E-Paper

আলুর দামে চাষির ক্ষতি, ভোটে লোকসান তৃণমূলের

গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজ্য সরকার ভিন্‌ রাজ্যে আলু রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছিল।

তারাশঙ্কর গুপ্ত

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৯:৩৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বাইরের রাজ্যের বাজার হারানোয় এ বার অতিরিক্ত আলু রফতানি করতে না পারায় তলানিতে নেমেছে দাম। চাষিদের সেই ক্ষোভ এ বার ইভিএমে তৃণমূলের বিরুদ্ধে গিয়েছে কি না, শুরু হয়েছে চর্চা। বাঁকুড়া জেলার আলু উৎপাদনশীল এলাকা বলে পরিচিত বিষ্ণুপুর মহকুমার বিধানসভা কেন্দ্রগুলির ফলাফল পর্যালোচনা করে তেমনই মনে করছে
রাজনৈতিক শিবির।

বিষ্ণুপুর মহকুমার অধীনে থাকা বিধানসভা কেন্দ্রগুলি গত কয়েক বছর ধরেই বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। লোকসভা কেন্দ্রও বিজেপির। কিন্তু এ বার বিধানসভা নির্বাচনে সেই সোনামুখী, বিষ্ণুপুর, কোতুলপুর ও বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের ব্যবধান গত নির্বাচনগুলির তুলনায় তিন থেকে ছ'গুণ বেড়ে গিয়েছে। এই ফলাফলের নেপথ্যে নানা কারণ থাকলেও আলু চাষিদের ক্ষোভ যে অন্যতম প্রধান কারণ, তা মানছেন তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশও।

গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজ্য সরকার ভিন্‌ রাজ্যে আলু রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছিল। তাতে রাজ্যের বাজারে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভিন্‌ রাজ্যের বাজার হারাতে হয়েছে বলে অভিযোগ আলু ব্যবসায়ীদের। এ বার আলুর আতিরিক্ত ফলন হয়েছে। কিন্তু বাইরের রাজ্য আর বাংলার আলু নিতে চায়নি। ফলে চাষিরা আলুর দাম পাচ্ছেন না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ভাবে বড় ব্যবধানে জয়ের কারণ যেমন এ বারের অবাধ ভোট। তেমনই আলু চাষিদের ও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভও মিশে রয়েছে। সোনামুখী বিধানসভার নারায়ণপুরের এক তৃণমূল নেতা স্বীকার করেন, ‘‘আলুর দাম না পাওয়া গেলে শুধু চাষি বা আলু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন, তা নয়। এলাকার অর্থনীতিতে এর বিরাট প্রভাব পড়ে। এটা আমাদের দলের বড় নেতারা বুঝতে পারেননি। শুনেছি, কোতুলপুরের কিছু আলু চাষিদের এলাকায় আমাদের নেতারা প্রচার এড়িয়ে গিয়েছিলেন।’’

ভোটের মুখে রাজ্য সরকার সহায়ক মূল্যে চাষিদের কিছু আলু হিমঘরের মাধ্যমে কেনার কথা ঘোষণা করলেও তা ঠিক মতো বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ চাষিদের বড় অংশের। কোতুলপুরের আলু চাষি জীবন পরামানিক বলেন, ‘‘এ বার আলুর দাম বস্তা পিছু ৫০-৬০ টাকায় নেমেছে। এই অবস্থায় ১৫ টাকার বস্তার দাম বেড়ে হয়েছে ৩৫ টাকা। তাহলেই বুঝুন ক্ষতি কোথায় পৌঁছে গিয়েছে। আমার বিঘা প্রতি পঁচিশ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। এর প্রভাব কি ভোটে পড়বে না?’’

প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য উপদেষ্টা কোতুলপুরের বিভাস দে বলেন, ‘‘আমাদের সংগঠন অরাজনৈতিক সংগঠন। তবুও বলব, আমাদের সংগঠনের উপরে যে অত্যাচার, জুলুমবাজি গত ১৫ বছর ধরে চলছিল, তার অবসান হল। আমাদের প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমিতিকে ভেঙে দেওয়ার জন্য কিছু ব্যবসায়ীর সাহায্য নিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সরকার সমান্তরাল সংগঠন তৈরি করেছিল। আমাদের ওই ব্যবসায়ী বন্ধুদের গদ্দারির জন্যই আজ পশ্চিমবঙ্গের আলু ব্যবসার জগৎ ধ্বংসের মুখে চলে গিয়েছে। তাঁদের আমরা ক্ষমা করব না।’’

যদিও তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান বিক্রমজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ভোটে আলুর দামের প্রভাব পড়লে গ্যাসের দাম, পেট্রল দামেরও প্রভাব বিজেপির বিরুদ্ধে যেত। আসলে সর্বত্রই তীব্র প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া কাজ করেছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

potato farmers Patrasayar

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy