Advertisement
E-Paper

নিষেধ উড়িয়ে দেদার বাজল সাউন্ড বক্স

মাস দেড়েক আগের ঘটনা। সাউন্ড বক্সে বিকট আওয়াজ করে গান বাজাতে বাজাতে রামপুরহাট ডাকবাঙলা রোড থেকে পাঁচমাথা মোড়ের দিকে চলেছিল বিশ্বকর্মা পুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রা। সেই আওয়াজ কানে যায় রামপুরহাট মহকুমাশাসক সুপ্রিয় দাসের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৬ ০২:৩৯
বোলপুরে বক্স বাজিয়ে হুল্লোর।— বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী

বোলপুরে বক্স বাজিয়ে হুল্লোর।— বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী

মাস দেড়েক আগের ঘটনা। সাউন্ড বক্সে বিকট আওয়াজ করে গান বাজাতে বাজাতে রামপুরহাট ডাকবাঙলা রোড থেকে পাঁচমাথা মোড়ের দিকে চলেছিল বিশ্বকর্মা পুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রা। সেই আওয়াজ কানে যায় রামপুরহাট মহকুমাশাসক সুপ্রিয় দাসের। সঙ্গে সঙ্গে থানায় ফোন করেন তিনি। পুলিশ এসে ওই যুবকদের সাধের সাউন্ড বক্সগুলি বাজেয়াপ্ত করে সটান থানায় নিয়ে যায়। পরের দিনই মহকুমাশাসক দুর্গাপূজা সমন্বয় কমিটি ও মহরম কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সাউন্ড বক্স ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করে দেন। রামপুরহাট থানায় ডাক পড়ে এলাকার সাউন্স বক্সের মালিকদের। সতর্ক করা হয় তাঁদেরও। কিন্তু সময়কালে দেখা যায়, সেই সমস্ত কথাই আদপে ফাঁকা আওয়াজ। সেই পাঁচমাথা মোড় দিয়েই, পুলিশ প্রাশাসনের নাকের ডগায় চলল তারস্বরে সাউন্স বক্স বাজিয়ে বিসর্জনের শোভাযাত্রা।

একই অবস্থা বোলপুরেরও। প্রশাসনিক বৈঠকে কথা দিয়েছিলেন পুজো কর্তারা। মণ্ডপে বা শোভাযাত্রায় সাউন্ড বক্স এবং শব্দবাজি ব্যবহার করা হবে না— এই মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়ে তবেই মিলেছিল পুজোর ছাড়পত্র। দশমী পার করে দ্বাদশীতেও সাউন্স বক্সের তাণ্ডব জারি রয়েছে বোলপুর শহর এবং লাগোয়া এলাকাগুলিতে।

রামপুরহাটের পাঁচমাথায় বিসর্জনের উপলক্ষে পুরসভা একটি মঞ্চ তৈরি করেছিল। সেখানে কানফাটা আওয়াজ করে সবার সামনে দিয়ে একের পর এক শোভাযাত্রা গিয়েছে। দশমী পেরিয়ে ত্রয়োদশী পর্যন্ত সেই তাণ্ডব চলেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। রামপুরহাটের এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘পেস মেকার বসানো রয়েছে। দশমীর দিন শব্দের চোটে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম।’’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুজোর আয়োজনে পরিচ্ছন্নতা, মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা, প্রতিমা প্রভৃতির জন্য সেরার শিরোপা পেয়েছে যে পুজোগুলি, তারাই বিসর্জনের শোভাযাত্রায় সমস্ত নিয়ম-নীতি শিকেয় তুলে লাগামছাড়া শব্দে গান বাজিয়ে রাস্তায় নেমেছে। অভিযোগ, পুলিশ যতটা কড়া হওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল, কার্যক্ষেত্রে তা হয়নি।

Advertisement

রামপুরহাট শহর দুর্গাপুজা কমিটির পক্ষ থেকে চন্দ্রনাথ দত্ত অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘আগের তুলনায় এই বছর অনেকটাই কম ছিল।’’ উদ্যক্তারা যাই বলুন, ব্যপারটা যে সহজে মেনে নেওয়া হবে না, সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন রামপুরহাট মহকুমাশাসক।

উৎসবের মরসুমে সাউন্ড বক্স এবং শব্দবাজির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করতে গত বছর পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বোলপুরের বাসিন্দাদের একাংশ। এ বছর বোলপুরের এসডিপিও অম্লানকুসুম ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দিয়েছে। কিছু এলাকায় সাউন্ড বক্স এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করেছেন তাঁরা। কিন্তু দশমীর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শহরের শ্রীনিকেতন রোডে, বোলপুর হাইস্কুল, বাঁধগোড়া এলাকা, শান্তিনিকেতন রোড, চিত্রা মোড়, মসজিদ রোড, চৌরাস্তা-সহ বিভিন্ন এলাকায় টেঁকা দায় হয়ে পড়ে। ঢাক-ঢোল ছিল বটে, কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছিল সাউন্ড বক্সের শব্দ।

দুর্গাপুজো পার হয়ে গেলেও আসন্ন কালী পুজোয় কড়া হাতে পুলিশ শব্দ দানবকে রুখতে পারে কি না, আপাতত সেই দিকেই তাকিয়ে দুই মহকুমার বাসিন্দারা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy