Advertisement
E-Paper

কুর্সি থেকে কাগজ, পাশে প্রাক্তনীরাই

স্কুল এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বারে কীর্ণাহার হাইস্কুল থেকে স্থানীয় পাঁচটি স্কুলের ৫৭২ জন পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। অধিকাংশ পরীক্ষার্থীকেই এক বা একাধিক অভিভাবক পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৮ ০০:৩১
সহৃদয়: কীর্ণাহার হাইস্কুলে অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা। মঙ্গলবার। —নিজস্ব চিত্র।

সহৃদয়: কীর্ণাহার হাইস্কুলে অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা। মঙ্গলবার। —নিজস্ব চিত্র।

ছেলেমেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না চিত্তরঞ্জন কর, রমা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। টানা তিন ঘণ্টার ব্যাপার। কাছে-পিঠে বসার উপযুক্ত জায়গাও নেই। তাঁদের সেই দুঃশ্চিন্তা দূর করে দিল কীর্ণাহার শিবচন্দ্র হাইস্কুলের প্রাক্তনী সংসদ।

স্কুল এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বারে কীর্ণাহার হাইস্কুল থেকে স্থানীয় পাঁচটি স্কুলের ৫৭২ জন পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। অধিকাংশ পরীক্ষার্থীকেই এক বা একাধিক অভিভাবক পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেন। তারপরেই পড়তে হয় সমস্যায়। নিয়মানুযায়ী, পরীক্ষাকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকে। দুপুরে মালিকেরাও খেতে বাড়ি চলে যাওয়ায় অন্য দোকানও বন্ধ হয়ে যায়। তার উপরে কাছে, পিঠে বসার মতো উপযুক্ত জায়গা না থাকায় অভিভাবক-অভিভাবিকাদের পড়তে হয় সমস্যায়। সেই সমস্যা দূর করতে এগিয়ে আসে ওই স্কুলের প্রাক্তনী সংসদ। আর দু’বছরের মাথায় ওই স্কুল ১২৫ তম বর্ষে পা রাখবে। সেই উপলক্ষে স্কুলের সামগ্রিক উন্নয়ন সহ পুনর্মিলন উৎসব উদ্‌যাপনের জন্য এ বারই প্রাক্তনী সংসদ গঠিত হয়েছে। ওই সংসদের সদস্যরা স্কুলের অদূরে অভিভাবক-অভিভাবিকাদের সময় কাটানোর জন্য তৈরি করেছেন প্যান্ডেল। বার তিনেক চা এবং পর্যাপ্ত পানীয় জলের পাশাপাশি সময় কাটানোর জন্য বিভিন্ন খবরের কাগজ, ছোটগল্পের বই এবং লিটল ম্যাগাজিনেরও ব্যবস্থা করেছে।

এমন পরিষেবায় আপ্লুত অভিভাবক, অভিভাবিকারা। তাঁদেরই অন্যতম জামনার রাধারানী মণ্ডল, বাঁশপুরের জহরলাল সাহা। তাঁরা বলছেন, ‘‘ছেলেমেয়েকে সেন্টারে পৌঁছে দিয়ে কী করে সময় কাটাব ভেবে পাচ্ছিলাম না। প্রাক্তনী সংসদের দৌলতে এখন সময়ে সময়ে চা আর পত্রপত্রিকার পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে কী করে যে সময়টা কেটে যায় বুঝতেই পারি না।’’ চিত্তরঞ্জন কর, অরূপ মণ্ডলদের তো ছেলেমেয়েদের পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে আসার কথা ভেবেই কার্যত গায়ে জ্বর এসেছিল। কীর্ণাহার পশ্চিমপট্টির বাসিন্দা চিত্তরঞ্জনবাবুর মেয়ে এ বারে পরীক্ষা দিচ্ছে। ২০১৭ সালেও ভাগ্নিকে একই সেন্টারে পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। রুইপুরের অরূপবাবুর ছেলে এ বার পরীক্ষা দিচ্ছে। গতবছর তিনিও ভাইপোকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁরা জানান, সে বার সময় কাটানোর জায়গা অভাবে নাকাল হতে হয়েছিল। এ বার হু হু করে সময় কেটে গিয়েছে।

প্রাক্তনী সংসদের কার্যকরী সভাপতি শ্রীজীব ভট্টাচার্য এবং সম্পাদক সূর্যেন্দু দাস বলেন, ‘‘অন্যবার অভিভাবক, অভিভাবিকাদের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করেছি। আমরাও এই ধরনের সমস্যায় পড়েছি। সেই সমস্যা দূর করতেই কিছু একটা করার সিদ্ধান্ত নিই।’’ প্রধান শিক্ষক নীলকমল বন্দ্যোপাধ্যায় এমন উদ্যোগের জন্য প্রাক্তনী সংসদকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

Madhyamik 2018
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy