমাদের দলের কর্মী-সমর্থক বেশি। প্রভাবও বেশি। জনসমর্থন হারিয়ে তৃণমূল ভাড়াটে দুষ্কৃতী নিয়ে এসে এমন কাণ্ড ঘটাচ্ছে।’’ গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ তথা বিজেপি সমর্থক স্বপন ঘোষ, উত্তম পাল, সুব্রত ভাণ্ডারীরা বলছেন, ‘‘ডিনামাইট জাতীয় বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল বলেই আমাদের ধারণা। বুধবার রাতে কাজ হাসিল করে ফেরার পথে আলু ও কপি খেত নষ্ট করে দিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা।’’ ফসল নষ্টের কথা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন বনমালীও।

অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের দুবরাজপুরের ব্লক সভাপতি ভোলানাথ মিত্র বলছেন, ‘‘আমাদের দলের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ নেই। আমি নিশ্চিত, ওখানে বোমা বাঁধার কাজ চলাচ্ছিল বিজেপি। পুলিশ উপযুক্ত তদন্ত করলেই সেটা বেরিয়ে আসবে।’’ তাঁর দাবি, তদন্তে যদি সত্যিই তৃণমূলের যোগ থাকে, তা হলেও পুলিশ পদক্ষেপ করুক। কিন্তু, সত্য সামনে আসুক।

Durbajpur BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy