E-Paper

পদ্ম-বিধায়কদেরক’জন ফের প্রার্থী,দলেই শুরু জল্পনা

দলের অন্দরের খবর, পুরুলিয়ার ছ’জনের মধ্যে চার বিধায়ক টিকিট পাবেন কি না, জল্পনা ছড়িয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৯:১১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

দুই জেলার কত জন বিজেপি বিধায়ককে দল এ বার বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট দেবে, তা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই জল্পনা চলছিল। কেউ কেউ বাদ পড়বেন বলে চর্চা শুরু হওয়ায় টিকিট প্রত্যাশীরা ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু অধিকাংশ বিধায়ককেই পদ্ম নেতৃত্ব টিকিট দেবেন বলে ফের কানাঘুঁষো শুরু হওয়ায় ওই নেতারা মুষড়ে পড়েছেন।

গত বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলা থেকে বিজেপির আট এবং পুরুলিয়া জেলা থেকে ছ’জন বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে পরে বিষ্ণুপুর ও কোতুলপুরের দুই বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেন। বাকি বিধায়কদের মধ্যে কয়েকজনের সক্রিয়তা এবং জনসংযোগ নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন সময়ে। ফলে তাঁদের এ বার দল টিকিট দেবে কি না, তা নিয়েও সংশয় ছিল।

তবে সম্প্রতি দলের শীর্ষ স্তর থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, গত পাঁচ বছরে বিধায়কদের কাজের ভূমিকা খুব একটা খারাপ না হলে এবং শাসকদলের সঙ্গে কোনও বিধায়কের ‘মধুর’ সম্পর্ক গড়ে না উঠে থাকলে তাঁদের বদলানো হবে না।

দলের অন্দরের খবর, পুরুলিয়ার ছ’জনের মধ্যে চার বিধায়ক টিকিট পাবেন কি না, জল্পনা ছড়িয়েছিল। তাঁদের জনসংযোগে ঘাটতি, গত লোকসভা নির্বাচনে ওই সব কেন্দ্রে দলের খারাপ ফলাফলের বিচারে সেখানে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা তীব্র হয়েছে। সে কারণে ওই সব এলাকার টিকিট প্রত্যাশীরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে প্রার্থী হতে তদ্বির করতে শুরু করেছেন। তাঁদের প্রার্থী করার দাবিতে সমাজমাধ্যমে জোর সওয়াল করছেন ঘনিষ্ঠেরাও। কিন্তু বিধায়কদেরকেই ফের প্রার্থী করার সম্ভাবনা প্রবল হওয়ার খবর সামনে আসতেই তাঁদের অনেকেই মনমরা হয়ে পড়েছেন।

অন্য দিকে, ওই চার বিধায়কের ঘনিষ্ঠেরা উজ্জীবিত হয়েছেন। তাঁরা দাবি করছেন, শাসকদলের ইঙ্গিতে প্রশাসনের বাধা সত্ত্বেও বিজেপি বিধায়কেরা এলাকা উন্নয়নের তহবিলের প্রায় পুরোটা খরচ করেছেন। এটা বড় সাফল্য। তারই স্বীকৃতি হিসেবে ফের বিধায়কদের প্রার্থী করেই ওই আসনগুলিতে জয় নিশ্চিত করতে চাইছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে তাঁদের মধ্যে দুই বিধায়ককে ফের প্রার্থী করার ব্যাপারে দলীয় কর্মীদের একাংশের মধ্যেই তীব্র আপত্তি রয়েছে।

দুই বিজেপি বিধায়কের কথায়, ‘‘কে প্রার্থী হবেন, তা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ঠিক করবেন। তবে আমরা বিধানসভা ও নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় তৃণমূলের সঙ্গে সমানে লড়াই করেছি। তাই হয়তো দল আমাদের উপরে ফের ভরসা রাখতে চাইছে।’’ তবে অন্য কেউ প্রার্থী হলে তাঁকে জেতাতেও ঝাঁপাবেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যে দলের দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদার জেলা সফরে এলে যথাক্রমে বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা এবং ওন্দার বিধায়ক অমরনাথ শাখাকে ফের প্রার্থী করার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রকাশ্যে। দিলীপ এ-ও জানান, তাঁদের দল বিধায়কদের সচরাচর সরায় না। অবশ্য অমরনাথ ও নীলাদ্রি বলেন, ‘‘টিকিট দেওয়া দলের বিষয়। আমরা এলাকায় দলের সংগঠন পোক্তকরায় জোর দিচ্ছি।’’

তবে বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার এক বিধায়ক এলাকায় যান না, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না বলে অভিযোগ তুলে বার বার প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন কর্মীরা। এ বার ওই বিধায়ককে টিকিট দিলে নিচুতলার কর্মীরা সক্রিয়া হবেন কি না, সংশয় রয়েছে। দলের আর এক বিধায়কের নাম রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের মুখে বার বার শোনা গেলেও তাঁর জীবনযাত্রা নিয়ে নানা সময়ে প্রশ্ন ওঠায় নেতৃত্বকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এ বার তিনি টিকিট পাবেন কি না, চর্চা রয়েছে। সূত্রের দাবি, বিষ্ণুপুর ও কোতুলপুর কেন্দ্রে নতুন প্রার্থী দেবে বিজেপি। ওই দু’টি আসনের জন্য অনেকের নাম ভাসছে। তাঁদের মধ্যে আরএসএসের কয়েকজন কর্মীও চর্চায় আছেন। বাঁকুড়ার এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘‘আমাদের দলে প্রার্থী হওয়ার মতো যোগ্য লোকের অভাব নেই। তাই যেখানেই প্রার্থী বদলের দরকার, সেখানে করা হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

bankura purulia BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy