এক দিকে বিরোধীদের দলে যোগদান, আর অন্য দিকে সতীর্থদের একাংশে ‘অনৈক্য’-এর বাতাবরণ ঘিরে জেলায় ভোট-পরবর্তী পর্বে রাজনৈতিক উত্তাপ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সম্প্রতি শাসকদলের একাধিক কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্য জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসর্গ ‘এড়িয়ে’ চলছেন বলে দলেরই নানা সূত্রে দাবি। শনিবার পুরুলিয়া শহরে তৃণমূলের কার্যালয়ে জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা, বিজেপির অজিত বাউরি-সহ চার বিরোধী সদস্য তৃণমূলে যোগদান করার সময়ে জেলা পরিষদে তৃণমূলের দলনেতা হলধর মাহাতো-সহ সদস্যদের অনেকের অনুপস্থিতিতে জল্পনা বেড়েছে।
তৃণমূলের একটি সূত্রে খবর, রবিবার জেলা পরিষদের সদস্যদের একাংশ আসানসোলে গিয়ে জেলা পর্যবেক্ষক মলয় ঘটকের সঙ্গে দেখা করেন। কারা গিয়েছিলেন, তা না ভাঙলেও হলধরবাবুর কথায়, ‘‘জেলা পরিষদে যা চলছে, তা পর্যবেক্ষককে জানানো হয়েছে।’’ মলয়বাবুর যদিও প্রতিক্রিয়া, ‘‘সভাধিপতির কাজকর্মে কারও অনাস্থা রয়েছে, এমন খবর আমার কাছে নেই।’’
জেলা তৃণমূলের একটি সূত্রে দাবি, কানাঘুষোর শুরু গত ফেব্রুয়ারিতে, জেলা পরিষদের বাজেট পেশের সময়ে। ওই সভায় জেলা পরিষদের দল নেতা হলধর মাহাতো-সহ একাধিক কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্য গরহাজির থাকায় যথেষ্ট জলঘোলা হয়। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও একাধিক সদস্যের অনুপস্থিতিতে বাজেট পাশ না হওয়ায় প্রশ্ন ওঠে। যদিও হলধরবাবু জানিয়েছিলেন, কাজে ব্যস্ত থাকায় সভায় থাকতে পারেননি।
তবে জেলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, জল্পনার শুরু গত বছর পুজোর পরে, শাসকদলের বেশ কিছু সদস্যের বিজয়া সম্মিলনী ঘিরে। কাশীপুরের ওই অনুষ্ঠানে সভাধিপতি, সহ-সভাধিপতি বা দলের জেলা সভাপতিকে (যিনি নিজেও কর্মাধ্যক্ষ বটে) দেখা যায়নি। হলধরবাবুর যদিও দাবি ছিল, ‘হোয়াটস্ অ্যাপ’ গ্রুপে জেলা পরিষদের দলীয় সদস্যদের সম্মিলনীর বিষয়ে জানানো হয়েছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর পরেই দেখা যায়, নানা অছিলায় সভাধিপতির সংসর্গ এড়াচ্ছেন কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্য।
এর পরে দল নেতা-সহ দলীয় সদস্য ও কর্মাধ্যক্ষদের একাংশের অনুপস্থিতিতে জেলা পরিষদের বাজেট পাশ না হওয়ার ঘটনায় সে জল্পনা আরও মাত্রা পায়। পরে এ নিয়ে জেলা সভাপতি গুরুপদ টুডু দলীয় সদস্যদের বৈঠকে ডাকলেও গরহাজির ছিলেন অনেকে। জেলা সভাপতির যদিও বক্তব্য ছিল, ‘‘সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে মেটানো যেত। কিন্তু অনেকে তো বৈঠকেই এলেন না।’’ সভাধিপতির ‘বিরোধী’ শিবিরের এক সদস্য জানান, কোনও লাভ হত না বলেই ওই বৈঠকে যাননি।
এ দিকে, দলেরই একটি সূত্রে খবর, সভাধিপতি সদস্যদের একাংশের কথায় গুরুত্ব দেন না, ফোন তোলেন না বলে নানা অভিযোগ জানিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে বার দুয়েক চিঠি পাঠানো হলেও তার কোনও জবাব আসেনি।
সুজয়বাবু বলেন, ‘‘জেলা পরিষদে কোনও সমস্যা রয়েছে বলে জানা নেই। অনাস্থারও খবর নেই। কারও বক্তব্য থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান সম্ভব। দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সে মোতাবেক কাজ করছি।’’ জেলা সভাপতি গুরুপদ টুডু যদিও বলেন, ‘‘জেলা পরিষদের কিছু সদস্য দল-বিরোধী কিছু কাজ করছেন বলে খবর পেয়েছি। তাঁদের চিহ্নিত করে রাজ্য নেতৃত্বকে জানাব।’’