Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২২ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

আজ মিছিলে বিজেপিও

তেরঙা সাজে খালি গায়ে শীতের পথে

প্রশান্ত পাল ও শুভ্রপ্রকাশ মণ্ডল
পুরুলিয়া ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৪:০৭
বিপত্তি: মানভূম ক্রীড়া সংস্থার মাঠের কাছে হঠাৎ মিছিলের সামনে চলে আসে কিছু কুকুর। ছবি: সুজিত মাহাতো

বিপত্তি: মানভূম ক্রীড়া সংস্থার মাঠের কাছে হঠাৎ মিছিলের সামনে চলে আসে কিছু কুকুর। ছবি: সুজিত মাহাতো

নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে কলকাতা ও হাওড়া শহরেই এত দিন মিছিল করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার পুরুলিয়ার মিছিলের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে দিলেন জেলাতেও। এ দিন পুরুলিয়া শহরে পাঁচ কিলোমিটার পদযাত্রা করেন তিনি। ঘণ্টাখানেকের সেই মিছিল ছিল বর্ণময়।

এ দিন ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশনের সামনে একটি পথসভায় স্লোগান বেঁধে দিয়ে পথে নামেন মমতা। মিছিলে ছিলেন লোকনাচের শিল্পীরা। করম নাচের মহিলা শিল্পীর থেকে কাঁসর চেয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজে বাজিয়ে যাত্রা শুরু করেন। বেলা তখন পৌনে ১টা। এ দিনের মিছিলে ঝালদা, নিতুড়িয়া, বান্দোয়ানের মতো দূরের জায়গা থেকেও এসেছিলেন প্রচুর তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। সকাল ৯টার পর থেকেই ওই এলাকায় থিকথিক করছিল ভিড়।

রাঁচী রোড ও ভাটবাঁধ মিশন রোড— দু’টি রাস্তা এসে মিশেছে ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশনের সামনের মোড়ে। মিছিল শুরুর সময়ে ওই দু’টি পথে জাতীয় পতাকা, তৃণমূলের পতাকা নিয়ে, দাঁড়িয়েছিলেন প্রচুর মানুষজন। কারও হাতে ছিল নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় লেখা প্ল্যাকার্ড। কারও গায়ের কাগজের ঢাকনিতে প্রতিবাদী কথা লেখা। মিনিট কুড়ি পরে যখন মিছিলের সামনের দিক পৌঁছে গিয়েছে স্টেশন মোড়ে, তখনও শেষ-প্রান্তে মানুষ এসে যোগ দিচ্ছেন। জেলা তৃণমূল সভাপতি শান্তিরাম মাহাতোর দাবি, প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ ছিলেন মিছিলে।

Advertisement

পুরুলিয়া শহরের পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন হাঁটলেন প্রায় বছর তিনেক পরে। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি শহরে মিছিল করেছিলেন। এ বছর লোকসভা ভোটের আগে এসেছিলেন। কিন্তু সভা করেছেন শহরের বাইরে, ব্যাটারি ময়দানে। সোমবার ছিল কনকনে শীত। উত্তুরে হাওয়া যেন হাড়ে কাঁপুনি ধরায়। জাতীয় পতাকার রঙে সেজে খালি গিয়ে মিছিলে হাঁটতে দেখা গিয়েছে কাউকে। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য রাস্তার ধারে, বাড়ির জানালায় ছিলেন প্রচুর মানুষ।

লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির মিছিলে যেমন যুবসমর্থন দেখা যেত, এ দিনের মিছিলে তেমনই একটি ছবি চোখে পড়েছে জেলার রাজনীতির ওঠাপড়ার নিয়মিত পর্যবেক্ষকদের কারও কারও। প্রচুর যুবক-যুবতী এবং মহিলা পথে নেমেছিলেন বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। শান্তিরামবাবু বলেন, ‘‘জনস্রোত ছিল রাস্তায়। শুধু দলের কর্মীরা নন, এনআরসি আর সিএএ-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে প্রচুর সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে শামিল হয়েছিলেন।’’ মিছিল চলেছে বিটি সরকার রোড, জিলা স্কুল মোড়, হাটের মোড়, মানভূম ক্রীড়া সংস্থার পাশ দিয়ে। নীলকুঠিডাঙা হয়ে স্টেশনের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। যাত্রাপথের দু’ধারে প্রচুর মানুষজন দাঁড়িয়েছিলেন। পথের পাশে দড়ির ব্যারিকেড করে ছিল পুলিশ। জিলা স্কুল মোড়ের কাছে ব্যরিকেড ভেঙে এক তরুণী পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছাকাছি। পাশে থাকা শুভেন্দু অধিকারী, মলয় ঘটক, শান্তিরাম মাহাতোর মতো নেতামন্ত্রীরা হকচকিয়ে যান। তরুণীকে কিছু বলতে গেলে শুভেন্দুবাবুকে বিরত করেন মমতা। পুলিশ সরিয়ে দেয় তরুণীকে।

পথের ধারে রোদ পোহানো কিছু কুকুর এ দিন ব্যারিকেড-গলে মিছিলের সামনে চলে এসেছিল। মানভূম ক্রীড়া সংস্থার স্টেডিয়ামের কাছে তেমন সাত-আটটি কুকুর সামনে দেখে মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছিলেন মমতা। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত সেগুলিকে সরিয়ে দেন। একই ঘটনা ঘটে নীলকুঠিডাঙা এবং রথতলাতেও। স্টেশন মোড়ের কাছে একটি বাছুর মন্ত্রীদের মাঝে ঢুকে যায়। সরানো হয় সেটিকেও।

ভগত সিং মোড়ে পৌঁছে স্বাধীনতা সংগ্রামীর মূর্তির কাছে দাঁড়িয়ে প্রণাম জানান মমতা। পুরাতন পুলিশ লাইন, নীলকুঠিডাঙা এলাকায় উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনিতে কিছু মহিলা স্বাগত জানান তাঁকে। বিজেপির জেলা সাংগঠনিক সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, ‘‘কোনও মুখ্যমন্ত্রী এলে লোক তো হবেই। সব জায়গা থেকে লোক এনেছিল তৃণমূল। পাশ হওয়া আইনের বিরোধিতা করে উনি মিছিল করছেন, সেটাও মানুষ দেখলেন।’’ তিনি জানান, আজ, মঙ্গলবার হুড়ায় এনআরসি ও সিএএ-র সমর্থনে মিছিল করবে বিজেপি।

আরও পড়ুন

Advertisement